ুষ ছেরে খা

যায় পাধ মু

শীর্ষে

-৯ কাঁলকাতা রোড

গান্ধী

৮/১, মহাত্মা

হাউস

বক

মণ্ডল

গ্রথম প্রকাশ আশ্িবন ১৩৬৪ সন

প্রকাশক. শ্রীসনণল মণ্ডল

৭৮/১ মহাত্া গাম্ধা রোড কলকাতা-৯

প্রচ্ছদপট শ্রীগণেশ বসহ হাওড়া

বরকত মডাণ" প্রসেস কলেজ রো কলকাতা -৯

প্রচ্ছদমনদুণ

ইম্প্রেসন হাউস

৬৪ সতারাম ঘোষ স্ট্রীট কাঁলিকাতা-৯

মংদ্রুক শ্রীনেপালচন্দ্র পান সোনাল* প্রেস

২/ ৭, ভোলানাথ পল লেন কলকাতা-৬

কাচের মানুষ

চ/১০15181২ 1৮097 2, 110ড51 ১৩ 91511561000 7৯7 0101550056

£

লাভ স্টোরের বারান্দায় পা4ঠকিয়ে সাইকেলট! দাড় করাল বিল্টু,। কাউন্টারের ওধারে তার মেজদা বিটু একজন খন্দেরকে হাত নেড়ে কী যেন খুব নিবিষ্টভাবে বোঁঝাচ্ছিল আরে! ছুজন দাড়িয়ে শুনছিল মন দিয়ে | খদ্দেরদের একজন গোপাল মুখাজি-__রেলের টিকিট কালেক্টর, দ্বিতীয় জন বিষুঃ সমান্দার-_গুদামবাবু। বিটু যার সঙ্গে কথা বলছে তাকে চিনতে পারল ন1 বিপ্ট,।

মেজদ। ! এই মেজদা !

বিটু একবার তাকাল বিরক্ত না নিলিপ্ত তা বোঝা! গেল না। তবে বিটুর মুখে একটা স্থায়ী উদাসীনতা আছে কোন্‌ কথ শুনছে, কোন্‌ কথা শুনছে না তা ওর ভাবলেশহীন মুখ দেখে বোঝা যাবে না কিছুতেই বিন্ট,বলল, পেইন ! পেইন ! বউদির !

বিটু শুনল কিনা বা বুঝল কিন তা৷ বোঝ! গেল না তবে নিজের বউকে দেখাশোন৷ করার অনেক লোক বাড়িতে আছে তার বাবা, মা, দাদা- বউদি, ভাইপো, ভাইবি, ভাই বিটু খবরট। শুনল মাত্র, তারপর আবার খদ্দেরকে হাত নেড়ে বোঝাতে লাগল।

ঝিন্ট, বারান্দা! থেকে পা তুলে পেডালে চাপ দ্িল। খবরটা তার দেওয়ার কথা ছিল, দিয়েছে এখন সে ফ্রি তার নিচু হ্যাণ্ডেলের রেসিং সাই- কেলট৷ ভালো রাস্তা পেলে দারুণ চলে এরকম সাইকেল এ-শহরে ছু- তিনটির বেশী নেই। ছ' মাস আগে বাবা তাকে এট কিনে দিয়েছিল

কা,

তবু আগের সাইকেলটার কথ তার খুব মনে পড়ে না, সেট। খুব ভালো জাতের সাইকেল ছিল না অতি সাধারণ | তার চার বন্ধু সাইকেলে দক্ষিণ ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছিল উত্ভিত্্যা, অন্ধ, তাঁমিলনাভু কেরালা; কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ হয়ে তাদের ফেরার কথা ছিল ! নাগপুরের স্াছে দুপুরবেলা ছুর্ঘটনাটি ঘটে | একট লরি তার সাইকেলটাকে [পষে দিষে গেল | তার বাঁ হাতটা ভাঙল, মাথায় চোট হলো দারুণ | দিন দশেক হাসপাতালে পড়ে থেকে সে অধশেষে ফিবে এলো | বাকি রাস্তাট। তাকে আসতে হলো ট্রেনে এবং একা | 'শার তিন বন্ধু াইকেলে বানর শুক করে সাইকেলেই যাত্রা শেব করে এই সাইকেলটা সেই সাই- কেলের চেয়ে অনেক বেশী দামী এবং ভালো কিন্তু এটা ,ম পেটা নয়, সেহ ভাঙাচোরা সাইকেলট। মহারাষ্ট্রের কোন্‌ জংল! জ'য়গাদ্ধ পড়ে পে লব্ধড় হয়ে যাচ্ছে «সই কথা ভেবে আজও তার মাঝে মাঝে খুভ খুত করে দনটা | কানা পায় দেই সাইকেল তাকে অনেকটা রাস্তা পার সরে দিয়েছিল তে। !

বিণ এত নএম মানর ছেলে হওয়ার কথা নয়। সে বি"বকানন্দ ক্লাবের ফুটবল খেলোয়াড়, কলেজের অপরিহার্য ক্রিকেট খেলোর়াঘ্, *হরের সেরা পাচজন আাথণীটদের মধ্যে একজন, টেবিল টেনিসেও তার হাত দুর্দান্ত এই মফন্বলে অবশ্য স্পেমিফিকেশনের বালাই নেই কলকাতা হলে এত বনুমুখী প্রতিভা কক্কে পেত না সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়া- ল:ড | যে ক্রিকেট খেলে সে ক্রিকেটেই জান্‌ জড়িয়ে দেয়, অন্যদিকে তাকানোর ফুরসত পায় না যে ফুটবল খেলে তার দম ফুটবলের জন্তই নিংড়ে দিতে হয় কিন্তু শহর ০1 কলকাতা নয়, এখানে খেলাধুলে' কারো পেশাও হয়ে ওঠে না কখনো এখানে যে-কেউ যা-খুশী খেলে এবং কেউ খুব বেশী ওপরে ওঠে না ঝিণ্ট,র একটিই শখ আছে। গোটা পৃথিবী সাইকেলে ঘ্বুরে আসবে !

সেবক রোডের দিকে মোড় নিতেই পেছনে একটা স্কুটার তাড়া করল।

নং

বিন্ট, মুখ ফিরিয়ে দেখল, অলক আগরওয়াল। তার দিকে একবার হাত তুলে হাসল তারপর ধেয়ে এলো অল্প বয়সের এইটেই ধর্ম | স্পিড আরো স্পিড | এবং কমপিটিশন। বিণ্ট, তার রেসিং সাইকেলটাকে উড়িয়ে দিল পেছনে অলক

আগের মতো সেবক রোড এখন আর ফীকা রাস্তা নয় দোকানপাট, রিক্সায় ছয়লাপ। পদে পদে জ্যাম তারই ফাকে ফাকে বিন, গলে যেতে লাগল, ডাইনে বাঁয়ে আশ্চর্যরকম ম্যাঙ্গেলে হেলে এবং দোল খেয়ে খেদুয় অলকের ছোটো চাকার স্কুটারে অতটা ব্যালেন্স নেই পারল না।

কিছুদূর গিয়ে ফাকা রাস্তা পেয়ে যায় বিন্ট, মাঝে মাঝে ভারী সব লোড-করা লরি মার-মার করে তাকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যায়, এগিয়ে যায় দ্রুতগতি গাড়িও এগুলোর সঙ্গে ঝিণ্ট, পারবে না! জানে তবু সে সাই- কেলটায় একটা দামাল গতি তুলে দেয় সাইকেল আর ঝিপ্টু,, বিণ্ট, আর সাইকেল একাকার

পুরনো জেলখানার পাশে একটা লাশকাটা ঘর ছিল | কবে সেই ঘর ভেঙে দ্রিয়েছে মিউনিসিপ্যালিটি | কিন্তু আশ্চর্য এই কংক্রিটের যে টেবিলটায় পোস্টমর্টেম হতো সেটা! আজও দাড়িয়ে আছে চারদিকে ভেঙে-পড়া! দেয়াল, টুকরো! ইট, ফাকে ফাকে আগাছা, তারই মধ্যে চারটে পায়ে আস্ত টেবিলট৷ দাড়িয়ে | চোখ পড়লেই বুকের ভিতরটা ঝাঁৎ করে ওঠে সকলের হয়তো হয় না। পিন্ট,র হয় আসতে যেতে রোজ তার ওইদিকে চোখ পড়ে আজও পড়ল চলস্ত রিক্সা থেকে সে অপ- লক চোখে কিছুক্ষণ দেখল, যতক্ষণ দেখা যায়।

এই টেবিলটাকে অনেকবার নানাভাবে সে স্বপ্ন দেখেছে | বা দিকে কাছারি, কাছারির পাশে কাচা নর্দমা, ডানধারে জেলখানার উচু পীচিল। পাঁচিলের পাশেই ওই পুরনো লাশকাটা ঘরের ধ্বংসাবশেষ | এখানে সবাই আজকাল আবর্জন। ফেলে ছুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিতে হয়। একদিন পিন্টরও এই টেবিলে শুয়ে কাটাকুটি হওয়ার কথা ছিল কপালট কি তার একটু ফেবারে ?

রাজনীতি ছাড়া কোনে! মানুষ বাচতে পারে বা বেঁচে আছে বলে পিণ্ট বিশ্বাম করে না কোনো-নাকোনোভাবে সব মানুষই রাজনীতি করে। কেউ জেনে, কেউ না জেনে | পিণ্ট, ব্রাবর যা করেছে তা জেনেই করেছে সে রাজনীতিতে নামে কলেজে থাকতে তখন থেকেই তার খ্যাতি কুখ্যাতিও | পিণ্ট, এও বিশ্বাস করে, রাজনীতি করতে গেলে

কখনো-সখনে। গাঁজোয়ারির দরকার হয়, দরকার হয় সমাজবিরোধী মার্কামারা ছেলেদেরও নিরামিষ রাজনীতি বলে কিছু নেই, কিছু হয় না কাজেই সে রাজনীতিতে নেমেছিল আস্তিন গুটিয়েই ফলে কলেজে থাকতেই মোটামুটি তাকে লোক ভয় খেতে শুরু করে।

ফুণ্টসোলিং থেকে ফেরার পথে মধু চা-বাগানের কাছে চিরুর দল তাদের জীপে হামল] করেছিল না-হুক হামলা পিণ্ট,র মাথায় রড লেগেছিল | জলপাইগুড়ি হাসপাতালে আসবার পথে কয়েক লিটার রক্ত বেরিয়ে যায় শরীর থেকে | মরতে মরতে বেঁচে ফিরে আসে পিন্ট, | তারপর চিরুর ওপর হামলা চালায় কিছুদিন শহর খুব গরম করে রেখেছিল ছুই পক্ষ | তখন মনে হয়েছিল হয় চির না হয় পিণ্ট, শিলিগুড়ি দখল করবে কাধত তার কিছুই হয়নি | চিরু এখন সরকারি ট্যুরিস্ট লজ আর এম- এস-এ মাছ মুরগী সাপ্লাইয়ের ঠিকাদারী করছে, বেচেছে দেদার বিদেশী জিনিস। আর পিণ্ট, ? সে এখন তার বাবার জুনিয়র হয়ে ওকালতি জমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে জীবনের ধারাটাই অন্যভাবে বইতে লাগল রাজনীতি হলো! বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে থাকাঁর মতো৷ | যতক্ষণ পিঠে চেপে আছে৷ ততক্ষণ ভালো, পড়লেই বাঘে খেয়ে নেবে

পিন্ট,এখন আর তেমনভাবে রাঞ্জনীতি করে না সোজা কথায় বলতে গেলে, সে এখন কন্কে পায় না। তবে একসময়ে তার যে হাঁকডাক এবং প্রতাপ ছিল তার কিছু এখনো অবশিষ্ট আছে লোকে তাকে হ্যাটা করে না অনেকে সেলাম বাজায়

পিপ্টুর বয়স এখন ত্রিশ | নতুন করে জীবন শুরু করার পক্ষে বয়সটা এমন কিছু বেশী নয় কিন্তু আসল সমস্তা হলো, নতুন জীবনট। গড়ে উঠবে কী নিয়ে ? কিরকম ভাবে ? রাজনীতি ছাড় তার কাছে আর সব- কিছুই “ত্রন্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা”-র মতো সে জানে রাজনীতির জন্যই তার এই জীবনধারণ | কিন্তু সে এও জানে যে, রাজনীতির অচলায়তনে নতুন কোনো ধাকা দেওয়ার ক্ষমতা তার আর নেই দলে এখনে নাম

লেখানো আছে, দলের মিটিং-এ ভার ভাকও পড়ে, কিন্তু একথাও ঠিক

যে তাঁকে বিশেষ পাত্ব! দেওয়া হয় না আজকাল

বেঁচে থেকেও নিজের মৃত্যু এইভাবেই প্রত্যক্ষ করে পিন্টু

কলেজের মোড়ে পানের দোকানের সামনে যে রিক্সা দাড় করাতে হবে

তা রিক্সাওলা জানে পিণ্টদকে নামতে হয় না, দোকানদার তাকে দেখেই

পিলাপাতি কালাপাতি দিয়ে পান সেজে নেমে এসে এগিয়ে দেয় ত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে

পিণ্ট, এই শ্রদ্ধার ভাবট। খুব নক্তর করে দেখে শ্রদ্ধা কোথাও কমে

যাচ্ছে কি না, বা আর কারো প্রত্তি বেড়ে উঠছে কি না এট তার জান।

দরকার | এই যে রিক্সাগুলাকে কিছু বলতে হয় না, শুধু পিট, উঠে

বসলেই রিক্সা নিদিষ্ট গম্ভবো যেতে থাকে. পানের দৌকানে দাড় করায়

বা বাসায় নিয়ে গিরে নামিয়ে দেয় «ব ব্যাত্যর হলেই পিণ্ট,র মাথায়

রক্ত চড়ে যায়। এসব ছোটোখাটো ঘটনা হলো মিটার জনপ্রিয়তা এবং

প্রভাব প্রতিপত্তি মাপবার যন্ববিশেষ |

এল আই সি, স্টেট ব্যাংক, সেলস ট্যাক্স, ইনকাম ট্যাক্স, কোর্ট, এস

ডিও অফিস যেখানেই সে যায় কোথাও তার নিজেকে পরিচয় দিতে

হয় না পিণ্ট, নিজে গিয়ে দাডালে বা পিণ্টর নাম করে কেউ গেলে

এখনো এই টাউনে অনেক কার্ষোদ্ধার হয়ে যায় মরা হাতি এখনে।

লাখ টাকা

দৌকানের অদূরে একটা গাছতলায় কয়েকজন ছেলেছোকরা গ্যাঞ্জাম

করছিল পিন্ট,কে দেখে এগিয়ে এলো

পিন্ট,দা শুনেছেন ?

পিপ্ট, বৌটা থেকে একটু চুন চেটে নিয়ে বলে, কী ?

ফুডের চ্যাটাঞ্জি সাহেব আবার কাঙ্গ রাত থেকে ঘেরাও হয়ে আছে

ফুড কর্পোরেশনের ম্যানেজার চ্যাটাঞ্জিসাহেব প্রায়ই ঘেরাও হুন |

যুগের পক্ষে লোকট! নিদারুণ “মিসফিট' | ঘুষটুস খান না, কর্মচারী-

দের একটু ডিসিপ্লিনে রাখতে চেষ্টা করেন, তার চেয়েও বড় কথা চুরি আটকানোর চেষ্টা করেন ফলে মাসে ছু-একবাঁর তাকে ঘেরাও হতে হয় | খবরটণ তাই নতুন নয় বটে, কিন্ত পিন্টর খিচ অন্যান খববট। সে বথাসময়ে পায় নি। আজকাল টাউনে কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সচ্গ সেট] পিন্ট,র কাঁনে কেউ পৌছে দেয় না, আগে যেমন দিত | যে- কোনো ঘটনাক্ছে পিন্ট্‌র উপস্থিতি ছিল অপরিহার্য আর আজকাল? সে সময়মতো কোনে খবরই পায় না

সামনেই ফুড কর্পোরেশনের অকিস। পিন্ট, রিক্সায় বসেই 'মফিসের সামনে ভীড় দেখতে প্লে। খুব নিষ্পহুভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল সে। ভেতরে শোনো! তাগিদ অনুভব করল ন।। ফুদ্র কর্পোরেশনের ইউনিয়নে চারট ভাগ বছ ভাগটী 'ভাদের-_মর্থাৎ তার দলের কিন্তু কেউ তাঁকে ডাঁকেনি, তার পরামর্শ চায় নি!

পিল। আর কা'লাপাতি জর্দার ধার ব্রহ্গরন্্র পর্ধস্ত ৮াঠে যাচ্ছে পিক ফেলে পিণ্ট, অস্পষ্ট গলায় বলল, চল

রিক্স; চলতে থাকল

্রহ্মকুমার গাস্ুলীকে এ-শহরের সবচেয়ে বড় উকিল বলা যাবে কি না ত1 বলা মুশকিল, তবে তিনি যে সবচেয়ে বড়দের একজন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই শহরে সবচেয়ে ঝড় উকিলদের সংখ্য। খুব বেশীও নয়। মেরে কেটে চার-পাঁচজন | এবং তাদের মধ্যে সকলেই বৃদ্ধ এবং প্রবৃদ্ধ উপেন বিশ্বাসের বয়স আশি ছাড়িয়েছে তবু সক্ষম আছেন বলে কোটে প্রায় রোজই হাজিরা” দেন | বেশীরভাগ সময়েই বসে বিমোন মামল! চালায় জুনিয়ররা নিরাপদ সরকার ছিয়াত্তরে পা দিয়েছেন। আজকাল আদালতে আসতে চাঁন না। প্রায়ই ছেলের কাছে আমেরিকার হিউস্টনে চলে যান এবং কয়েকমাস করে থেকে আসেন কেন প্রায় নেন না বললেই চলে গৌর ব্যানার্জি কিছুটা আযাকটিভ | বয়স তিয়াত্বর ্রহ্মকুমারের একমাত্র সত্যিকারের প্রতিদন্থী। প্রছ্যাৎ মেন তেমন বৃদ্ধ নন, মাত্র পঞ্চানন বা ছাপান্ন। উকিলও ভালে। | কিন্তু শোকতাপ পেয়ে ইদানীং বডড নিঃঝুম হয়ে গেছেন, কোনো কাজেই উৎসাহ নেই :

আর যে সব উকিল আছে তারা উঠতি, ছলবলে খলখলে এখনো কারোই ভালে পসার জমে নি বুড়ো আর যুবোদের মধ্যে পেশাগত এই প্রজন্মের ফাকটুকুতে যে ভ্যাকুয়াম আছে সেখানেই ব্রহ্মকুমারের স্থান। তিনি যথেষ্টই রোজগার করেন, উদয়াস্ত তার সময় নেই। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি তার মেশিন চালু থাকে তার তেমন কোনো শখ নেই, আহলাদ বা প্রমোদ নেই, তিনি কোথাও ভ্রমণে যান নাঃ ঢা ছাড়

প্র

তার কোনে নেশ। নেই তার একটাই নেশী--মামল। | কত টাক। তিনি মাসে রোজগার করেন তার সঠিক হিসেব তাঁর নিজেরও জানা নেই। তবে কম করেও দশ থেকে পনেরো হাজারের মধ্যে টাকাগুলে। কোথায় যাচ্ছে, জমা হচ্ছে না খরচ হয়ে যাচ্ছে তা তার স্ত্রী বলতে পারবেন তিনি কিছুই জানেন না সংসার কীভাবে চলে স্ত্রীই সব কিছু চালিয়ে নেন, ংসারকে এবং তাকেও তিনি আঙ্গকাল সুখাছ্ের স্বাদ টের পাঁন না, স্ন্দরী কুৎসিত নারীর তফাৎ বুঝতে পারেন না, মাত্র উনষাট বছর বয়সেই তার কামবোঁধ লুপ্তপ্রায় সকাল বেঙ্গায় ব্রহ্মকুমার তাঁর বাইরের ঘরে বসেই তার চতুর্থ পুত্র পিন্টকে গালাগাল করছিলেন, অপদার্থ, কাগুজ্ঞানহীন, ফাজিল, ভূত তার কারণ জলপাইগুড়িতে পরশু দিন একট মামলার হিয়ারিং ছিল। কথা ছিল পিন্ট, €কসটা আযাটেগ্ড করবে কিন্তু সে তা করে নি এবং সে কথা বাপকে জানায়নি পর্ষস্ত | মকেলদের দিকে চেয়ে ব্রহ্মকুমার বলছিলেন, এই এবাই সব আধুনিক কালের ছেলেমেয়ে এদের হাতে দেশ আর দশের ভার দিয়ে যেতে হবে আমাদের বিশ পচিশ পঞ্চাশ বছর পর ছুনিয়াটার কী হাল হবে ভাবতে পারেন? জলপাইগুড়ির মককেল করুণভাবে তাকিয়ে দীড়িয়েছিল একধারে ফাঁক পেয়ে বলল, সামনের পনেরো তারিখে ডেট পড়েছে এবারটায় আপনি নিজে যাবেন তো৷ উকিলবাবু? যেতেই হবে তুমি তেরো চৌদ্দ তারিখে একবার তাগিদ দিয়ে যেও আর মুহুরির কাছে আমার এনগেজমেপ্ট বুক আছে, তাতে শুনানির তারিখ আর নামধাম লিখে রেখে যাও। কোনোরকমে যাতে ভূল না হয়। মামলার ব্যাপারে ব্রহ্মকুমারের ভূল হয় কদাচিৎ, তিনি তো এই প্রজন্মের দায়দায়িত্বহীন বাপের হোটেলের অন্নধ্বংসকারী ছেলেছোকর। নন | যখন বিয়ে করেছিলেন তখনো ল'য়ের ছাত্র, রোজগারের নামে ঢুঢু, তবু বাপের

হুকুমে টোপর « রতে হয়েছিল বাপের হুকুম কী জিনিন তা এরা সব বুঝবে না, তখন বাপই ছিল আইন, বাঁপই সুপ্রিম কোর্ট, প্রিভি কাউন্সিল। খেঁদী পেঁচী কাছে গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিগ বস তা৷ বুঝতে পারছেন না বলে ভয়ে শুভ দৃষ্টির সময় চোখ পধন্ত খোলেন নি! আর এই পিন্ট।কে বিয়ে করার কথ" বলে বলে মুখে ফেকে। ঈঠে গেল, কথাটা শুনতে পায় বলেই মনে হয় না অথচ ছেলেট'র বিয়ে দরকার | রাজনীতি করতে গিয়ে দাগা খেয়েছে, আইনেও মন নেই এই অবস্থায় বিয়ের বাড়া ওষুধ নেই কিন্তু ওষ্ধ না গিললে কী করবেন তিনি?

বাচ্চা চাকরট। এসে খবর দিল, মা একটু ডাকছেন বাবু।

্রন্মকুঘার আতকে উঠে বলেন, এখন ডাকছে সী রে? কত মাকল রংযুছে দেখছিস না

আচ খুব দরকার |

পরে হবে, পরবে, এখন যা।

চাকরট'ে ব্রহ্মকুম'র স্টেশন থেকে কুড়িছে এনেছিলেন উত্তর বঙ্গের বছ?ওয়ারি বন্থায় বচ্ছর চারেক আগে গোটা পরগনা! ভেসে গিয়েছিল শিলিগুডি উচু ভিছের শহর, কখনো ডোবে না, রাজ্যের লোক এসে পঙ্গপালের মতো ঝাঁপ ফেলল শহরে | স্টেশন, গুমটি, চালা, স্কুল কালেজ সব জায়গায় লোস্ট | সই সময় পুরোনো বাজার থেকে মাসকাবারী বাঙ্তার করে ফের'ব পথে স্টেশনে এস এম চক্রবর্তীর সঙ্গে দেশকাল পরিস্থিতি নিয়ে দুটে। কথা বলছিলেন দাড়িয়ে বাচ্চা একট! সাত আট বছরের গোপাল-গোপাল চেহারার ছেলে কাছেই চড়িয়ে তারস্বরে টেচায় কাদছিল। ছেলেটার দিকে বিরক্ত চোখে মাঝে মাঝে তাকাচ্ছিলেন ব্হ্মকুমার এমন সময় পাশেই একটা দঙ্গল থেকে একটা আদছুড় গা লোক বিগলিত মুখে এগিয়ে এলো গায়ে-পড়' অসন্য রকমের আলাপী কিছু লোক আছে ছুনিয়ায় এদের আম্পন্দার শেষ নেই। হুট বলে যখন-তখন শ্রেণীভেদ ভূলে যার তার সঙ্গে মনের কথ! বলতে লেগে যায়।

১০

লোকটাও তেমন | চক্রবর্ণা আর ত্বার কথা হচ্ছে, মাঝখানে উদয় হয়ে লোকটা বলল, এই যে ছেলেটা দেখছেন না বাবু এব বাঁপ নেই মা একটা পাগলী | তা ছিল মায়ে পোয়ে একরকম, কিন্তু আজ সন্তাল থেকে মা-টারও তল্লাম নেই কোথায় চলে গেছে পাগল মানুষ | ছেলটা কেঁদে কেটে সারা হচ্ছে তা বাবু নেবেন নাকি ছেলেটাঁকে ? ঘরে ছোরে থালবে, ক্গাজকম্ম করবে, মানুষ হয়ে যাবে একরকম |

ব্রহ্ষকূমারের রেগে যাওয়া উচিত ছিল, কিস্ত একটু সংসারী- বৃদ্ধি তখন খেলল মাথায় তার স্ত্রীর একটু বাত্রে লক্ষণ আছে হাটু মার পায়ে কোনে বচ্চা ভেলে উঠে নাড়িয়ে দিলে আরাম পান কি- সেরকম বাচ্চা তাঁর বাড়িতে কেউ নেই | এটাকে নিলে সেই কাজ হয় লোকটাকে ব্রক্মকুমার জিজ্ঞেস করলেন, জাঙ্গে কী রে?

আজে, বারুজীবী | ভালোই, জলচল

গাঁজিয়াঁল কেউ নেই ?

আমি গ্রাম সম্পর্কে কাকা আর কেউ নেই

ব্রত্ধাকুমার লোকটার নামধাম ট্রকে নিলেন | তারপর ছেলেটাকে নিয়ে এলেন বাসায় প্রথম প্রথম তিন চারদিন খুব কাদত | খেতে চাইত না, খেলতে চাঁইত নাঁ। পরে আস্তে আস্তে এমন বশ মানল যে আর বলার নয়। ভেলু না ফেকু কী একটা নাম যেন ছিল আগে বাড়িতে আসার পত্র নাম দেওয়া হয়োছে জনার্দন | ছেলেট। একটু খেতে ভালবাসে কোমরের কষি খুলে খায় | ভোজনে জনার্দন স্মরণ করে ওই নামটা বোধহয় পিন্ট,ই দিয়েছিল সেই থেকে জনার্দন |

মায়া মোহের কথা শাস্ত্রে যা বলা আছে তা যে অতিশয় খাঁটি তা উকিলবাবু বেশ টের পান। এই জনার্দনকে দিয়েই টের পান কুড়িয়ে পাওয়া এই ছেলেটার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নেই, কিছু নেই তবু একটা ভারি মায়ার টান এসে গেছে এখন যদি জনার্দনের মা এসে ছেলেকে দাবী করে বমে তবে ছাড়তে ভীষণ কষ্ট হবে।

ব্রহ্মকুমার জনার্দনের দিকে চেয়ে বললেন, তোর মার এমন কি জরুরী দরকার বল তো যে মক্কেল ছেড়ে যেতে হবে?

জনার্দন মাথা নেড়ে বলল, সে জানি না

এক মকেল আগ বাঁড়িয়ে বলে উঠল, শুনেই আসুন না উকিলবাবু, আমর বসছি।

বসুন তাহলে বলে ব্রহ্মকুমার উঠলেন, বেল৷ প্রায় পৌনে দশটা হলো কোর্টে একটু বেল করেই যান। তবু তারও বেশী সময় নেই।

$

সুমনা জানেন, স্বামীটিকে ডেকে তেমন কোনো লাভ নেই কারণ খুব ছদে টকিল হওয়া সন্বেও ব্রহ্মকুমারের বাস্তব বুদ্ধি অতিশয় সীমাবদ্ধ বিপদের সময় ব্রহ্মকুমারের একমাত্র ভূমিকা হলো চেচামেচি করে অন্যাদের ডাকাডাকি করা এবং অবাস্তব সব পরামর্শ দেওয়া |

বিপদ বলতে অবশ্য তেমন কিছু নয় তার মেজো বউমার ব্যথা উঠেছে সুমনা নিজে বহুবার ম! হয়েছেন কাজেই অভিজ্ঞতার অভাব তার নেই। অবস্থায় কী করতে হয় নাহয় সবই তার নখদর্পণে | তাছাড়া কে মিত্রের নাসিং হোম-এ নাম লেখানো আছে

কিন্তু মুস্কিল হলে। তার মেজো! বউম। সোমার হার্ট ভালো নয় কলকাতার বড় ডাক্তারও দেখে বলেছে, বেশী ধকল সইতে পারবে না। সন্তান প্রসব না করলেই ভালো

ডাক্তারদের কথ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললে জীবন অচল সুতরাং কদাচিৎ নান! হয়।

কিন্তু সুমন ভাবছেন, এক্ষেত্রে মানাই বোধহয় ভালো ছিল। ব্যথা ওঠার পর থেকেই সোমার প্রচণ্ড শ্বাস কষ্ট হচ্ছে বুকে ভীষণ ধড়ফড়ানি এবং ক্ষীণ একটু ব্যথাও | ছেলেরা! কেউ বাড়ি নেই ভরসা জনার্দন আর ব্রন্মকুমার | শুধু নাসিং হোম-এ নিয়ে ফেলে রেখে আসলেই চলবে না, ব্যাপারটা বুঝেও আসতে হবে। বড় বউমা মগ্তরী কাছে থাকলেও খানিকট। ভরসা পেতেন সুমনা সে গেছে লাটাগুড়ি চা-বাগানে বাপের

১৩

বাড়ি, তার মায়ের এখন-তখন অবস্থা বলে আজ সকালেই ভাই এসে নিয়ে গেল ছুই ছেলে আর এক মেয়েকে রেখে গেছে এখন তারাও সবাই স্কুলে

চিনচিনে ব্যথাট1 উঠা*ই সোমাকে খানিকক্ষণ হ্াটাহাটি কণ্রয়েছেন তিনি সময়ে হাটাহাটি করলে প্রমব সহজ হয় কিন্তু ভেতরের বারান্দায় কয়েকবার এপাশ ওপাশ করেই সোমা বুক চেপে এসে বিছানায় গঠিহে পড়েছে ' ঝিনুদকে পাঠিয়েছেন বিটকে খবর দিতে | কিন্ত সেও এসে পৌক্োয় শি এখনে! | সুমনা পরিস্থিতিটা ভালে বুঝছেন না| ব্হ্মকৃমার ব্যস্তবাগীশ লোক : চোখ কপালে ্লেই বাইরের ঘর থেকে ধেয়ে 'এসে বললেন, কী হয়েছে কী ? তাড়াতাড়ি বলো, শাম।র সময় নেই |

শোনো, টেঁচামেচি কোরো ন। 1 বউমার ব্যথা উঠেছে

ব্যথ। !

গ্রুসবের ব্যথ।। বাড়িতে ছেলেরা কেউ নেই তু“ম একটা গাড়ির ব্যবস্থা কারো এক্ষুণি

কথাটা শুনেই ব্রঞ্গকুমার টেচাঙচে লাগলেন, কোথায় থাকে সব শবাব- নন্দ'নরা ? কোথায় যায় ? এটা কি হোটেলখান! নাকি ? এখন হাট ফেল-টেল করলে কে দায়ী হবে?

শ্রমনা স্বামীর দিনে চেয়ে থেকে তাকে ভনম্ম করে দেওয়ার একটা অক্ষম চেষ্টা করে বললেন, ষাঁড়ের মন্চে। চেচালে বউমার আরে! শরীর খারাপ হবে, খেয়াল আছে?

ব্রক্ষকুমারও স্ত্রীর দিকে কটমট কারে চেয়ে বললেন, তোমরা আমাকে পেয়েছাট! কী বলতে পারো ? এক ঘর মকেল ছেড়ে এখন আমি ছুটব গাঁডি আনতে ?

তাতে দে।ষটা কী হলো! ? মকেলর! কেউ পালাবে না সার! জীবন কেবল মকেল মক্কেল করে গলা শুকোলেই তো হবে না সংসারে আরে পাঁচ

১৪

জনের প্রতি কর্তব্য আছে ব্রদ্ধকুমার আদালতে সওয়াল জবাব মারফৎ রোজই বিস্তর ঝগড়া কাজিয়া করে থাকেন বস্তুতপক্ষে মামলা! মানেই তো ছু পক্ষের ঝগড়া সেই ঝগড়ায় তিনি বেশীর ভাগ ক্ষোত্রেই জেতেনও কিন্তু মুস্কিল হলে! সংসারের ঝগড়ায় ঠিনি কিছুতেই এটে ওঠেন না। “সইজন্য পারতপক্ষে স্থবমনার সঙ্গে ঠিনি বিতর্ক এডিয়ে চলেন | কিন্তু ঝগড়া না করলেও ঠোষকধায়ত লোচ[ন ম্ত্রীকে বিদ্ধ করতে ছাড়েন না ত্রহ্মকুমার | বলেন, কর্তব্য কেবল এক আমারই ? বাঃ, বেশ গ্রমন। ব্রদাকুমারের পোবদৃষ্টিকে একটু গ্রাহ্া না করে বললেন, সংসারের এয দাঁঞখ আমি ঘাড়ে না নিলে বাইরের ঘরে বসে ঠ্যাং নাচানে। বেরিয়ে ০1৩ 7 কিন্ত এখন এত কথ'র সময় নেই, ঘরে সিরিয়াস রগী | দয়া করে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করো ব্রন্মকুমার বিরঞ্রির গলায় বলেন, গৌর কণ্টাকটপকে তো বলাই আছে তার গাড়িটা দরকার হতে পারে | কাউক দিয়ে তকে একটু খবর পাঠালেই তো হয়। সুমনা মুখটা ফিরিয়ে নিলেন একটু রাডাও হলেন 1ক ? গলাটা এক পর্দা নেমে গেল বললেন, গৌর €তামার পেয়ারের লোক, ভুমি খবর পাঠ গে | কিন্ত সে থাকে সেই এক নম্বর ভাব গ্রামে, মাইল তিনেক দূর! অতদূর গিয়ে গাড়ি আনতে আনতে ভালো মন্দ একটা কিছু না হরে যায় তাহলে? তাহলে কী সেটা জানার জন্তই তো তোমাকে ডেকে পাঠালান। একটু শ্রিয়ে দেখ কাছাকাছি কারে গাড়ি পাঁও কিনা রিক্সায় নিয়ে যেতে আমার সাহস হয় না তোমার মকেেলদের কারে। গাড়ি-টাঁড়ি নেই? ব্রহ্ধকুমার হঠাং উদ্ভাসিত হন | তাই তো জলপাইগুড়ির মকেলটি যতদূর মনে হয় গাড়ি করেই এসেছে | লোকট1 এখনে! চলে যায় নি

৯৫

বোধহয়।

দেখছি। বলে ব্যস্তসমস্ত ্রহ্ষকুমার বেরিয়ে গেলেন। জলপাইগুড়ির মকেল বারান্দায় মুহুরির কাছে ফাড়িয়ে আছে | বোধহয় এনগেজমেণ্ট বুক-এ মামলার তারিখ লেখাচ্ছে। সেরকমই কথা

লৌকটার নাম মনে পড়ল না ব্রহ্মকুমার বললেন, ওহে

লোকটা ফিরে তাকাল, আমাকে বলছেন ?

ইয়ে, আপনার গাড়ি আছে?

আজ হ্যা ওই তো।

্রহ্ষকুমার দেখলেন, নতুন ঝকমকে আযামব্যাসাডার |

ইয়ে, আমার পুত্রবধূকে একটু নাঙ্গিং হোম-এ নিয়ে যেতে হবে। সিরিয়াস অবস্থা |

মকেল ব্যস্ত হয়ে বলল, হ্যা, হ্যা, পৌছে দিচ্ছি। আর বেশী কী কথা? আড়াল থেকে স্থুমনা দৃশ্যটা দেখে নিয়ে তাড়াতাড়ি শাড়ি পাল্টাতে গেলেন সোমার ঘরে উকি মেরে দেখলেন, বউটা নিঃঝুম হয়ে পড়ে আছে।

বউম। |

উ?

চলো একটু তৈরি হয়ে নাও | গাড়ি যোগাড় হয়েছে।

একটু কাতর শব্দ করে উঠল সোমা

কেমন লাগছে বউমা ?

বুকের ভেতরটায় ভীষণ ভার।

শাড়ি কি আমি পরিয়ে দেবো?

না। পারব

তাহলে আর দেরি ক্কৌরো না আমিও তৈরি হয়ে নিচ্ছি।

্রহ্মকুমার আবার গিয়ে বাইরের ঘরে বসেছেন | সুমন! একখান পাট- ভাড়া শাড়ি পরতে পরতে স্বামীর কথা ভাবছিলেন। যা রোজগার তাতে

১৬

একটা! গাড়ি কেন! কিছু শক্ত নয় ব্রহ্মাকুমারের পক্ষে | বাড়িতে একটা টেলিফোন বড্ড দরকার কিন্তু এসব প্রয়োজনের কথ! ব্রহ্মকুমার কানে তোলেন না কথ! উঠলেই বলেন, ওসব স্টাটাস সিমবল-এ আমার দরকার নেই

টাকা-পয়সা অবিশ্যি সবই সুমনার হেফাজতে | কিনলে তিনিই কিনতে পারেন কিন্তু নিজেকে ততটা স্বাধীন বলে আজও ভাবতে শেখেন নি স্থমন] ব্রহ্মকুমারের মতো না হলে সেটা সম্ভব নয় শুধু গত বছর অনেক বলে কয়ে মত আদায় করে একটা ফ্রিজ কেনা সম্ভব হয়েছে মাত্র | আর গ্যাসের উন্থুন। সংসার এখনও ব্রন্মকুমারের আয়েই চলে বড় ছুই ছেলে রোজগার করে বটে কিন্তু এখনো তেমন উল্লেখযোগ্য রকমের টাকা সংসারে দেয় না ন। দিলে সুমনা কীই বা করতে পারেন ?

শাড়ি পর! হয়ে গেল। সোমার ঘরের দরজায় দাড়িয়ে বললেন; বউমা হলো? হয়ে এল মা ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছি |

ঠাকুর প্রণাম করে যাও এসে | মকেলের গাড়ি, বেশীক্ষণ দাড় করিয়ে রাখা চলবে না।

জনার্দনকে ডেকে বললেন, রান্না অর্ধেক করে রেখে যাচ্ছি আজ বাবুর খাওয়ার খুব কষ্ট হবে মাছ ভাজা আর ডাল দিয়ে ভাত দিস | গাছ পেকে একটা গন্ধ লেবু এনে কেটে দিস | দেখিস, সর্দারী করে আবার গ্যাস জ্বালাতে যাবি না খব্দার | আর একবার নিলিগুা'র বন্ধ করতে ভূলে গিয়েছিলি মনে আছে তো !

তুমি এবেলা ফিরবে না মা?

ফিরব বৈকি পৌছে দিয়েই ফিরব সব একটু দেখেশুনে রাখিস বাবা। আর বিটু ফিরলে বলিস তখনই যেন নাসিং হোম-এ চলে যায় |

নতুন গাড়িটার অভ্যন্তরে যখন উঠে বসলেন সুমন! তখন তাঁর একটু হিংসে হলো এরকম একখানা গাঁড় ব্রহ্মকুমার অনায়াসেই কিনতে পারেন কিন্ত লোকটার ঝড় জেদ, ঝড় গে | যেন গাড়ি কিনলেই

১৭ কা-২

ট্রাডিশন ভাঙা হবে, বড়লোকী দেখানো হবে আর ছেলেদের অধুপাতে যাওয়ার রাস্তা করে দেওয়া হবে

বিটুকে দোকান থেকে তুলে নেবেন কিনা একবার ভাবলেন সুমন! কিন্তু ভেবে মনে হলো, কাজটা যুক্তিযুক্ত হবে না বৌয়ের প্রতি বিটুর বিশেষ দায়িত্ববোধ আছে বলে সুমনার মনে হয় না তাছাড়৷ ওর সঙ্গে গিয়ে কীই বা করবে ? সোমার সঙ্গে বিটুরা বয়ে দেওয়াট৷ হয়তো ভূলই হয়েছে কিন্তু তখন তাড়াহুড়োয় আর পাত্রী খুঁজেও পাওয়া গেল না। দিয়ে না দিয়েও উপায় ছিল না বেশীর ভাঁগ পরিবারেই একটু আধটু কেলেংকারী থাকে | বড় বউমা মঞ্জুরী আর মেজো ছেলে বিটু এই সাদামাটা পরিবারে সেই দাগটাই দেগে দিতে গিয়েছিল প্রায় মণ্টুর সঙ্গে মঞ্জরীর সবে বিয়ে হয়েছে তখন | বছর না ঘুরতেই দেওর আর বউদ্দির সম্পর্কট। বড্ড বেশী ঘে'ষাঘে ষি হয়ে পড়েছিল মণ্ট চাকরি করত মালদায় স্টেট ব্যাংকে আসা-যাওয়া ছিল। তবে টানা থাকত না। বউ নিয়ে যাওয়ারও খুব আগ্রহ ছিল না। মণ্ট, একটু অন্ঠরকম | সাধু- সাধুভাব। অবসর পেলেই ধর্মের বই পড়ে সাধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় মঠে মন্দিরে যায় এক] একা গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারবদ্রী, কাশী গয়া ঘুরে বেড়ায় | ওই ছেলের বউ যদি এদিক ওদিক করে তবে আর সুমন! দোষ দেবেন কাকে আর বিটু তখন দূর্দান্ত পুরুষ ব্যাডমিণ্টনে জেলার চ্যামপিয়ন। বেঙ্গল চ্যামপিয়ানশিপে খেলে রানারস আপ হয়ে এসেছে তাছাড়া চোখা” চালাক, ছলবলে যুবক পিনেমায় নামবার জন্যও তোড়জোড় করেছিল ছেলের সঙ্গে যে কোনো যুবতীর ঢলাঢলি খুব স্বাভাবিক দোষের মধ্যে বিটুটার লেখাপড়া তেমন এগোয় নি | বি. এস-সিটা কিছুতেই পাশ করতে পারল নাঁ। তাতেও বাধেনি | একদিন মঞ্জরীর কোলে মাথা রেখে বুঝি শুয়ে ছিল সন্ধেবেলায় | অন্ধকার ঘরে ফৌপানির শব্ধ পেয়ে জানালার ফোকর দিয়ে দৃশ্ঠটা দেখে ফেলে যৃথী। যুখী এসে মাকে টেনে নিয়ে গিয়ে দৃশ্যটা দেখায়। অন্ধকার বলে তেমন

১৮

কিছু দেখতে পান নি স্থমনা তবে কিছু গাঢ় কথাবার্তা শুনতে পেয়ে- ছুলেন।

'বটুর একটা অসাধারণ গুণ আছে। মাতৃভক্তি পার্তপক্ষে কখনো! সে দুমনার অবাধ্য হয় নি কখনও খুব শিশুবেল থেকেই সে মায়ের স্যাওটা। মুমনা বিপদ দেখে ছেলের সেই তুবলত৷ কাজে লাগালেন। বিয়ের প্রস্তাবে থে ক্রুদ্ধ ক্ষুব্ধ হয়েছিল বিটু | রাগারাগিও করেছিল কিন্তু স্থমন। বাওয়া খাওয়া ছেড়ে শধ্য। নেওয়ায় আর বেশী প্রতিরোধ করতে পারে নি। হয়তো সে বুঝেছিল যে, বউদ্দির সঙ্গে তার সম্পর্কের ব্যাপারটা বাড়ির

লোকে জানে মত দিতেই পাত্রী খোজা হয়েছিল ঝড়ের বেগে | সোমা

চা-বাগানের মেয়ে | মা-বাবা নেই, মামার কাছে অনাদরে মানুষ | বড মায়! হয়েছিল মেয়েটাকে দেখে

মায়া এখনো একটু আছে বিটুটা বড় অনাদর করে ওকে কিন্তু যে

উদ্দেশ্তে বিয়ে, তা সফল হয়েছে সন্দেহ নেই মঞ্জরী আর বিটু একই

বাড়িতে আজও বাস করে কিন্তু জনেই পরস্পরের প্রতি একেবারেই

উদাসীন | বিটুর ব্যাডমিন্টন গেছে, ছুরস্তপনা গেছে, স্মার্টনেস গেছে।

বিয়ের পর থেকেই কেমন যেন আনমনা, কেমন যেন ছন্নছাড়া! ভাব ওর।

সেই বিটুকে আর চেনা যায় না ব্রহ্মকুমার একটা দোকান করে দিয়ে-

ছেন বিটু এখন সেই দোকান নিয়েই পড়ে থাকে

সোমা খুব ক্ষীণ স্বরে কৌকাচ্ছিল। সুমনা ঝুকে জিজ্ঞেস করলেন, খুব

কষ্ট হচ্ছে?

বুকট। কেমন করছে মা।

ব্যথাটা ?

তেমন নয় শুধু চিন চিন করছে।

্রহ্মকুমারের মকেল সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে বসা মুখ ঘুরিয়ে

তাদের দিকে একবার চেয়ে বলল, মিত্র সাহেবের নাসিং হোম তো !

এসে গেছি। স্থমনা বউমাকে নিয়ে নামলেন

১৪১

স্টকে অনেক জিনিস নেই আনতে হবে | ছুটে? বেৰি ফুড. একটা সিরিয়াল, ছু রকম হোল মিক্ক, ছু ধরনের ক্রিম, একটা বিশেষ ব্র্যাপ্ডের বিস্কুট, একটা বিশেষ কোম্পানীর মাখন, তিন পপুলার ব্র্যাণ্ডের ব্রেড, আরও অনেক রকম জিনিস চালু জিনিস টপ করে বিক্রি হয়ে যায়। কিন্ক আনাতে গেলেই দেখা যায়, প্রতি পিস জিনিসের ওপর কিছু দাঁম চড়িয়ে বসে আছে পাইকার, আজকাল জিনিসের দাম- বাড়ে মানে, মাসে, সপ্তাহে সপ্তাহে ম্যানুফ্যাকচারার বা পাইকারকে প'বলিক ফেস. করতে হয় না খুচরো খদ্দেরদের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হয় রোজ এই তার মতো খুচরো! দোকানদারদের

এই তো গত সপ্তাহে তিনটাকা ডজন দরে ব্রেড নিলাম এর মধ্যেই সাড়ে তিন।

কোমপানি দাম বাড়ালে আমরা কী করব বলুন।

কহ সম্পদ স্টোরে তো বাড়েনি এই তে! কালই কলেজের নয়নবাবু তিন টাক! দরে কিনে নয়ে গেলেন

কিংবা ".

মশাই কি ব্যাক করছেন নাকি?

কেন বলুন তো !

বেৰি ফুডটার তো টিনের গায়ে লেখা আছে রিটেল প্রাইস নট টু একদিড--

লেখা তো৷ থাকেই আমরাও জানি। কিন্তু হোলসেলার যদি বেশী নেয়__ না মশাই, এটা একট! কথার কথাই নয়। সোজা ব্যাক

সারাদিনই বিটু এবং বিটুর মতো দোকানদারকে মুখ বাজিয়ে যেতে হয়। কতগুলো স্টক কথা আছে সেগুলোয় কাজ না হলে মিনমিন করতে হয় পুরোনো স্টক যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ একরকম | নতুন স্টক আনলেই হাঙ্গামা লোঁকে বোঝে না একট চালু দোকানের দৌঁকান- দার অনর্থক বেশী দাম চেয়ে নাম খারাপ করতে চায় না। তাই বিটুকে ফের মুখের তৃবড়ি ছে।টাতে হয়

বিটু কি ক্লান্তি বোধ করে? হতাশ ? বিরক্তি ?

না। বিটু জানে সে আর কোনোদিনই ভারতের এক নম্বর ব্যাটমিণ্টন খেলোয়াড় হতে পারবে না বিটু জানে সে আর কখনে। হতে পারবে না কোনো দিনেমার নায়ক | বিটু জানে পৃথিবীর ভালবাস! বলে আর কিছু নেই আছে শুধু অন্তহীন কেনা বেচা আছে লাভ লোকসান নামক কিছু উত্তেজনা |

প্রবীর

বলুন বিটুদা।

বিটঠলভাইয়ের আড়তে গিয়ে মালগুলো৷ একটু নিয়ে আয়। লিস্ট করে রেখেছি।

যাচ্ছি।

স্টক মিলিয়ে দেখেছিম তো ! আর কিছু লাগবে ?

সপ্তাহটা চলে যাবে গ্রিসারিন সাবানটা! কম আছে মুডলসের প্যাকেট আর নেলপালিশটাও

লিস্টে ওগুলোও লিখে নে পরের সপ্তাহে দাম বাড়তে পারে স্টক রাখা ভালো আর সম্পদ স্টোর্সে ব্লেডের দামটা জেনে আসিস তো। তিন টাকা! ডজন দিচ্ছে কী করে পৌনে তিন টাকায় কিনে?

ঠিক আছে। বলে প্রবীর নামক উনিশ কুড়ি বছরের দীন এবং বিনয়ী

২৯

চেহারার ছেলেটি খুব নরম স্বরে বলে, একবার বাড়ি যাবেন না দাদা ?

বাড়ি! কেন?

ঝিণ্ট, কী বলে গেল শোনেননি ?

বিপু, ! ওঃ !

একবার যাবেন ন। ?

এখন না। যাক'খন তুই মালগুলো নিযে আয়।

দশট1 বেজে গেছে অফিস-কাছারি, স্কুল কলেজ বসে গেছে এই সময়টায় খদ্দের কিছু কম। গিন্সীবান্নী গোছের কয়েকজন খদ্দের আসতে পারে | তাদের মুখময়-ই সামলাতে পারবে | দোকানটা আগের চেয়ে একটু বড় হওয়াতে এখন ছুজন সেলসম্যান রাখতে হয়েছে বিটুকে | সুখময় নতুন বয়স কম, একটু অন্যমনস্ক মাঝে মাঝে দীম বলতে ভূল করে ওজন করার হাতও পাকা নয় তাছাড়া বড্ড কামাই করে ওর ভরসা বড় একট কর! উচিত নয় | তবে সময়টায় সুখময়ুই সামলাতে পারবে

বিটু সকালে দোকানে আসে বলে বাড়িতে খবরের কাঁগজ পড়ার সময় পায় না। তাই দোকানে সে একখান! করে কাগজ রাঁখে। শিলিগুড়িতে কলকাতার খবরের কাগজ আসে বিকেলের দিকে প্রেনে। কাঁজেই বিটুকে স্থানীয় দৈনিকটি রাখতে হয়। চার পৃষ্ঠার কাগজ তবে সব রকম খবরই থাকে একটু সংক্ষিপ্ত আকারে

প্রথম পৃষ্ঠায় বিটুর পড়ার কিছু নেই রাজনীতি, বক্তৃতা আর দুর্ঘটনার খবর সে খোলে খেলার পৃষ্ঠা ইন্দোনেশিয়ার স্তাশনাল চ্যাম্পিয়নশীপে প্রকাশ পাড়কোন সেমি ফাইন্তালে হেরে গেল।

এখন তাঁর নিজেরই বিশ্বাস হয় না যে, অনেকদিন আগে জববলপুরে সে এই প্রকাশের সঙ্গে খেলেছিল। খুবই ভালো! খেলেছিল সে তবে স্টেট সেটে হারতে হয়েছিল তাকে | কেন হেরেছিল তা হারের দিন বুঝতে পারেনি সে নিজন্ব আযটাকিং গেম খেলে সে অগ্ীবর্ষী সব স্ম্যাশ-এ

০৬

মাটি কাপিয়ে দিয়েছিল সেদিন পায়ের কাজও ছিল ভালো। প্লেস করে- ছিল নানা কোনে বুদ্ধি খাটিয়ে কিন্তু মুস্কিল হলে প্রকাশ একটুও আযাটাকিং গেম খেলেনি শুধু অনায়াস দক্ষতায় তার স্ম্যাশগুলে। তুলে তুলে দিচ্ছিল। বারবার লম্বা মার মেরে তাকে ঠেলে দিচ্ছিল বেস লাইনে। স্ম্যাশ করে তার ফলো-আপ করতে গিয়ে বেদম হয়ে পড়ছিল বিটু। দ্বিতীয় গেম-এই বুঝতে পেরেছিল তার বিরুদ্ধে খেলছে একটি রোবট রোবট ক্লান্ত হয় ন। ঘাম ঝরায় না, রোবটের খেলায় আছে নির্ভুল ধারা- বাহিকতা | বিটু পারবে কেন ? বহুদিন ধর খেলাটা বিশ্লেষণ করে দেখেছে সে। আধুনিক ব্যাডমিপ্টনে বা যে কোনো খেলারই মূল কথা হলো৷ স্ট্যামিনা, ফিটনেস এবং কন্টে প্রকাশের সঙ্গে, দাপু বা রমেন ঘোষ, পার্থ গান্গুলী বা অরুণ ব্যানাজি কার সঙ্গেই বা খেলেনি বিটু? বিভিন্ন টুর্নামেন্টে এক আধজন অল ইগ্ডিয়া খেলোয়াড়কে সে প্রায়ই পেয়ে গেছে প্রতিদবন্দী হিসাবে | খুব বড় অঘটন ঘটাতে না পারলেও এক আধবার জিতেও গেছে বেঙ্গল চ্যামপিয়নশীপের সেমি ফাইন্তালে সে হারিয়েছিল তৎকালীন চ্যাম্পিয়নকে ফাইন্তালে হেরে গেল উঠতি যে খেলোয়াড়ের কাছে সেই খেলোয়াড় টানা তিন তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

সুখময় এক কাপ চা এনে সামনে রাখল

বিটু চায়ে একটা চুমুক দিয়ে প্রকাশের খবরট1 আবার পড়ল।

বিদেশে সত্যজিৎ রায় যদি প্রাইজ পায়, রবিশংকর যদি বাহবা কুড়োয়, প্রকাশ পাড়ুকোন যদি জেতে, হকিতে যদি ভারত সোনা আনে অলিম্পিক থেকে, ক্রিকেটে যদি ওয়েস্ট ইগ্ডিজকে হারায় এবং গাভাসকার যদি ত্র্যাডম্যানের রেকর্ড ভাঙে একমাত্র তখনই নিজেকে কিছুক্ষণ ভারতীয় বলে মনে হয় বিটুর আর কোনে সময়ে এটা হয় না

এখনও হচ্ছিল না৷ প্রকাশ সেমিফাইনালে হেরে গেছে হেরে তো৷ বিটুও যেতে পারে। হারার জন্য তো প্রকাশকে পাঠানো হয়নি !

আরে আম্মুন ভট্চায্যি দ।! কী খবর?

একটা মশার ক্রিম দাও তো বিটু তোমার খবর কী?

এই তো, চলে যাচ্ছে।

গেলেই ভালো! তোমার বউয়ের কি বাচ্চা কাচ্চা হবে নাকি?

বিটু একটু বিনয়ের হাসি হাসল

ভট্চাষ ওডোমসের দাম দিতে দিতে বলে, এই তো প্রথম, না?

না। আগেও একবার ইয়ে হয়ে গেল।

আহা রে। সবই ভবিতব্য !

আপনার কলকাতা যাওয়ার একট] কথ শুনেছিলাম না ?

আজই যাচ্ছি আর সেইজন্তই তো ওডোমস কেনা বুঝলে আজকাল ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে পর্যস্ত দারুণ মশার উৎপাত।

জানি আগে ছিল ছারপোকা |

আজকাল মশা কলকাতাতেও ঝাঁকে ঝাঁকে লাখে লাখে মশা আগে মফস্বলে মশ! ছিল, কলকাতায় ছিল না আজকাল উল্টো কেন জানো?

না।

গায়ে গঞ্জে ফসলের পোকা মারতে বিষ দেয়, তাঁতে মশাও সাফ হয়ে গেছে কলকাতায় তে। আর তা নেই যে শালার বিষেতে যাচ্ছি সে থাকে যাদবপুরে সেখানে যে কী মশা না দেখলে বিশ্বাস করবে না। গত পুজোয় গিয়েছিলাম, রোদে বসে দাড়ি কামাচ্ছি, দেখি পায়ের পাতায় একসঙ্গে সার দিয়ে দশ থেকে বারোট। মশ। বসে ভোজ খাচ্ছে। বিটু বিনয়ের সঙ্গে হাসল। আগড়ম বাগড়ম কথা! দৌকানীকে শুনতেই হয়। নিয়ম।

যাওয়ার সময় ভট্চাষ বলে গেল, দেশে আযডমিনস্টরেণন বলে আর কিছু নেই, বুঝলে যা কগ্ডিশন তৈরি হয়েছে তাতে মানুষ বেশীদিন টিকবে না। ওই মশ! মাছিই থাকবে।

চায়ের তলানীটুকু গলায় ঢেলে বিটু আবার খবরের, কাগজ খোলে খেলার পাতা বাংল। বিহার রঞ্জি ট্রফি ম্যাচের খবর পড়তে থাকে টিকটিক করে একট কিছু নড়ে তার ভিতরে ঝিন্ট, খবর দিয়ে গেছে সোমার পেইন উঠেছে তার একবার যাওয়াটা! বোধহয় দরকার কাজটা শক্তও নয় কিছু রিকশায় গেলে তিন চার মিনিট |

বিটু!

মফন্বল শহরের এই এক দোষ | বেশীর ভাগ লোকই চেনা | বিটু ব্যস্ত হয়ে বলে, আরে ছুলুদি ! আন্মুন। ময়নাগুড়ি থেকে কবে এলেন? পরশু | তোর কী খবর ? শুনলাম বৌয়ের বাচ্চা হবে !

বিটুকে কথা বলে যেতে হয় | কী বলছে তা সবসময়ে বিটু বুঝতেও পারে না। অর্থহীন সংলাপ সম্পূর্ণ না৷ ভেবে-চিন্তে চালিয়ে যায়। কিন্তু বলে খুব কনফিডেনস নিয়ে বাঁকযন্ত্রের এরকম অপব্যবহার বুঝি আর হয় না।

বিটু পরিক্ষার বুঝতে পারে, এই যারা আসে, কথা বলে, জিনিস কেনে তারা কেউ পুরোনো বিটুকে মনে রাখেনি | যে বিটু একসময়ে প্রকাশ পাঁড়,কোনের সঙ্গে খেলেছিল, যে বিটুর সিনেমার নায়ক হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এরা বিটুকে চেনে কেবল দোকানদার বলে।

ছুলুদি একখানা ক্রিমের টিউব কিনল | তারপর বলল, কালই চলে যাচ্ছি।

কালই ? কেন ক'দিন থেকে যান-না।

নারে। কর্তাকে তো জানিস। আমি ছাড়া চলে না।

বিটু খবরের কাগজট। ফের টেনে নেয়।

কিন্তু পড়তে পারে না বারবারই টিকটিক করছে কী একটা সোমা ! সোমার পেইন উঠেছে। সেটা বড় কথা নয়। মেয়েদের তো বাচ্চা হয়েই থাকে

তবে সোমার একটা বুকের দোষ আছে ডাক্তার সাবধান করে দিয়েছিল,

বাচ্চা হতে গিয়ে আবার বিপদ ঘটতে পারে | তার কি একবার যাওয়া উচিত?

আজকাল গভীর একটা আলম্ত এসেছে বিটুর | শরীরে নয়, মনে | কিছুই যেন তাকে চমকে দেয় না, নড়াতে পারে না সংসারে যাই ঘটুক তার মনে একটুও বুজকুরি কাটে না কোনে! ঘটনা | নিজের এই নিলিপ্ততা দেখে নিজেই মাঝে মাঝে অবাক হয় বিটু ছু তিন বছর আগেও যে-বিটু শহরে দাবড়ে বেড়াত তার সঙ্গে আজ এই বিটুর দেখা হলে কেউ কাউকে চিনতেই পারবে না।

শাশুড়ির অন্ুুখ, একটু দেখতে যাওয়া উচিত | কিন্তু মণ্টু বুঝতে পারে না সে গিয়েই বা কী করবে | মঞ্জরী তাকে বারবার বলে গেছে বটে, অফিসের পরই সোজা গিয়ে মহানন্দার মোড় থেকে মিনিবাস ধরবে ভুল যেন না হয়। মা চোমাকে দেখতে চেয়েছে

শীশুড়ির বোধহয় শেষ অবস্থা কিন্ত তিনি মণ্ট,কে দেখতে চান কেন সেটাই প্রশ্ন ভয় অবশ্য তার একট আছে। জামাইয়ের বৈরাগ্যব্যাধির কথা তিনি জানেন যদ্দি জামাই কখনো সংসার ছেড়ে হিমালয়-টিমালয়ে লম্ব। দেয় তো৷ তার মেয়েটির কী দশ! হবে।

মণ্ট, তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারেনি যে, এই বিশাল জীবজগতে হরেক প্রাণের নিত্যি নতুন খেলায় কোথায় একটি প্রাণ নিবে গেল, কোথায় আর একটি জ্বলে উঠল তাতে জগতের ক্ষয়বৃদ্ধি নেই | যে একবার এই জগতের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করেছে সেই জানে ব্যক্তি- গত মৃত্যু কোনে! ঘটনাই নয় | যেমন নয় বৈরাগ্য বা সন্গ্যাস। সঙ্গ্যাসী নাই বা হলে! মপ্টু যদি আজই অফিস থেকে ফেরার পথে সে আযাক- সিডেন্টে মারা যায় তাহলে কি ছুনিয়া অচল হয়ে যাবে ? নাকি দিন কাটবে না মঞ্জরীর? পৃথিবীতে অপরিহার্য তো! কেউ নয়।

উনি অবশ্য এসব খুবই মন দিয়ে শোনেন। আবেগে চোখের জল মুছে বলেন, তুমি বড় জ্ঞানী বাবা, বড় জ্ঞানী। তবে কি জানো, আমরা সংসারী মানুষ, তত্ব দিয়ে সংসারীদের কি বিচার হয়?

খপ

মণ্ট, টের পায় বৈরাগ্য তো নয়ই বরং সংসার এবং বিষয় তাকে এক মস্ত অজগরের মতো পাকে পাকে জড়াচ্ছে আরো দেবোনা-দেবোন। করেও অফিসারের পরীক্ষা দিয়েছিল মণ্ট,। এক চান্সে হয়ে গেল মালদা থেকে সটান পাঠিয়ে দিল শিলিগুড়ি মণ্ট,র ইচ্ছে ছিল, সংসার থেকে একটু দূরে থাকে বিশেষ করে মগ্তরীর কাছ থেকে স্ত্রী-সঙ্গকে সে পাপ মনে করে না বটে, কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে থাকা মানেই ধ্যান থেকে দূরে নিক্ষেপ হওয়া ভ্যানর ভ্যানর ভ্যাজর ভ্যাজর নানা তুচ্ছ 'তি- তুচ্ছ অভিযোগ অনুযোগ নালিশ পরনিন্দা শুনতে শুনতে ঝ'"ঝরা হয়ে যায় সে। অবিরল তার ভেতরে এক রক্তক্ষরণ হতে থাকে শিলি- গুড়িতে বদলী না হলে খুব ভালো হতো | সে চেয়েছিল সংসার ত্যাগ করে সন্্যাস গ্রহণের বদলে এই বদলীর চাকরি একরকম ভালো সে নিজে রেধে খেত। একলা ঘরে বসে নিত্য পুজা পাঠ করে কটিয়ে দিতে পারত | শিলিগুডিতে আসতে হলো বোধহয় কর্মফল কাটাতে বেল! সাড়ে দশটা বাজতে চলল | এখনো অফিসে হাজিরায় বিস্তর ফাক | অধিকাংশ কাউণ্টার এবং টেবিলেই লোক নেই | আমানত- কারীদের সংখ্যা বাড়ছে অধৈর্ধের নানা শব আসছে।

মণ্ট, একটু চিন্ত্িতভাবে চারদিকে তাকায়। ভারী অস্বস্তি বোধ করে। ধর্মের মধো নানা কথা থাকে সবই প্র্যাকটিক্যাল কথা একটা হলো, যথাসময়ে যথাবিহিত কর্তব্যটি কোরো | মণ্টু, এক মিনিটও দেরীতে অফিসে আসে না ।'ডিসিপ্লিন কথাটার মূলে আছে ডিসাইপেল কথাটা শিষ্যত্ব। আগের দিনে গুরুগৃহে শিশ্যত্ব নিয়ে বনু কঞ্টে শিখতে হতো আত্ম- শাসন। এখন কে কাকে শেখায় আর কেই বা শেখে?

মণ্ট,র পাশের টেবিলে টেলিফোন বার সাতেক বাজার পর করচৌধুরী টেলিফোনট। তুলল অনেক আগেই তুলতে পারত বসে বসে খড়কে দিয়ে দাত খোচাচ্ছিল।

গাঙ্গুলী, আপনার ফোন

২২৮

মণ্ট হাত বাড়িয়েই ফোনট। নাগালে পায়। শাশুড়ির কিছু হয়ে গেল নাকি?

মিত্র নাসিং হোম থেকে বলছি আপনার ম! কথা বলবেন

মা! কী হয়েছে মার?

নুমনার ঘাবড়ানো গলা পাওয়া গেল, মেজো বউমাকে ভি করে দিলাম কেন, পেইন উঠেছে নাকি ?

যা, কিন্তু হার্টটাও বোধহয় ভালে! না ডাক্তার সি জি করাতে নিয়ে গেছে একজন হার্ট স্পেশালিস্টকে খবর দেওয়া হয়েছে একবার আসতে পারবি ?

পারব ঘণ্টাখানেক পরে গেলে হবে তো?

তা হবে। বিটুকে খবর দিয়ে দিয়ে আনতে পারিনি পারলে তাকেও নিয়ে আসিস।

ঠিক আছে।

আমি তাহলে বাড়ি চলে যাই

যাবে? যাও না।

তোর বাবাকে ভাতটুকুও বেড়ে দিয়ে আসতে পারিনি | জনার্দন কী দিতে কী দেয়, ছেলেমানুষ

হ্য। হ্যা চলে যাও তোমার ওখানে আর কাজই বাকী?

তুই কিন্তু আঙিস বাবা | ডাক্তারের কাছে অবস্থাট। একটু বুঝে যাস। মন্ট, ফোন রেখে দিল। মনটা একটু বিষ হয়ে গেল তার সোমা মেয়েটিকে বড় স্নেহ করে সে। বড় ছুঃখী মেয়ে ।'ছুঃখীদের মুখে ভগবানের ছাপ থাকে একথা ঠিক যে ছুঃখ ব্যাপারট। মানুষ পছন্দ করে না। ধের উদ্দেশ্যই হলে। ছুঃখকে তাড়িয়ে দেওয়া কিন্তু এমন কিছু ছুঃখ আছে য৷ আনন্দের চেয়েও গভীর | যে ছুঃখের ভিতর দিয়ে ভগবান ধরা দেন তা৷ কি পরিত্যাগযোগ্য ?.

মণ্ট, সংসার-উদণাসীন বটে, কিন্তু সোমা আর বিটুর সম্পর্কটা সে টের

২৯

পায়। বিটুটা, একদম অন্ঃরকম হয়ে গেছে, আজকাল | দোকান ছাড়া আর কোনে দিকেই মন নেই বউটার প্রতি তার কোনোদিনই কোনো মনোযোগ নেই অথচ মেয়েটা বিয়ের আগেও এক ছুঃখের জীবন যাপন করে এসেছে। বিয়ের পরও তাই কী যে হবে! এত অনাদরেই বুঝি মেয়েটার শরার সারে না ওই অনাদূরই বুঝি জন্ম দিয়েছে ছুরারোগ্য হৃদরোগের

এক একদিন সে সোমাকে উপনিষদ বোঝায় বা গীতা শোনায় এবং ব্যাখ্যা করে মেয়েট। ভাশুরকে খুব শ্রদ্ধাভক্তি করে বটে কিন্তু এইসব ধর্মগ্রন্থ পাঠে তেমন আগ্রহ বোধ করে না কেমন শক্ত হয়ে জোর করে বলে থাকে মাত্র

ভাইয়ের বউ হলেও সোমাকে ম| বলেই ডাকে মণ্টু। বেশীর ভাগ মহি- লাঁকেই সে মাতৃ সন্বোধন করে মা ডাকের মনো আর ডাক নেই যে ডাকে তারও শুদ্ধি হয়, যে শোনে তারও শুদ্ধি হয় একদিন সে সোমাকে বলল, মাগো, তোমার কি ধর্মে বিশ্বাস নেই ?

সোমা অনেকক্ষণ চুপ করে গৌঁজ হ'য় বসে থেকে বলল, ঠিক বুঝতে পারি না।

কেন মা? কোন্টা শক্ত?

সবটাই ভীষণ শক্ত মনে হয়

মণ্ট, মৃদু মৃদু মাথা নেড়ে বলে, ধর্মের মতো! সহজ স্বাভাবিক আর কিছুই নয়। তো বাক্সে তুলে রাখার জিনিস না, নিত্য চার ব্যাপার যদি ধর্মকে জীবনের সব আচার আচরণের মধ্যে অন্ুবাদই না করা গেল তবে ধর্ম দিয়ে মানুষের কোনো লাভ নেই। ধর্ম একটা ফলিত জিনিস, একটা হওয়ার ব্যাপার | শুধু শুনলে শক্ত তো লাগবেই কিন্তু যদি করে দেখ, বদ্দি চ্1 করো তাহলে দেখবে শ্বাস চলার মতো স্বাভাবিক সোমা তর্ক করেনি একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করেছিল শুধু

মেয়েটা তর্ক জানে না, ঝগড়া জানে না, কুচুটেপানা নেই, এক অবোধ

২৩

ভীরু চাউনি আছে শুধু মেয়েটাকে কেন যে বিটু অত অবহেলা! করে ! বিটু আর মঞ্জিরীকে নিয়ে ষে গুজবট। আছে তা সবই জানে মণ্ট,। যুখীর কাছে শুনেছে, মায়ের কাছেও খানিকট1 | বাকিটা! আন্দাজ করে নিতে তার কষ্ট হয়নি | কিন্তু মণ্ট, এমন এক মানসিক অবস্থায় পৌছতে পেরেছে যেখানে ঈর্ধার জ্বলুনি নেই, রাগ নেই, দখলদারী নেই সে ঘটনাটি শু:নই ওদের ক্ষমা করেছে সে জানে !কতকর্মের জন্য মানুষের অনুশোচনা না এলে বাইরের গঞ্জন! দিয়ে কর্মফল কাটে না!।

মন্টু হাফ-ডে ছুটি চেয়ে একটা দরখাস্ত লিখে নিয়ে উঠে পড়ল গিয়ে ঢুকল এজেন্ট কর্মকার সাহেবের ঘরে |

ছুটি ! হঠাৎ ছুটি কেন গাঙ্গুলী ?

একটু দরকার আছে বাড়ির লোকের অন্থুখ | কার ? আপনার ওয়া- ইফের?

না, ভাহয়ের স্ত্রীর

ভাই মানে বিটি তে1? তার বউ তো আমাদের সোমা ! তার আবার হলে। কী?