111010) া)5 রচিত 1100717771২ [007১০] গ্রন্থের পুর্ণীল বঙ্গানুবাদ

হ্বাান্র আ্লাশ্পিল্স।

ভবানী মুখোগাথযায

15118188

ল্কহ্গাতল। লুক ভিন ১৫, বঙ্িম চ্যাটার্জী ্রীট কলিকাতা

মাদার রাশিয়। প্রথম সংস্করণ শ্রাবণ--১৩৫৬

প্রথম প্রকাশ--শ্বাধীনত! দিবস ১৯৪৯

প্াম সাঁতড় ছয় টাকা

প্রকাশক কতৃকি শবশ্বত্ব সংরক্ষিত

কমলা বুক ডিপোর পক্ষে স্্ীক্ষীরোদলা'ল দত্ত কর্তৃক প্রকা শি ভ্রীপতি প্রেস হইতে ্ত্রীবিভূতিভূষণ বিশ্বাস কর্তৃক মুদ্রিত

অবতরণিকা

সংশয়, অবিথাগ অশরদ্ধাঘ যখশ বাঁগনৈতিক আকাশ মেখমলিন তখন মরিস হিন্ডাসের মাদার বাশিয়ার মত একখানি গ্রন্থের খঙ্গ।ছবাণ প্রকাশ করার হেতু প্রয়োজনীয়তা মন্বন্ধে অনুবাদক হিসাবে আমাব খক্তখ্যট| স্পষ্ট কবে বলে রাখাই বুক্তিযুক্ত, সেই কারণেই এই অবতরণিকা |

মরিগ হিন্ডাস তার এই বির।ট গ্রন্থেন পরিশিষ্ট।ংণে প্রত তুলেছেন “আমাদের কি রাশিয়ার সঙ্গে লড তৈ হবে?” এখ|নে আমরা অর্থে আমেরিকানরা হলেও, লাই যদি বাধে তাহলে সেই উদ্দাম স্রোতে শুদু আমেপিক। নয় বহু বিভিন্ন রাষ্ জড়িত হয়ে পড়বে এবং তার ফলে সাধাবণ মানুনের ছুঃখ, দুর্দশা আর রেশের শীমা থাকৃবে না। পরিস্থিতি এখনও কুয়াশায় ঢাকা; কাব কতদৃব শক্তি তারই পরিমাপ চলেছে ঘুরেপ এখন ছুটি বিরাট দলে বিভক্ত হয়ে পডেছে। এর মধ্যে গোঠিষেট রাশিয়া তার তাবেদাৰ রাষ্্া- বলীর (পোলাও, চেকোক্ল[ভকিয়া, হাঙ্গেরী, রুখেশিযা, যুগোগ্াভিয়া, বুলগেরিয়া সোতিয়েট রা) সম্মিলিত সৈগ্মংখ্যা ৫,৯৯,৯০০) বিমান বহর ২৭,২১৫, আর্ন শুধু সোভিয়েটের সৈম্তসংখ্যা ৪,৫০,০০০, বিমানবহর ২৫,০০০ অতলাস্তিক চুক্তির অন্তু দলগুলির অর্থ[ৎ ঘুক্তরাট্, গ্রেটব্রিটেন, নরওয়ে, ডেনমাক, আইসল্যাণ্ড, কানাডা, জান্স, পোতু'গাল, ইতালী গ্রহতিন সম্মিলিত সৈম্তংখ্যা_-৩,৭০২,০০০, বিশানবহর ৪০,৯০৫, আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সৈচ্তসংখ্যা ১৬৫,০০০, বিমান বহর ৩২,৫০০ |

এই যে বাছুবলের পরিমাপ চলেছে তা অতি ছূর্লক্ষণ। পশ্চিম ফুরোপ বগ€মানে সংকটের বেডাজালে জড়িয়ে পড়ছে_অথচ সোঁতিয়েট অন্তান্ত জনগণশাসিত দেশের অবস্থা সম্পূর্ণ বিতিন্ন। এই দুদ্ধে রাশিয়ার জাতীয় অর্থশৈতিক অবস্থা অতিশয় ক্ষতিগ্রন্ত হয়েছে-এখন কিন্তু সোতিযেট রাশিয়া ক্রমশঃই সেই ক্ষত শিরাময় করে নিয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে অতিশয় শক্তিশালী হয়ে উঠছে। পুর্ণব্সতি জাতীয় অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নয়নে পূর্ব-ঘুরোপীয় দেশগুণি অপৃব মফল্যলাভ করেছে। ওদিকে পশ্চিম যুরোপের ভাগ্যবিধাতা আমেরিকা এখন তার লাতের কড়ি গুন্ছে, এদিকে শাস্তি নিরাপত্ত! পর্ব-যুরোপে পুর্ণপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

আর একজন আমেরিকাঁন মনীষী স্বর্গতঃ উইণ্ডেল উইলকী তার বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ওয়ান ওয়ার্লডে” রাশিয়া সম্পর্কে বিশেষতঃ আমেরিকা রাশিয়ার পারস্পরিক সমন সম্পর্কে বিশদভাবে লিখেছেন। তার বক্তব্য ব্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ অনুধাবন যোগ্য-_

উইলকী বলেছেন £ দেশে ফেরার পর দকলের মনে সমগ্র রাশিয়া সম্পর্কে একটা কৌতুহল লক্ষ্য কর্লাম __ একটা শ্রচ্ধ। ভয়মিশ্রিত যনোভাব-রাশিয়া কি কৰৃতে চায়? তারা কি গার একটি শান্ডিনাশক রাষ্ট্র হয়ে উঠবে? যুদ্ধাবসানে তারা৷ কি এমন এক সুবিধার দাবী করে বসবে যন্বার৷ যুরোপে শান্টি গ্রতিঠ। কর। অসপ্ভব হয়ে উঠবে? তাদের অর্থনৈতিক সামাজিক ভাবাদর্শ কি অপর রাষ্ট্রের উপর চাপাবার চেষ্টা কর্বে? এসব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা! নেই) এমন কি স্বর়ং ষ্ট্যালিনও দিতে পারবেন কিন! সে ব্ষয়ে আমার সলোহ আছে। তবে এইটুকু জানি-_ইউ, এস, এস, আন এর ২*০,***১*** অধিবাসী আছে, আর একটি মাত্র শাসনযস্ত্রের

অধিকৃত পৃথিবীর বৃহত্তম জমি এরাই নিরস্ত্র করে কাঠ, কয়লা, লোহা, তৈল প্রভৃতির অক্ষয় মরবরাছ এদের

8/৩ নিজনদ আছে--একগকম অক্ষত আছে। ঠাসপাতাল ব্যবস্থা! জনন্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যবস্থার প্রদাগে রাশিয়ার এই উত্তেজক দুধর্ধ আবহাওয়ার অধিবাসীর] পৃথিবীর অন্যতম স্বাস্থ্যবান জাতি, গত পঁচিশ বছরব্যাগী সদুর বিস্ত/রী আমুল সংস্কারক শিক্ষণ বিস্তার বাবস্থার ফলে অধিকাংশ লোক শিক্ষিত হয়ে উঠেছে-_রাশিয়ার উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী থেকে অখ্যাত কৃষি-শ্রমিক বা কারখানার কাগিকর পর্যন্ত সকলেই রাশিয়ার প্রতি উন্মত্তের মত আকুষ্ট-_রাঁশিয়। সম্পর্কে মকল প্রশ্নের জবাব আমার জ।ন] নেই তবে এইটুকু জানি ঘে রাশিয়ার মত তেল শক্তি সম্পন্ন এমন একটা জাতিকে উপেক্ষা বা নামিকা কুপ্চিত করে বাতিল কর! চল্বেনা--

রাশিয়া আমেরিকার (এরাই সম্ভবতঃ পৃথিবীর মধ্যে শক্তিশ।লী রা) পক্ষে পৃথিবীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন শান্তি সংস্থাপন করা সম্ভব, এই আমার বিশ্বাস। উহয় রাষ্ ঘদি একযোগে কাজ না করে তাহ'লে কিছুতেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্থনৈতিক স্থায়ীত্ব আন! সন্ত হবেন11.. ..( ওয়।ন ওয়ারলড )1% ধারা রাজনীতির হালচাল লক্ষ্য করেন তারা উপরোক্ত কথাগুলির যথার্থ মর্ম উপলব্ধি কর্তে পাবরৃবেন। বর্তমান জগৎ অতি দ্রুতগামী, এদিনের হিসাবে পরদিনের কথা তাবা যায় না, তাই কখন কি তাবে কোন দিক থেকে ঝড় উঠবে রাজনৈতিক আবহাওয়াতত্ত্ববিদরা তার পুর্বাভাব দিতে পারেন না, তবে পুথিবীর ছুটি প্রবল পক্ষ যে পারম্পরিক মর্পবুদ্ধে নামার জগ্য মালকোছা বাঁধ ছে তা শিশুর কাছেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মরিস হিন্ডাস স্বয়ং আমেরিকান, দ্বিতীয় মহাধুদ্ধের ভিতব যুদ্ধকালীন সোভিয়েট রাশিয়ার যে ছবি তিনি একেছেন তা সর্বত্র প্রশংসালীভ করেছে সোভিয়েট রাশিয়ায় তিনি বহুবার ভ্রমশ করেছেন-_-ভলগা থেকে ককেস্তডস আর মস্কো, সর্বত্র বে-সাঁমরিক সামরিক জনগণের সঙ্গে সমানভাবে মিশে যুদ্ধরত রাশিয়ার প্রকৃত রূপ "মাদার রাশিয়ায়” ফুটিয়ে তুলেছেন! গেরিলা যুদ্ধের তরুণ-তরুণী নায়ক-নায়িকার অবিস্মরণীয় কাহিনীতে 'মাদার রাশিয়া” বিশ্ব সাহিত্যের এক অপূর্ব সম্পদ বিগত মহাযুদ্ধের এক নির্ভরযোগ্য ইতিহাস।

বর্তমান কালে সোঙিয়েট রাশিয়াকে বিশদভাবে জানার প্রয়োজন আছে, সাধারণতঃ আমাদের দেশে সোভিয়েট রাশিয়া সম্বন্ধে ছু রকমের ধারণা আছে, _ রাশিয়া রূপকথার দেশ, সেখানকার সবই ভালো, যেন সব পেয়েছির দেশ রাশিয়া অতি ভয়ংকর দেশ--তার। যদি সুবিধা পায় ত” সারা পৃথিবীট! ধ্বংস করে ফেল্বে-_ধারা বেঁচে থাকবে তার! ওদের ক্রীতদাস হয়ে থাকবে উভয়বিধ ধারনাই কতকাংশে সত্য কিন্ত ভিতরকার অবস্থাট! যে ঠিক কেমন তার একখানি নিখুঁত ছৰি *মাদার রাশিয়া

রাশিয়! সম্পর্কে এই যে সন্দেহ সংশয়, তার মূলে আছে, রাশিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞানের অভাঁব। রাশিয়। রূপকথার সেই সব পেয়েছির দেশ নয়, আবাঁর দানবের দেশও ন্য়, তবে অল্লকালের ভিতর তারা যেন ইন্দ্রজাল প্রভাবে সারা দেশটাকে কল্পলোকে পরিণত করেছে রবীন্দ্রনাথ তার রাশিয়ার চিঠিতে বলেছেন_-রাঁশিয়ায় না এলে জন্মের তীর্থদর্শন অসমাপ্ত থাকৃত। ওখানে এর! যা করেছে তার ভাল মন্দ বিচার করার পূর্বে সর্বপ্রথমেই মনে হয় কী অসম্ভব সাহস !...অগ্য দেশের তুলনায় এদের অর্থের জোর অতি সামান্ত, প্রতিজ্ঞার জোর স্ুধর্ধ” কথাটা সকল দিক থেকে ভেবে দেখার মত, দুধর্ম প্রতিজ্ঞার জোরেই রাশিয়। অসম্ভবকে সম্ভব করেছে, এই সর্ব-বিধবংসী যুদ্ধে পৃথিবীর

£

৬/০৩

শ্রেষ্ঠতম যান্িক বাহিনীকে শিশ্িন্ত করেছে। কোথায় হাব সেই শক্তির উৎস ? কৌোথায পেল মনোবল ?”

পণ্ডি5 জওহরলাল শেছের বলেছেন £

“নে[ভিয়েট রাশিযার অনেক কিছুই আমি অপছন্দ করি। পক পকাব টিাধী মতবাদের পির্মম বিলুপ্তি, সবগ্রাণী সমীকরণ, শিভিন্ন মহবাদ প্রচারে আবগ ভৎপাত। ছামি সমর্থন করি শা, কিন্তু ধনতাপ্রিক দেশসমুহেও উপপন, জনমতের দিলুপ্তি সাধন প্রভৃতি শিমমঠার আভাব নেই | আমার পেষলই মনে হয আমাদের সঞ্চঘচারী সমাদের ছিন্তি এই নিমমঙার ওপরই পতিগিত। অতাচার নির্মমতা সর্থতই আছে তবে ধণতাশ্রিক্ জগতের উৎপাত শিচঠুবত| নেন সহজাঙ-- মার পাশিয়ার িমমতা (খারাপ হলেও) শাগি মহযোগীতা জনগণের প্রকুত স্বাধীনতার শিডিতে প্রতি5িত। পকলপ্রকার এটি বিচ্যুতি সত্বেও পোভিতরট পাশিয়া ছুত্ত। ধাধা পার হযে নব-খিধান চান করেছে। সারা পৃথিবী যখ» ক্রমশঃ পি যে পড়ছে তখন আমাদের চোখের ওপর এক বিরাট লগৎ্থ গড়ে ৬ঠঞা তার শাম (স!ভিযেট প্রাশিঘা |*৮সেখাণে গা বিছু ঘটেছে তা আমি গামার সহজাত প্রণতিতে আপছন্দ ববলে? আামার বিশাস সারা পুধিবীতে সোঠিযেট গাশিযা একটা নুতন মাশ। উদ্দীপনা জাগিয়ে ঠলেছে।”

মরিস হিন্ডাস্‌ মাকিন সাহিত্যিক সাংবাদিক, তব উপন্যাস “যমন খিশ্ব-স।হিতোো স্বায় মর্ধাদায আপন আমন পেয়েছে, তেমনই এই "আদব বাশিয়।' তাৰ অসীম খ্যাতি প্রতিষ্ঠা এনে দিয়েছে ইংর।জী ভাষায় পিখিত আর কেনো গ্রন্থ দুদ্ধণ সোভিয়েট রাশিষার এমন নিখুত চলচ্চিত্র হয়ে ওঠেশি | রাশিঘা পরিদমণ করে কিতাবে সেখানকার কাবখানা আর ক্ৃবিশাণা চল্ছে, কিভাবে সেখানে মানুষের মন গড়ে উঠেছে দেশের শক্রর বিরুদ্ধে, কি দুরপশেয় এ্রচেষ্টা দেশকে শক্ত কখল থেকে মুক্ত করার বি অপূব সংভতি কি কি কঠোর কৃচ্ছুসাধন। মাদার বাশিয়ার” প্রতিটি ছাত্র তারই অপরূপ বিখণণ। সাম্প্রতিক ইতিহাসের প্রামাণিক গ্রন্থ মাদার রাশিয়া? তাই বিভিন্ন আানায় অনুদিত হয়েছে, আর লক্ষ লক্ষ খণ্ড বিক্রীত চুয়েছে।

'মাদার রাশিয়া” আমাদের দেশের পক্ষে উপযোগী, অনেক কিছুই স্বাধীন ত|রতের জনগণের পক্ষে অস্ভুকবণীয়। কি ভাঁবে একনিগ সাপন।য় রাষ্রের প্রতি অধিচল আগ্তগ ঠ্য প্রকাশ করে রাশিয়া এই সর্বগ্রাসী ঘুদ্ধে জয়লাভ কনেছে মাদার রাশিয়া” তারই ইতিহাস রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন £ “অপরিসীম উৎপাহে রাশিষা নিরক্ষঃতা অস্বাস্থ্য দূর করে, এই বিরাট মহ!দেশ থেকে অজ্ঞতা দারিদ্র্য মুছে দিয়েছে এক সম্প্রদায় থেকে অপর জাতির বৈষম্য বিতেদ থেকে এদের সভ্যতা মুক্ত,_-তাদের এই বিস্ময়কর দ্র প্রগতিতে আমি বুগপৎ আনন্দিত ঈর্ষান্থিত,__.*"যখন দেখি প্রায় দশ রকমের বিভিন্ন জাতি -যাবা কিছুকাল পূর্বেও কতদিকে অনগ্রসর ছিল আজ তারা মৈত্রীর বাঁধনে বাধা, একযোগে গ্রগতির দিকে এগিয়ে চলেছে,-আর আমার দেশ, বুদ্ধি শিক্ষ!য় যা কত অগ্রসর, তা আজ ক্রমশঃই বর্বরতাও বিশৃঙ্খলতার পথে চালিত হচ্ছে.***

কিতাবে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে 'মাদার রাশিয়ায় তারই বিবরণ, “মরিস হিনভাস্। অপূর্ব লিপি কুশলতায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তাই আমাদের দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে এই গ্রন্থ গঠনমূলক কার্ধে প্রেরণা উৎসাহ জাগিয়ে তুলবে এই বিশ্বাসেই গ্রন্থটির বঙ্গাস্ুবাদ করৃতে প্রয়াসী হয়েছি

অর্থ নৈতিক সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে সোভিয়েট রাশিয়া ফিরিয়ে এনেছে জাতীয়তার ভাবাবেগ, সেই পটভূমিতে রাশিয়ার আভ্যন্তরীন রূপ বিচার বিবেচনা করার সুযোগ দেবে “মাদার রাশিয়াঃ |

'মাদার রাশিয়ায়” কোনো ইজমের কথ! নেই, অ।ছে সাম্প্রতিক ইতিহ।সের কাহিনী, কি ভাবেও কি পথে সেই ইতিহাস গড়ে উঠেছে তারই কথা

সু গা চু

এই গ্রন্থ রচনার পর কয়েকটি বছর অভ্তীত হয়ে গেল, রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিব্তনশীল। দ্বিতীয় মহাঁধুদ্ধের শেষ তৃতীয় মহাধুদ্ধের আয়োজন চলেছে। মাদার রাশিমা'র_বাংলা সংস্করণও আরে! পূর্বে প্রকাশিত হওয়া উচিত ছিল, কিন্ত নানা দুর্বপাকে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি, স্বয়ং সমগ্র প্রুফ না দেখায় এই গ্রন্থে অনেক মুদ্রাকর প্রমাদও আছে তজ্জগ্ত আমি লজ্জিত

আমার বন্ধু “ভারতবর্ষ সম্পাদক শ্রীফণীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের আগ্রহাতিশয্যে আমি এই গ্রন্থান্থবাদে হাত দিই, তাই সর্বাগ্রে তাঁকে সশ্রদ্ধ ধচ্যবাদ জানাই আর ধারা আমাঁকে নানাভাবে সাহায্য করেছেন তন্মধ্যে কমলা বুক ডিপোর ন্বুযোগ্য সন্বাধিকারী শ্রীযূত সুকুমার চট্টোপাধ্যায়, তার সহকর্মীদের এবং আমার স্নেহভাঁজন সাহিত্যিক বন্ধু

শ্রীশিশির সেনগুপ্ত এবং কল্যানীয় অনুজ শ্রীমান অরুণশঙ্কর মুখোপাধ্যায়কে আন্তরিক ধচ্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানাই

কমলকুটার-- বেহালা ভবানী মুখোপাধ্যায় কলিকাতা (৩৪) জন্মাষ্টমী--১৩৫৬

_ সু খবন্ধ__

অধুনানুপ্ত “সেঞ্চুরী ম্যাগজিনে'র এককালীন সম্পাদক গ্নেন ফ্রাঙ্কের দ্বাবা বিশেষঙাবে অম্ুরুদ্ধ হয়ে প্রায় বিশ বছর আগে আমি প্রথম রাশিয়য় গিয়েছিলাম সেই ভ্রমণের ফলে লিখিত 41370190 79108” নামক গ্রন্থে আমার গ্রন্থ রচনার উদ্দেগ্ত পদ্ধতি সম্পকে লিখেছিলাম :

“আমি রাশিয়ায় গিয়েছিলাম একটি মাত্র উদ্দেষ্টে, জনগণের কথা পোনাই ছিল আমার কাজ। এখানে 'জনগণ' কথাটি রুশীয় অর্থে বল] হয়েছে, রুশীয় ভাষায় 'পীপল কথাটির অর্থ জনসাধারণ-_ অর্থাৎ মুঝিক কিষান। যে রাশিয়া মন্তব্য রচনা করে, চরম পত্র পেশ করে, চুক্তি পত্র সই করে, রাষ্ট্রদূতের আপ্যায়ণ কবে, বৈদেশিক সংবাদ পত্র প্রতিনিধিদের দশন দান করে সেই রাশিয়া শয়_খে রাশিয়া পরিশ্রম ধরে, উৎপন্ন করে, যুদ্ধ করে আর মরে'"'সাম্প্রতিক বিশ্লেষনে তারাই রাশিয়া'**।”

১৯২৬ খ্রী্টবে উপরোক্ত কথাগুলি পিখিত। তারপর অনেক কিছু ঘটে গেছে, শুধু রুশীয় জমির রূপ পরিধর্তন হয়শি__পরিবতিত হয়েছে এই “জন সাধারণের আকৃতি প্রকৃতি যন্ত্রগ-উপকথার মত দ্রুত গতিতে যে শুধু রুশীয় পল্লী অঞ্চলের রূপ পরিবতিত করেছে তা নয়, তাদের মুখ থেকে দাঁড়ি উড়ে গেছে আর--বুক থেকে অন্ধকারের বোঝা নেমে গেছে এই জনগণের ভিতর থেকেই এসেছেন বর্তমাণ রাশিয়ার কয়েক জন শ্রেষ্ঠ সেনা-নাফক। আলেকৃমী রডিমসেভ, আনতে ইয়েরেমেংকো, ভাসিল চুইকফ,, সেমিয়ন টিমোসেংকো প্রভৃতি তাদের অগ্ততম | ষ্র্যালিনগ্রাদের রক্ষাকততা বিশিষ্ট জার্মান বাহিনী বিজয়ী বল তাদের নাম কুটুজোভ, সুভরোত, (উওয়েই-মন্ত্রাপ্ত শ্রেণীর ), খা আইত|ন দি ফোর্থ ঝ| টেরিবেল, পীটার দি গ্রেট (উভয়েই জার) প্রভৃতির চাইতে কম ত' নয়ই বরং কিছু বেশী। ইয়েরোমেংকো আর টিমোসেংকো। উভয়েই ইউকেনীয় তাই পশ্চিম ইউক্রেণ সম্পর্কে রশো-পোলিশ বিরোধের পটভূমিতে বিষয়টি বিশেষ গুরুতব্যপ্তক।

প্রকৃত ব্যাপার এই যে প্রচীনকালের কিষাণ আর নেই। টলট্টয়, চেকভ. বুনিন অন্তাগ্ভ রশলেখকগণ যে মুঝিক সম্প্রদায় সম্পর্কে যুগ পুগ ধরে কেঁদেছেন, ভত্গনা করেছেন, তাদের বেদনায় কাতর হয়েছেন, সরলতায় মুগ্ধ হয়েছেন সেই সম্প্রদায় রুশীয় পটভূমি থেকে মুছে গেছে। আর তাদের সঙ্গে 2704_-বা জনগণ, কথাটির পূর্বতন নামটিও মুছে গেছে তাই 7০21৫ কথাটির আর এঁতিহাসিক অর্থ নেই। আজ তাই [৪10৫ সারা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, এই কথাটিতে তাই সমগ্র রাশিয়ার লোক বোঝায়।

তবু দীর্ঘকাল ধরে রাশিয়া সম্পর্কে লেখার সময় আমি আমার সেই মূল পদ্ধতি উদ্দেস্তে পর্বিভিত করিনি আমি কোনোদিনই ত| বিদগ্ধ বা সন্্রান্ত সমাজের উপদেশ শুনতে চাইনি কোনোদিন সংবাদ পত্রের গোড়ার পাতার বড় বড় শিরোনামার জগ্য চেষ্টা করিনি। মলোটোড, ষ্্যালিন গরভূতি বড় বড় ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার করে

।9/৬

আমার প্রশ্নের জবাবে তাঁদের উত্তর পাঠকদের কাছে রোমাঞ্চকর উত্তেজনাযূলকভাঁবে পরিবেশন করার লোভে পড়িনি। এই ধরনের সরকারী জবাবে বহু জাতির সমন্বয়ে গঠিত যে রাশিয়ার কথা আমরা সোভিয়েট তন্ত্র চালু হওয়ার পর শুনে আস্ছি, তাদের কথা কমই জান্তে পারতাম তাই এই যুদ্ধকালেও আমি চিঠি হাতে করে ক্রেমলিনের দোর গোভায় গিয়ে ্্যালিনের দর্শন ভিক্ষা করিনি আমি জান্তাম কোনে গ্রামে একটি দিন অতিবাহিত করলে বা কোনো তরুণের সঙ্গে কারখানায় বসে একবেলা! আহার কর্ল্ই কোনো উচ্চপদস্থ নেতার কাছে যা পাওয়! যায় তার চেয়ে অনেক বেশীই পাব

এই পদ্ধতির পরিধি শীমাবন্ধ, কিন্তু তা সন্তেও ১৯৩৭ খুঃ কুশো-জার্থান চুক্তি রুশো-জার্মীন যুদ্ধের অনেক বিতর্কমুলক ঘটনার উপযুক্ত বিচার করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে।

১৯৩৯ এর ১৪ই অক্টোবর, সুইডেন থেকে ফিরে আপার পর ম্ুযুইয়র্ক হেরা, টিধিউনের সংবাদদাঁত| রুশো জার্মান চুক্তি সম্পর্কে আমার অভিমত জান্তে চান, জবাবে আমি বলেছিলাম £

“আমার দৃঢ় বিশ্বাস রুশ জার্ধানে যুদ্ধ বাধবে'' এখন ওরা যতই মহযোগীতা করুক না কেন সংঘর্ষ বাধার হেতুও ততই আসন্ন হয়ে উঠবে |]

যুদ্ধ যখন বাধলো, রাশিয়ার আসন্ন পতন সম্পর্কে বাতাস যখন কানাকাঁনিতে মুখর হয়ে উঠেছে, কেউ বলছে ছ'মাস কেউ বা বল্ছে ছ'সপ্ত।হ, আমি তখন [২0551912175 নামক বইটি লিখছি। ১৯৪১ এর সেপ্টেম্বরে যখন জার্মান সৈগ্ঠবাহিনী মক্কৌর ভিতর ঢুকছে তখন বইটি আমেরিকায় জাুয়ারী ১৯৪২এ ব্রিটেনে প্রকাশিত হয়।

এই সব মতামত বা কানাকানি খুব আকম্মিক নয়, বিশেষভাবে তা শুধু ভবিষ্যৎবাণী বল্তে পারি না-_ গ্রামাঞ্চলে ভ্রমণ করে জনতার কথা শুনে যা বুঝেহি এই সব গুজব তারই ঘুজিসঙ্গত স্বাভাবিক পরিণতি

এমন অনেক লেখক সম্পাদক, কুটনীতিবিদ্‌, সমরনীতি বিশারদ, সামাজিক অগ্বিধ ব্যাপারে সংগ্রামী ব্যক্তি আছেন ধাদের কাছে ষুদ্ধপূর্ব রাশিয়াকে রক্তপিপান্থ হিংঅতায় চিত্রিত না করে অগ্য কোনো রঙে আকলে ত৷ অবিশ্বান্ত বলে মনে হয়। রুশো জার্মান যুদ্ধ বাধার পরও তাদের অনেকেরই দৃষ্টি ভংগী আদৌ পরিবতিত হয়নি।

অবশ্ত রাশিয়ার অবস্থা অগ্ যে কোনে দেশের চাইতেও সন্ত্রাসকর ছিল ! বিপ্লব মানে গৃহযুদ্ধ, মান্ছষের কাছে এর চাইতে নৃশংস সংঘাত আর কিছু নেই। যে দেশ আকারে যত বড়, তার সমস্তাও তেমনই জটিল, তার জাতিগত বর্ণগত বিভেদ ততই প্রবল, বৈপ্লবিক কর্মস্থচী যতই ছুরাশ|জনক হয় তার বিপক্ষে ঘরে বাইরে বাধা ততই তীব্র প্রবলতর হয়ে ওঠে, সন্ত্রাসজনক অবস্থার নৃশংসতাও তেমনই বাড়ে। আর সেই ভয়ংকর সংঘাতের স্রোতে দোবী নির্দোষ উভয়েই তেসে যায়।

কিন্ত রাশিয়াকে প্রধানতঃ এইনব তয়ংকরত্ব বীতৎসতার নিরিখে বিচার কর্‌লে ক্রমওয়েলের বিশ্লৰকে আয়ারল্যাণ্ডের হত্যালীলা, বা মাকিণ গৃহযুদ্ধকে উত্তরাঞ্চলের সৈন্ত-

|/০

বাহিনীর বিশেষতঃ জেনারেল সেরমানের কৌশলেব নিবিখে বা ফরাসী বিপ্লবকে গিলোটিনের হিসাবেই দেখতে হয়।

ফরাসী বিপ্লবের নৃশংসতায়, বিখ্যাত ব্রিটিশ উদারনীতিক, এডমণ্ড বারের মত আতংকিত আর কেউ হয়নি। তার স্মরণীয় গ্রন্থ হ০9০/10115 011 (110 [7161101] [২০ড$০10610 এই সব্‌ অত্যাচারে বেদনাকাতর হয়ে তিনি লিখেছেন £

“অত্যন্ত চড়! দাম দিয়ে ফ্রান্স যে অপ্রচ্ছন্ন শোচনীয়তা কিনেছে কোনো জাত সেই দামে আশীর্বাদও কেনে না। অপরাধের বিনিময়ে ফ্রান্স দারিদ্র্য কিনেছে !--ফ্রান্স স্বার্থের থাতিরে তার নিষ্ঠা বিসর্জন করেনি, ফ্রান্স স্বার্থ বিসর্জন করেছে তার নিষ্ঠাকে ব্যভিচারী করার উদ্দেশ্যে"*' |

যাঁর! ধর্মের ভাবাবেগে, অর্থনৈতিক ব্যক্তিস্বার্থে, রাজনৈতিক প্রয়োজনে, সামাজিক ব্যবস্থার প্রতি গ্লীতিবশে বা যে কোনে! প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার (গণতান্ত্রিক বা স্বেরাঁচারী ) অন্গরাগী তাদের কাছে উপরোক্ত কথাগুলি পরিচিত ম্বাভাখিক মনে হবে-তীর। বিপ্লবের মত একট! বীধভাঙা উদ্দামতাকে পরিহার করে চলেন। এঁতিহাসিক শিয়মে বা! যেসব কারণ তাদের কাছে অজ্ঞাত তার ভিতর থেকেও যদি বিপ্লব জাগে তাহলেও তাঁদের চোখে তা পরিহারযোগ্য

তবু উত্তরকালে এডমণ্ড বার্ককেও স্বীয় ক্রটা স্বীকার কর্তে হয়েছিল। আতংক বা সন্ত্রাসকে যে তিনি মেনে নিয়েছিলেন তা নয়, তার কারণ বিপ্লবের অগ্ভান্ত শক্তি, যা তার ধারণার সীম! পার হয়ে গিছল। তিনি তার 111005100 010 16001) 4১99115 নামক গ্রন্থে লিখেছিলেন £

“আমার মতে অশ্তত যেমন আছে তা বর্ণনা করা হয়েছে আমার বিশ্বাস শক্তি, জ্ঞান তথ্য যেখানে শুভেচ্ছার সঙ্গে অধিকতর সংযুক্ত সেইখানেই তার প্রতিকার আমার কাছে ঠিক ততটা সম্ভব নয়। আমি এই বিষয়ে চিরদিনের মত য| বলার তা বলেছি বিগত ছু বছরে এই বিষয়ে আমার বনু উদ্বেগাকুল মুত কেটে গেছে। মানবীয় ব্যাপারে যদি বিরাট পরিব্ন আনৃতে হয়, তাহলে মানব মনকে তার উপযুক্ত করে তুল্‌তে হবে) সাধারণ মতামত অঙ্ভূতি সেইদিকেই যাবে। সকল আশংক!, সকল আশ] তাকে অগ্রসর করে নিয়ে যাবে, আর তারপর সেই প্রবল তরঙগকে যে বাধা দেবে সে মানুষের মানবীয় ব্যাপারের অভিসন্ধি নয়, ঈশ্বরের বিধানকেই বাধা দেবে তারা যে দচ কঠিন হবে তা নয়, তার! একগু'য়ে বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেবে ।”

বার্কের স্বীয় মতের এই ধরণের পুনবিচারে ম্যাথু আধল্ড, বলেছেন

“স্বীয় মত সম্পর্কে বার্কের এই প্রতাবর্তন ইংরাজী সাহিত্যে অপূর্ব ঘটনা। শুধু ইংরাজী নয, সকল সাহিত্যের ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য 1”

রাশিয়ার পক্ষে অপরিহরণীয় তথ্য এই যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন যতই ব্যয়সাধ্য হোক-_ তার ফলে জাতিরক্ষাকর পুরস্কারও সে লাভ করেছে ১৯২৮ থেকেই প্রধানতঃ তার শিল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে আর তাই নিয়ে সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম যান্ত্রিক বাহিনীর সঙ্গে লড়েছে। তার শত্রু পক্ষ জার্মানী, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, হলাও, জেকোন্লাভকিয়৷ প্রভৃতি পশ্চিম

1০

মুরৌপের যাবতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাহায্যে পুষ্ট, তাদের ইস্পাত সম্পদ রাশিয়ার চাইতে চার গুণ বেশী।

এই বিচিত্র তথ্যের অর্থ উপেক্ষা করার অর্থ এই যে বর্তমান পৃথিবীর অগ্ভতম শত্তি- মান রাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে হিসাব কর]।

এই গ্রন্থে এবং আর যে সব বই আমি লিখেছি তার মূলশ্ত্র হল জন-লাধারণ। অধ-শতাব্দী ব্যাগী সোতিয়েট তঙ্ের পর এবং রুশীয় ইতিহাসের মধ্যে এই ভীষণতম যুদ্ধে তাঁদের অনেক পরিব্ন ঘটেছে ১৯১৭, ১৯২৩) ১৯২৮-এ তাঁর যা! ছিল, এমন কি ১৯৩৬ (নৃতন শাসনতন্ত্র গঠনের বছর ) থুষ্টাব্দেও যা ছিল এখন আর তা নেই। এইবার মণ কালে লক্ষ্য করলাম যে এই রাশিয়া বিতিন্ন দিক থেকে আমার কাছে নূতন এই রাশিয়া তার অতীতকে পুনরাবিষার করেছে, তাঁর বর্তমান ভবিষ্যৎ নৃতনভাবে বিচার করেছে। তাদের জনগণ, যুবা! বৃদ্ধ, নর নারী সকলেই মৃত্যুর জগ্ঠ প্রস্তুত, তাঁদের নবাজিত পরিচয় তারা পরিহার করুবে না।

মস্কোস্থ একজন নিরপেক্ষ কুটনীতিবিদ আমাকে একদা বলেছিলেন “ইংলগ্ড, আমেরিক! রাশিয়া যুদ্ধ পরবর্তীকালের জগ্য একট! সর্বদলীয় কর্মস্থচী গ্রহণ করুক, ত৷ নাহ”লে বিধাতা আমাদের রক্ষা! করুন।” এই কথাগুলির সঙ্গে বর্তমান লেখকও আস্তরিক ভাবে একমত | পাঠকের কাছে কশীয় জনগণ সম্বন্ধে একট! নূতন বিচার শক্তি হষ্টি করার উদ্দেশ্যে, যাতে তারা অধিকতর স্পষ্টভাবে এই কথাগুলির সম্পূর্ণ অর্থ গ্রহণ কর্তে পারে সেই কারণেই আমি এই গ্রন্থ রচন! করেছি।

মরিস হিনডাস

_ সূচী

প্রথস খণ্ড-রাশিয়ার প্রদীপ্ত যৌবন

পরম তথ্য জরা লিজা জয়া দ্বিতীয় খণ্ড--রাশিয়ার সাবালকত্ব

সংহার হ্যা

কালো শহর

লাবগ্যময় দেশ

জননী 'ুলগ। অতীতের পুনরাবিস্কার রাশিয়ার রাশিয়ানত্ প্রাগীনের দল

ত্বণার পাঁচালী

| তৃতীয় খণ্ড-_রাশিয়ার নগর মালা টুল মস্কো ট্যালিনগ্রাড রা চতুর্থ খণ্ড- রাশিয়ার নূতন সমাজ কারখানার মালিকানা কারখানা পরিচালন! কারখানার জীবন অনুপ্রেরণা কলখোজ ধর্ম নীতি রোমান্স প্রেম পত্র পরিবার রর যৌবন সংস্কতি রা

১১

০৪]

৬১ ৮৯ ৯৩ ১০৪ ১১৫ ১২২ ১২৮

১৩৭ ৯৪৫ ১৫৯

১৭৫ ১৮৫

8৮০ পঞ্চম খও্ড_রাশিয়ার নারী নৃতন ভূমিকা শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী কাশ রোগিনী কাণ্ডেন ভের! ক্রিলোভা ষ্ঠ খণ্ড- রুশীয় ছেলেমেয়ে ক্ষুদে দেশ প্রেমিক ত্যানিয়! এক্সিয়োনভ, আলেকসী আক্েইচ, বুলবুলের গান সগ্তস খও্ড--শক্রর সন্ধানে টলষ্টয়ের পুরাণে! বাড়ি “নব-বিধান” *** অউ্রম খণ্ড-_রুশীয় অভীগ্ষা "আমাদের কি রাশিয়ার সঙ্গে লড়তে হবে?" যুদ্াবসান-ততঃ কিম্‌? বিশ বছর পরে

হ্বাকাল্স আলামিন

_ প্রথম থ&- রাশিয়।র প্রদীপ্ত যৌবন

পনক্মস ভ্য

পাঁথর বিছানো প্রাঙ্গণ পার হয়ে, স্বল্নালোকিত পি'ড়ি বেয়ে উপরে উঠে দরজায় ধাকা দিলাম

ভিতর থেকে পরিচিত ভেসে এল." কে?

বল্লাম__ পুরানো বন্ধু।

দরজা খুলে গেল, নাতালিয়া গ্রীগরীমেভনা আমার সামনে এসে দাঁড়ালো, বেণী ছুলিয়ে ছোট বেলায় মক্কৌতে যখন ঘুরে বেড়াত তখন থেকেই মামাকে জান্লে৭ বিশ্বাস করতেই পাবে না! যে, স্বয়ং আমি এসে হাজির হয়েছি। আমেরিকার মত স্তদূর অঞ্চল পেকে যে কেউ এমন ভাবে এসে পড়তে পারে, ১৯৪১এর সেই বসন্তে, কুইবাসভে বসে, কথ! কল্পনাও কর। যেত না আমাকে অভার্থনা করে ওর ঘরে নিয়ে গেল, সেই একটি ঘরেই সবাই থাকে-_-ওর পাচ বছরের ছেলে আর তিন বছরের মেরে আর বৃদ্ধা শাশুড়ী। ১৯৪১এর শরংকাঁলে জার্মানরা" যখন রাজধানীর প্রার দোবগোডা॥ পৌচেছিল, সেই সময়েই ওর! কুইবাসভে উঠে এসেছে।

খর্বতন্থ, নীলাভ চোখ, তরঙ্গাফ্িত সোন[পি চুলে দেরা, প্রশস্ত ম্লান মুখখানি, ১৯৩৬এ শেষবার মস্্োতে যা দেখেছিলাম তার চাইতে সামান্থই পরিবর্তন ঘটেছে। একটু ভারিক্কি হয়েছে, আরো নিয়মনিষ্ঠ, আত্মস্থ এবং চিন্তাজীর্ণ হয়েছে, কিন্তু উৎসাহ উদ্দীপনার অভাব নেই। ওর শাশুড়ীর সংগে পরিচয় করিয়ে দিল, তাকে আমি আগে দেখিনি। শুভ্র কেশ, অবনত দেহ, অপূর্ব মস্থণ ত্বক, মুখে একটা রুক্ষ কঠিন হঙ্গী। আমার অভিনন্দনের উত্তরে তাঁর মৃছ কণ্ে কিছুই প্রায় উচ্চারিত হল না। কক্হাসিনি ছুরস্ত ছোট্ট নাতনীকে তিনি ভাত খাইয়ে দিচ্ছিলেন।

নাতালিয়! গ্রিগরীয়েভন! বা নাতাশা ( আমরা তাকে নামেই ডাকৃতাম ), তার ছোট্ট বাসার অবস্থার জন্য মার্জন! ভিক্ষা কর্ল। গৃহস্থের বস-বাসের উপযোগী কঙ্গের চাইতে পুরাতন আসবাব, ছবি, ছেলেদের খেলনা, গৃহস্থালীর টুকিটাকি জিনিষপত্র, রান্নার বাসন ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ যাছুঘরের মত দেখায়। আরো! হাঁজার হাজার নর-নারীর মতে! গুদেরও

মাদার রাশিয়া

মস্কৌ থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছে। সৌভাগ/ক্রমে নাতাশারা যতদূর সম্ভব ব্যক্তিগত দ্রব্যাদি নিয়ে আস্তে পেরেছে আর এই জনবহুল অথচ স্ুু-ালোকিত কক্ষ সংগ্রহ করতে পেরেছে। রাশিয়ায় এখন কিছুই স্বাভাবিক নয়। জীবন এখানে কঠোর, এই কঠোরতা কল্পনাতীত, বিশেষত যাঁর! ওর মত ছোট ছেলেমেয়ের জননী কিন্তু তাতে কিছু এসে যায় না-নৃতন ঘরের এই বিশৃঙ্খল! যুদ্জনিত কুদ্গরপাধনে ওর! অত্যন্ত হয়ে উঠেছে।

ওর স্বামী ইউরীর কথা জিজ্ঞাসা করলাম। মুছধ গলায় জবাব দিল-_নেই, লেলিন- গ্রা্ড ক্রণ্টে নিহত হয়েছেন

ইউরীর বৃদ্ধা জননীর চাপা কানা শোনা গেল। আমি তীর দিকে তাকালাম, হাতের উজ্জল চামচটি ভাতের থালার উপর যেন অচল হয়ে আছে। নাতাশাও তার দিকে তাকাল, ওর চোখে ভৎসনার ভঙ্গী, কিন্তু কিছুই বল না; চাম5টা একটা শব্দ করে মেঝেতে পড়ে গেল, সেই শব্ষে যেন বৃদ্ধার চমক ভাঙলো অবনত হয়ে চাঁমচটা তিনি কুড়িয়ে নিলেন, তারপর সেটিকে ধুয়ে আবার চেয়ারে বসে মেয়েটিকে খাওয়াতে লাগলেন। এখন তার হাত কাপছে, যেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত। এদিকে লক্ষ্য না রেখে নাতাশা! আমাকে আমেরিকা সম্পর্কে অবিশ্রান্ত প্রশ্ন করে চল্ল, আমার আতলাস্তিক পরিক্রমন, আমার যুদ্ধকালীন রাশিয়া সম্পক্কিত অভিমত ইত্যাদি | যতই সে কথা বপে চল্ল ততই যেন তার পুরাতন দিনের ভঙ্গী ফিরে আসতে লাগ ল, সেই প্রাণচঞ্চল, উদ্দাম, অস্থির-_বাহির বিশ্ব সম্পর্কে আগের দিনের মতই কৌতূহল ওঁংস্থক্যে ভরপুর। তার পরিচিতদের মধ্যে প্রা সকলেই কোনো এক সমর-ক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছে। রাশিয়া এখন বিধবা অনাথদের দেশ, হাজার হাজার পরিবারের এমনই অবস্থা ওর ছুই ভাই যুদ্ধে গেছে, একজন নৌ বিভাগে আছে, তার কাছ থেকে আবার পাচ মাস কোনে! সংবাদ পাওয়। যায় নি। সেবেঁচে আছে বলে ওর মনে হয না। অন্ত ভাটি গোলন্দাজ বাহিনীর কর্ণেল। ইউরীর তিনটি ভাইও যুদ্ধে গেছে, তাঁরা ভালই আছে -. একজন অবশ্ত মাঝে ভীষণ আহত হরেছিল। কিস্তু-যুদ্ধের যেন আর শেষ নেই, আরো মন্দ সংবাদের জন্ত ওরা প্রস্তত আছে। রাশিরার সকল নারী, সকল পরিবারেই অনুরূপ অবস্থা |

' আধার কাঞ্জার আওয়াজ পাওয়া গেল, এবার একটু জোরে, সে দিকে ফিরে দেখলাম

বদ্ধা একটি বিবর্ণ নীল কাপড়ে চোখ মুছছেন। তার সার। শরীর কাপছে, বাতাহত বৃক্ষের নোদূল্যমান ফলের মত তাঁর মাথাটি ছুল্ছ, নাতাশ! আবাঁর তার দিকে তাকাল কিন্তু কিছু বলল না। বৃদ্ধা উঠে দীড়ালেন, তার সেই ছুর্দমনীয় দুরন্ত ছোট নাতনীটিকে মাটিতে দাড় করিয়ে দিলেন, তারপর তার হাত ধরে একটিও কথা না বলে দোরের দিকে অগ্রসর হলেন।

নাতাশা বলে উঠলে__সেই ভালো মা, নীলাকে নিয়ে বরং পার্কে একটু বেড়িয়ে আনন, বাইরে একটু ঘুরে এলে দুর্ঘনের পক্ষেই ভালে! হবে, তবে বেশি দেরী করবেন ন|।

উত্তরে একটিও কথা না! বলে চোখ নামিয়ে বৃদ্ধা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, চোখের জল অপর লোকের চোখে যেন ধরা না পড়ে। |

মাদার রাশিয়।

নাতাশ। বল্লে--বেচারী কিছুতেই আর শোক সহ কবতে পাবছে না, ইউরীর মৃত্যু গকে একেবারে ভেঙে দিয়েছে এই ঘটনার পর গত চার মাসে প্র দশ বছর বয়স বেড়ে গেছে, এই হোল প্রাচীনপন্থী রাখিরান জননীর নমুনা |

_মার তুমি? আমি প্র করুলাম। বুঝলাম, ওর অন্তরে একটা সংঘাত চলেছে, তারপর যেন সেই অন্তত্্ৰি কাটিরে উঠে মাঁথাটি দ্রুত আনোপিত করে বলল-_

_আমাঁর কথ| বিভিন্ন, আমার অংশের কান্ীর অবসান ঘটেছে, আমার পাওনার চাইতেও অনেক বেশি। প্রথম সপ্রাহগুলি অসহনীঘ ছিল--চারিদিকে কেবল ইউরীকেই দেখতাম। আমার অবগ কোনো রকম কুসংস্ক(র নেই, তবু সে যেন আমার চোখের সামনেই ঘুরে বেড়াত। রাতের মন্ধকার দিনের চাঁইতেও কষ্টকর হয়ে উঠত--যেন আমার ল।মনে দাড়িয়ে আছেন-_ধেন আমাকে কিছু বল্তে চান। একটু থেমে মাথার আলুলায়িত লাল চুলগুলি স্থবিগ্যন্ত করে আবার শান্তভাবে হ্ৃরু কর্ল-_-“সে এক ভয়ংকর অবস্থা অবশেষে নিজেকে সংযত কবে নিলাম, কাজ আরপ্ত করলাম, বাইরে বেরোই, বন্ধুদেব সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, সভায় যোগ দিই -আর এখন ত" শান্ত হবে গেছি। তবে ইউরীর মার এই দুর্দশ!। দেখে কষ্ট হয়। আর যাই হোক আমাদের রাশিয়ানদের এই নিদারুণ বেদন। সত্বেও গর্ব কববার বা সাস্বনা পাবার মত অনেক কিছুই আছে। তারপর মামার ছেলেরা রয়েছে, শাসা ইউরীর প্রতিরূপ। সে এখন নেই, অপর ছেলেদের সংগে বনভোঙজনে বেরিয়েছে। আর একদিন এসে তাকে দেখে যাবেন,_সত্যি ভারী অদ্ভুত ছেলে এখনই বৈমানিক হয়ে যুদ্ধে গিয়ে জার্মান নিধন কর্তে চার আমাদের ছেলেরা এত জেনে গেছে, হরত খারাঁপ, আপনার কি মনে হয়?

তারপর হঠাৎ যেন কি মনে পড়ে গেল, তাড়াতাড়ি দের়ালের গায়ে টাঙানো মোটামুটি ভাবে তৈরী সেল্‌্ফের উপর থেকে অনেকগুলি পুরাতন সংবাঁদ-পত্র নিয়ে এল। কয়েকটি সংখ্যা তুলে নিয়ে আমাকে একটি দিয়ে নিজেও ছু একখানা হাতে করে বস্ল, তারপর লাল পেন্সিল চিহ্নিত একটি অংশ আমাকে পড়ার জন্ত অন্থরোধ কর্ল।

আর্টিক কেন্দ্রের এক রেল স্টেশনের ধারে পেট্টোভ| নামে একটি রাশিয়ান মেয়ে থাক্‌ত, তারই কাহিনী জার্যানরা স্টেশনের কাছে আগুনে বোম! ফেলেছিল, আগুন লেগে গেল, আগুনটা ক্রমেই কয়েকটি তেলের ট্যাঙ্কের কাছে পৌছতে লাগল, পেট্রোভা দেখলো এই অবস্থ। আগুনের গতিরোধ করার জন্ঘ সে দৌড়ে গিয়ে আগুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, আগুনটা যতক্ষণ না নিভে গেল ততক্ষণ সে তার ওপর গড়াতে লাগল।

বল্লাম_-সাহসী মেয়ে বটে!

নাতাণ! বল্ল--বরাতক্রমে মেয়েটির আঘাত লাগেনি, হয়ত গায়ে আগুন লেগে ওর মৃত্যুও ঘটতে পার্ত। কিন্ত তখন সে কথা তার খেয়াল ছিল না, তেলের ট্যাঙ্কগুলি রক্ষা করাই ছিল ওর সর্বপ্রধান চিন্ত। |

মাদার রাশিয়।

আর একখানি খবরের কাগঞ্জ খুলে লাল পেন্পিল চিহ্নিত আর একটি অংশ আমাকে পড়তে দিল। সেবাস্তপেল ফণ্টের পাঁচটি নাবিকের কাহিনী, যতক্ষণ পর্যন্ত ওদের মধ্যে ছুজনের মৃত্যু ঘটেনি গোলা-বাকদের অভাব ঘটেশি ততক্ষণ ওরা লড়াই করেছে। কয়েকটি ট্যাঞ্চ-বিধবংসী বোমা ছিল, নিজেদের কোমরে সেই বোমাগুলি বেঁধে নিয়ে অগ্রগামী জার্মান ট্যাঙ্কের গতিপণে ওরা লাফিয়ে পড়ল, জার্মান ট্যাঙ্কগুলিও ধ্বংস হ/ল, সেই সঙ্গে ওদেরও আর কোনে! চিহ্ন রহিল না।

নাতাশ! বল্ল-_-আপন জীবন দিয়ে ওরা ট্যাঙ্কের আক্রমণ প্রতিহত করল--অমৃল্য জীবন! ধীরে ধীরে, অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে, তাদের নাম উচ্চারণ কর্ল, “নিকোলাই ফিলসেংকো ভ্যাসিলি সিবুলকো1, ইউরী পাশিন, আইভ।ন ক্র্যান্নে।সেলক্কি, ড্যানিয়েল ওদিন,” যেন একটি প্রার্থন৷ মন্ত্র উচ্চারিত হ'ল। যে নামগুলি পঠিত হল সেই দিকে চোখ রেখে চুপ করে রইল, তারপর বল্ল, “এই কারণেই আমার অন্তর আশী পূর্ণ, এই রকম কোটি কোটি ছেলে- মেয়ে আমাদের আছে, জার্মানরা আমাদের যাই করুক, অবশেষে আমর! বিজয়ী হবই। আমরা পরাজিত হব না |”

নিদারুণ ব্যক্তিগত শোকের ভিতর এই তরুণী জননীর মুখে এই কথা শোন! আশাজনক। এইত উন্চ মনোবলের পরিচয় সৈন্ত বা বেসামরিক ব্যক্তিবুন্দের এই জাতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের মধ্যেই সে পরিণমে বিজয় সম্তাবন| লক্ষ্য করেছে।

আর সে একা নয়!

রাশিয়া! এক পরম তথ্য-_

হয় আমাদের কালের পরমতম তথ্য রাঁজনীতি, পক্ষপাত বা ক্রোধ ভুলে যান_- রাইখের বিপক্ষে এই কোটি কোটি রুশ সৈগ্ভবাহিনী যদি 'না লড়ত, বিধ্বস্ত মুরোপের অধিবাসীরা আজ কোন্‌ সংস্কৃতি বা সভ্যতার গৌরব করত? রাশিয়া আক্রান্ত হয়েছে তাই লড়ছে, তাকে লতেই হবে, কিংবা লড়াই না করার অর্থ--মবনতি ধ্বংস বরণ করে নেওয়া, কিংব| প্রথম আক্রমণের স্থযোগে জার্মানী রাশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল অধিকার করেছে, রাশিয়ার শিল্প, কৃষি বা গৌরবের মূলে তীক্ষ আঘাত করেছিল, কিন্তু সে সব বড় কথা নয়। রাশিয়া লড়ে চলেছে. “জার্মানীর সৈন্য, রণসস্তার ধবংদ করে চলেছে। রাশিয়ার জন্য সমগ্র “যুরোপের অধিকারী”--এই কথা ঘোষণ। কর! হিটলারের পক্ষে সম্ভব হ'ল না, আর রাশিয়া তার পক্ষে পরাজিত অঞ্চল বিশ্ব-মানবের চূড়ান্ত বাটোয়ারা করাও অসম্ভব করে তুল্বে।

এইখানে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে

প্রথম মহাযুদ্ধে, যুক্তরাী্ সমর বিভাগের সংকলিত তথ্য অনুসারে, রাশিয়! ১২ কোটি সৈন্ত যুদধার্থ সম্মিলিত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র সহ মিত্র পক্ষের ছিল ৪২ কোটী সৈন্ত। গ্রথম মহাঘুদ্ধে নিহত ১,৭৭৩,৭*০ জার্মান সৈন্ের মধ্যে, রুপীয় তথ্য অনুসারে এক কোটি

8

সাদার বাশিয়।

সৈন্ত এই রুশ সমরাঙ্গণেই নিহত হরেছিল। এই সংখ্যাব ভিতর জার্মানীর মিত্রপক্ষতুক্ত সৈম্ঠ, বিশেষত অস্টিয়া, হাঙ্গেরী ব৷ তুকাঁদের ধরা হয়নি |

বিপ্লব স্থক হ'ল -

যুদ্ধ সমাপ্টির পূর্বেই, ঘরের! সংঘধে বিরত এবং সমর-ক্লান্ত রা শযা স্বতন্ত্র চুক্তি কর্তে বাধ্য হয়। তবু রাশিয়ায় যে-নিদারু; আঘাত জার্মানী পেনেছিল তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভবপর হঘনি বলেই মিব্রপঞ্ষের সম্মিলিত শক্তির কাছে তাকে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল। পরে যদিও শুধু মাত্র পশ্চিম ঘ্বণ্টে জার্মানী বুদ্ধ করেছিল, বিধ্বস্ত হয়ে তাকে অবশেষে সন্ধি স্থাপন কর্তে হর়েছিল।

এইবরের যুদ্ধে রুশ সমরাগণের যুদ্ধ-বিগ্রহে জার্ানী যে বিরাট আয়োজন করেছে, সমরোৌপকরণ যে ভাবে প্রতিদিন প্বংল হচ্ছে, যে ভাবে প্রত্যহ লেকক্ষয় হচ্ছে, তাতে তার প্রাণশক্তি ক্রমশই নিঃশেবিত হতে চলেছে।

যে কোন জাতি, ব! সম্মিলিত জাতি চূড়ান্ত আদাত হান্ুক, রাশির শুধু জার্মানীর অপরিসীম ক্ষমতা অগ্রতিহত গঠি রোধ করেছে তা নয়, হিটলারের রাইখের উচ্ছৃঙ্খল গর্ব বিস্ফোরক আত্মবিশ্বাসের মূলে? কুঠারাপাত করেছে প্রথম মহাযুদ্ধের চাইতেও বর্তমান রাশিয়ার এই ভূমিক! এই বুদ্ধে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হরে দাঁড়াবে। এই গ্রগ্থ রচনার কালে, অর্থাৎ রুশ-জার্মান যুদ্ধের কুঁড়ি মাঁন পরে, রাশিরা পৃথিবীর বৃহনম সমরাঙ্গণে একক যুদ্ধ করে চলেছে।

সোভিরেট রাশিয়। এযাংলে। স্যান্সন জগতের মধ্যে বছ পারস্পরিক অভিযোগ আছে। প্রায় পচিশ বছর ধরে তীব্রভাবে তাঁরা কলহ করে এসেছে। উভয়ের মধ্যে এতটুকু মত্রী নেই, শুধু বিরোধই আছে। এক পঞ্ষের রাজনীতিগত মত পথ অপরের কাছে এখনও হয়ত আতংক ধ্বংদকর বলে মনে হয। ইংরাজী ভাষাভাষী দেশসমূহের সঙ্গে রাশিয়ার যে বিস্তীর্ণ আদর্শগঞ্ঠ সামাজিক বিভেদ আছে, এখন উভয় পক্ষের এই সমান বিপত্তিতে সমান শত্রর সম্মুখে সে কথা অস্বীকার করে লাভ নেই। ভবিষ্যৎ ক(লে_মতীতের জার শ।পিত এবং বর্তমানের সোডিরেট রাশিরা সম্পর্কে পুঝাতন এবং নৃতন অভিযেগের কালে হয়ত আবার নৃতন রেষারেধির সৃষ্টি হবে। ব্ঞ্তিগত জীবনের মত ইতিহাসেও মানুৰ শুধু মঙ্গলেরই আশ! রাখে, তবে সে আশ।র পরিপূতি্ন জগ্ত অতিরিক্ত নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়।

বাষ্নেভারা যদি বর্তমানক।লের মতভেদের আবসান ঘটিরে, আভান্তরীণ শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে নয় (এ কপ! এখন অচিন্ত্যনীর ), তবে বৈদেশিক আন্তর্জাতিক অংশীদারী সম্পর্কে একট! সর্বদলগ্রাহ্য নীতি পদ্ধতি উদ্ভাবন না করতে পারন, তবে রাশিরা ইংরাঙ্গী ভাষ-ভাবী দেশ গুলি যে বৃহত্তর বিপত্তির মধ্যে জড়িয়ে পড়বে একথ৷ নিঃসন্দেহে বলা চলে

নিজেদের মতবাদ যতই বিভিন্ন হোক্‌, জার্মান সেনাবাহিনীর সংগে ভীষণ ভাবে অবিচ্ছিন্ন গতিতে সংগ্রামের কালে রাঁশিরাকে যথাক্রমে নিজের এবং ইংরাজ মামেরিকার স্ব স্ব মতবাদ জীবনযাত্রার ভঙ্গী অঙ্ষুণ রাখতে হয়েছে রাঁশিরানরা এখন প্রায়ই বলে, জীবন নয় মৃত্যুই ত' আদল, শক্রর মৃত্যু, তাদের বিশ্বাস স্বপ্নের, তাদের পরিকল্পনা

সস

মাদার রাশিয়।

পদ্ধতির, তাদের মানবিক ওযাস্বিক শক্তির অবদানেই ত+ রাশিয়া এবং যুরোপের অন্ঠান্ বিজিত জাতিসমূহের জীবন ভবিষ্যতের প্রতিষ্ট৷ পুনরার সম্ভব হয়ে উঠবে

দূরধিগম্য ছুর্গম বলে, চীনের মত, রাশিনীকে ৪, মপেক্ষাকৃত উন্নত শিল্পোন্নত জাতি-সমূহ__তার বিশাল জন-সংখ্যার অন্থপাতেই বিচার করে ) পৃথিবীতে এরা আমে অজ, তারপর সংখ্যান্ুপাতে মহামারী, মন্বন্তর, বন্যা! ইত্যাদি দুর্ভোগ ক্লেশ ভোগ করে আর সংখ্যান্থপাতেই লড়াই করে মরে।

আমর! কানফুপিয়স্‌ সান্-ইয়াংসেন, টপস্টর শেকভের কণা শুনেছি এই সব নাম আমাদের কাছে ম্মরণীয় বরণীএ। এরা কিন্তু স্থ উচ্চ পর্ব তশিখর, কুয়াশ। মাখানো নীচের সমতল ভূমিকে ছায়াবৃত করে রেখেছেন আমাদের অনেকেরই ধারণা যে, রাশির! এবং চীন বিশেষত্ব-বিহীন বিশাল স্তুপ মাত্র, একট! প্রাণবান স্বয়ংবহ, স-চল যন্ত্রবিশেষ। নিজন্ব মত বলে কিছু নেই, আর ষা আছে তা প্রকাশের অতি সামান্য ক্ষমতাই আছে। সুতরাং বৈশিষ্টের কোনো দাঁবী নেই, যেন এদের ব্যক্তিগত অস্তিত্বই নেই।

রাশিয়ার জনগণ সম্পর্কে এই প্রকার ধারণার হেতু সোভিখেট বিপ্লাব, তার তীব্র সাম্যবাদী অভীগ্ন|, ঘটনা প্রাচুর্য আর স্থ-দৃ রাজনৈতিক নিরামক তন্ত্র

' তবু-_এই নাতালিরা গ্রীগ্রীয়েভনা শুধু যে রুশ সৈনিকের ব্যক্তিগত বীরত্বে অনু

প্রাণিত হয়েছে তা নয়, বাঁশিরাঁর অপরাজেয়তা তার অবগ্রন্তাবী জর সম্পর্কে ওর মনে একটা স্থির বিশ্বাস জন্মেছে তার এই বিশ্বাসের মধ্যে হয়ত বস্ততান্ত্রিকতা অপেক্ষা ভাব- প্রবণতারই আধিক্য আছে। জার্মান রাইখের মত অশেষ শক্তিশালী যাস্ত্রিক-বাহিনী__ যারা সমর-বিজ্ঞানের প্রচলিত রীণত উপেক্ষা করে চলে, তাদের পরাজিত করতে চরমতম ব্যক্তিগত বীরত্বের চাইতেও বেশি কিছু বস্তর প্রয়োজন

রাশিয়। যদি আমাদের কানের পরম তথ্য হয়,__ অপ্রত্যাশিত তথ্য--তাহ'লে প্রত্যেক সৈনিকের ব্যক্তিগত-বীরত্ব সেই বিপ্লবী তথ্যের এক একটি অংশ, গাছের প্রাণনধ্ারক রসের মত-_যেমন রসের অভাবে গাছের অস্তিত্ব অসম্ভব রুশ সৈনিকের ব্যক্তিগত শৌর্ধের অভাবে রাঁশিয। হয়ত পদদলিত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে ষেত। বর্তমান কালের জার্মানী শুধু ষে রাশিয়ার নৃশংস শব্র তা নর, রাশিয়ার পক্ষে জার্মানী ছুর্দম শক্ু। শুধু সৈ্ঘ-বাহিনীর উপ্র নয়, অ-সাঁমরিক অধিবাসীদের উপরও জার্মানী যে বীভৎস হত্যালীল! চালাচ্ছে, তা থেকে মনে হয় উভয় শ্রেণীকে সম্পূর্ণ ধংস করাই তার উদ্দেশ্ত। রঃ

রুশ সৈশ্ঠবাহিনী পুনঃপুন যে পরাজয় বিপর্যয়ের নিদারুণ ছুঃলময়ের সম্মুখীন হয়েছে তাতে রাইখের সৈন্তবাহিনী রুখ বার জন্ত ছুঃসাহস অবিচল নিষ্ঠার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি |

রাঁশিয়ার সকল ছেলেমেয়ে কাণ্চেন গ্যান্টেলোর কথ! শুনেছে এককালে তিনি মস্কৌর কারখানার শ্রমিক ছিলেন। বুদ্ধের সময় বিমান বহরে যোগ দিয়ে 8বমানিক হিসাবে কাণেনের

মাদার রাশিয়।

পদে উন্নীত হয়েছেন! ১৯৪১এর ৩রা জুলাই একটা বিমান যুদ্ধে তিনি তাহার বাহিনী অংশ গ্রহণ করে। স্থলে আকাশে সমন্তর'ল যুদ্ধ, গ্যাস্টেলোর পেট্রোল ট্যাঙ্কে একটা সেল্‌ এসে ফাট্ল, তার বিমানে অগুন লাগ্ল, প্যারাস্্টের সাহাফো তার নিরাপত্া সস্ভাবনা ছিল। তিনি অবতরণের চেষ্টাও করতে পারতেন, কিন্তু তা করলেন না। তিনি স্থলভাগের সংগ্রামরত রুশ বাহিনীকে সাহাধ্য করবেন স্থির করলেন। ককৃপিটে আগুন লেগে সেটি 'অগ্সি পরিবৃত হতে মাত্র কষেক মিনিট বাকী,_জীবন মৃত্যুর মধ্যে সামাগ্ত অবকাশ-বিমান ক্রমশই নীচে নাম্ছে তবু তখনো শিয়ন্ত্রণাতীত হয়নি। গ্যাস্টেলো বিমান নিয়ে আর উপরে উঠতে পারেন না বটে কিন্তু আরো কিছুঙগণ তার পতন রোধ করতে পারেন দেখ লেন জার্মানবাহিনীর কিছু তৈপবাহী ট্রাক আস্ছে। গ]াস্টেলো বিমাঁন নিয়ে সেই ট্রাকৃগুলির উপর ঝাপিয়ে পড়লেন__সঙ্গে সঙ্গে বিরাট বিস্ফোরণের আওয়াজ শোন! গেল--ট্রাকের পর ট্রাক আগুন লেগে ধ্বংস হবে গেল।

গ্যাস্টেলো সেই সঙ্গে নিঃশেষিত হলেন

সেই থেকে বহু রাঁশিরান এই মহৎ উদাহারণ অনুসরণ কবে আস্ছেন। গাস্টেলোব নাম আত্ম বলিদান সৈনিকের দুঃসাহসিক শৌর্ষের প্রতিন।ম হয়ে উঠেছে

আমি অবনত বল্তে চাই না ষে, সকল রুশ সৈনিকই শৌর্ধ বীরত্বের অবতার হথে উঠেছেন, তা হয়নি, সৈন্ত বাহিনীতে এমন লোক৪ ধিনি আছেন ট্যাঙ্কের গঞ্জন, জার্মান রণ-কাঁশলের প্রচণ্ড আওয়াঞ্জে সন্বন্ত হবে পালিখেছেনন। এই সব ব্যক্তিদের আক্রমণ করে সংবাদপত্রে তীব্র গ্নেষপুর্ণ সম্পাদকীর নিবন্ধ প্রকাশিত হথেছে। শক্তিমান জার্মান বিমান বহরের চাপে অনেক রুশ জেনারেল পিছিরে এসেছেন। ১৯৪২ শ্রীপান্ষে রস্টোভ থেকে রাশিয়ার পশ্চাৎপসরণ সম্পর্কে একজন রুশ আমাকে গোপনে বলেছেন, “এই পশ্চাদপসরণ আমাদের কলঙ্ক অত্যন্ত লজ্জার কথা”। কুশ সেনাবাহিনীর সরকারী মুখপত্র “রেড স্টার”, সেই মুল্যবান সর্বনাশ! ক্রটার জন্ত দায়ী সেনাপতিদের সম্পর্কে জুম্পষ্ট মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।

সোভিয়েট প্রতিষ্ঠার পর আর সব বিষয়ের ক্রটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে রুখীয়ের! যেমন প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করে এসেছে, সামরিক ক্রটি বা ভ্রান্তি সম্পর্কেও তারা অন্তর্ূপ সমালোচনা করে থাকে

রস্টোভের পশ্চাদপসরণের এক সাহিত্যিক উপসংহার কণিঢুক রচিত “100” নামক নাটকটিতে বিশেষ প্রাধান্ত পেয়েছে তথাকথিত বে-পামরিক বুদ্ধবিশারদ সম্পর্কে তীব্র মন্তব্য এই নাটকে আছে। আত্মমর্ধাদা, একাগ্রতা, রাজনৈতিক নিষ্ঠা, অপরিনেয় ব্যক্তিগত ত্যাগ, এই সব ব্যক্তিদের সৈম্ত বাহিনীতে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানজনক আসন দান করেছে, কিন্তু তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক ব্যক্তিই আধুনিক উন্নত ধরণের যান্থিক যুদ্ধের সমর কৌশল আয়ত্ত করতে পেরেছেন। জার্মান সাড়াশী বাহিনী তাদের ব্যাহত করেছে, জার্মান সেনা সন্নিবেশ তাদের গতিরোধ করেছে এই নাট্যকার বলেছেন, অলসতার জন্ত রাশিয়।কে লোমহর্ষক মূল্য দিতে হয়েছে। অতুলনীয় মস্কৌ 'আর্ট' থিয়েটারে যখন এই নাটকটির

সাদার রাঁশিয়।

অভিনয় দেখেছিলাম তখন দেখা গেল যে, বে-সামরিক সমর-নায়ক সম্পর্কে দর্শকরা দ্বণায় উত্তেজিত হয়ে উঠেছে যে সব অপেক্ষাকৃত তরুণ সমরনেত! তাদের অপসারিত্ত কর্তে চায় তাঁদের সম্পর্কে বিশেষ উৎসাহ প্রদর্শন কর্ছে। মস্ত আর্ট থিয়েটারের এঁতিহাসিক রীতি অমান্ত করে নাটকাঁতিনরের মাঝেই পুনঃপুন তাদের স্থতীব্র অনুভূতির প্রকাশ লক্ষ্য করলাম। কোটী লোকের সেনাবাহিনীতে কয়েকজন ভীরু জয়ের লোক থাঁকা স্বাভাবিক ; যেমন চষা] জমিতেও ছু একটি আগাছা থাকা সম্ভব

রুশ সৈনিকদের ব্যক্তিগত দুঃসাহসিক প্রচেষ্টার এমনই অসংখা উদাহরণ পাওয়া যায়। মসি-মলিন আকাশের ছায়াঘন অন্ধকারের ভিতর যেমন অগণিত উজল-তারকার আলো দ্যতিমান, তেমনই এই সব বীর সেনানীর দুঃসাহপিক কার্ধকল৷প র৷শিয়ার দুঃসহ ছুর্দিনের আধার আকাঁশ আলোয় ভরিয়ে তুলেছে নাতালিয়া গ্রীগ্রীয়েভনার মত, স্বদেশের মেয়েদের অস্তরে তাদের কার্ধাবনী এনেছে উৎসাহ উদ্দীপনা, আর বৈদেশিক দর্শকের মনে জাগিয়ে তুলেছে সশ্রদ্ধ বিশ্ময়।

একটি ট্রাঙ্ক বাহিনীর চারজন সৈনিক শত্রুর কাছে এসে পড়েছে, তাঁরা আত্ম-সমর্পণ করতে নারাজ, তাদের ওপর আগুন ভাঁর গলিত ইস্পাত বধিত হচ্ছে। তার! তবুও অদম্য উৎসাহে গুলি ছু'ড় ছে, এই ভাবে যুদ্ধ করা নিরর্থক তারা জানে কিন্তু তাদের মনে তখন আত্মরক্ষ! অপেক্ষা শক্রর ক্ষতি করার চিন্তাই সর্বপ্রধান। তাই তার! লড়ছে-ট্যাঙ্কে আগুন লাগূলো, তখনও আত্ম-সমর্পণের সময় রয়েছে, শত্রুদল তখনও আত্ম-সমর্পণের সুযোগ দিতে চাঁয়, এর! কিন্তু সে প্রস্তাব ঘ্বণীভরে প্রত্যাখ্যান কর্ল'.'শেষ মুহুর্ত আসন্ন হয়ে আঁস্ছে, তারা তাড়াতাড়ি কছচেকটি কথা লিখ ল--পরে সেই বাণী পাওয়া গিছল-_

“আমাদের জীবনের এখন অস্তিম মুহ্র্ত--মামাদের ওপর কেরোপিন বধিত হচ্ছে আমাদের চরম সমাপ্তি আদ বিদায়, বিদার।”

আগুনে পুড়েই তারা শেষ হল।

কামানের আওয়াজ আর যুদ্ধগ্গে ত্রের অতি নিকটে ওরেল প্রদেশের এই মুরাভিযোভকী গাম চমৎকার ফসল হয়েছে ধরার 'মীচল প্রচুর শস্তে পরিপূর্ণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিষাণরা এই বহুমূল্য ফসল কেটে চলেছে, বোমার আওয়াজ বা কামানের আগুন কিছুই তাদের নিরস্ত করতে পারেনি, এমন কি শিশুরাও কাজে এনে লেগেছে। আকাশে ষখন জার্মান বিমান দেখা যায় তখন তার! তাড়াতাড়ি নিকটস্থ বিমান আক্রমণ প্রতিরোধক আশরয়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে, তারপর মাথার ওপর জার্মীন-বিমানের ইঞ্জিনের সর্বনাশা গুঞ্জনধ্বনি শেষ হলেই আবার কান্তেকোদাল নিয়ে মাঠে ফিরে এসে ফসল-গুচ্ছ বাধ তে বসে।

. এক বৌন্রকরোজল মধ্যাহ্ছে জার্ান বিমান থেকে অসংখ্য প্রচার পত্র এসে পড়ল,

নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেউ ফসল কেটোনা-_

কিষাণর! কিন্তু সেই নির্দেশনাম৷ উপেক্ষ। কর্ল।

৮৮

মাদার রাশিয়া

পরদিন উড়ে আসে জার্মান “ফকৃ-উল্ফ" বিমান--মাবার মেসিনগনের গুলী বর্ষণ স্থুরঃ হুর, কিষাণর তাড়াতাড়ি আশ্রয়ের ভিতর ছুটে গিয়ে মুখ লুকোয়। ফমলভরা ক্ষেতের ভিতর থকেই এদিক থেকে আগ্েয় অস্ত্রের পাল্টা জবাব চলে। রুশ বিমান “[756)8)0%” _কিষাণদের আদরের নাম “বাজ”_-আঁকাঁশে উঠে পড়ে জার্জাণ বিমানকে তাড়া করে। ঈগার্মান বিমান বাহিনী আগ্নেয় অস্ত্রের স্ৃতীব্র আওয়াজ ক্রমে মিলিয়ে আসে

মুরাভিরোভ কীর বুকে বিষাদের দিন ঘনিয়ে আসে--একটি ষাট বছরের বুড়ীর বুকে কামানের টুকৃরো ছিট্‌কে এল, তার মুখ বেয়ে রঞ্ গড়িয়ে পড়ল, হাতের সোনার ফসল রক্তের রঙে রাঙা হয়ে গেল।

দলে দলে গ্রামবাণী এসে যোগ দিল তার সেই অন্তিম শোভাষাত্রায়, তারপর চোখের জল আক্ষেপ, পণ প্রতিজ্ঞার মার অন্ত নাই। বৃদ্ধার সমাধিতে একটা মালা দেওয়া হল__ বথারীতি শাদা কর্ণ ফ্রাওয়ারের মাল! নর, রক্ত রঞ্জিত সোনালী ফসলের গুচ্ছে সেই মাল৷ গাঁথা **

রাতে মান তারার মালোর় ক্ষেতে কাজ করার জন্ঠ কিষাঁণরা ফিরে গেল। বুদ্ধ বৃদ্ধা, যুবক-যুবতী, শিশুর] সবাই ক্ষেতে কাজ কর্ছে, নিকটস্থ ছাউনীর সৈনিকরাও সাহায্য কর্ছে, কোমরে বন্দুক বেঁধে হাতে কান্তে নিয়ে সৈন্তদল ফসল কাটার কাজে লেগেছে। প্যারাস্থট বাহিনীর কেউ ক্ষেতে নেমে পড়লে এরাই সর্বপ্রথম তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে।

হাতে কাচি নিয়ে ছেলের দলও এগিয়ে চলেছে, কাস্তের হাত এড়িয়ে যে ফসল তখনও ঝুল্ছে তারা সেইগুলি কাছে সুদূর সাইবেরীয় গ্রাম “বলশীয়া সঙ্গে'র-সৈনিক সার্জেন্ট সালতু্কীন এদের দলে আছে, লোকটির ডান হাতটি নেই, কেটে বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্ত বাম হাতটি ভাঁলো, সেই হাতেই একটি কাচি নিরে তিনিও ফসল কাট্‌্ছেন, একটি গুছিও বাদ পড়ে না।-_দ্রুতগতিতে কাজ হচ্ছে, সবাই খুসী হয়ে কাঁজ করে চলেছে, মাথায় ওপর ত' জার্মান বিমান নেই, গান গেয়ে কাজ করে চলেছে সবাই, খুব জোরে নয় বটে, তবে আবেগ দরদের অভাব নেই।

প্রভাতে আবার শক্র বিম।ন দেখা যায়, তখন কিন্তু ফল কাটা শেষ হয়ে গেছে। নাতালিয় গ্রীগ্রীয়েভিনার৷ যখন এইসব কাহিনী শোনে বা পড়ে তখন তাদের দেহে রপ্ত নাচে, তাদের বিশ্বাস দ্বিগুণিত হয়ে ওঠে, গৌরবে তাদের বুক ভরে ওঠে, আবার তাদের অন্তরে আশার বাণী জাগে --“আমরা জয়ী হবই, জয় আমাদের ।” নাতালিয়াদের কাছে এই বাণী অর্থহীন শুন্তগর্ভ কথা নয়। গভীর অর্থে পরিপূর্ণ

রাশিয়ার স্কুল পাঠশালার ছেলেমেয়েদের অপূর্ব শৌরের জন্যই তারা এইসব কথা অধিকতর আবেগভরে বলে। এই বুদ্ধের এক উদ্দীপনাময় অধ্যায় রচনা করেছে এই ছেলে মেয়েরাই। রাশিয়ার ইতিহাসে অনুন্নপ অধ্যায় বিরল। অবস্থা তাদের কল্পনাতীত, এম ওপর কেউ আস্থা রাখেনি

মাদার রাশিয়া

বিগ্ভালয়ের নির্ধারিত পাঠ্য পুস্তক অধ্যয়নশীল, অতি সাধারণ ছেলেমেয়ে এরা বাড়ির লোকজন আর সহপাঠী দল ভিন্ন আর বিশেষ কেউ এদের জানে না, শোনেনি কখনও এদের কথা, তারা নূতন, তাই তাদের কাজও সম্পূর্ণ নূতন বীরত্ব আত্মত্যাগের খ্যাতিতে সম্মানিত সেনাপতি বা সেনাশ্নারক এর! নয়, তবু এরাই জাতির কাছে শিরোমণি, এরাই তাদের কাছে সবশরেষ্ঠ সম্মান শ্রদ্ধা পেয়েছে। এর] তাদের পরিবার, গোষ্ঠী বিগ্ভালয়ের গৌরব, তাদের গ্রাম বা শহরের খ্যাতি বৃদ্ধি করেছে। সমগ্র রাশিয়াকে এর! অপুর্ব ম্ধাদামণ্ডিত করে তুলেছে ! ংবাঁদ-পত্রে বক্তৃতামকে এই আদর্শ সকলের অনুকরণীয় বলে এদের প্রদশ্লিত পথই সবাইকে অন্থসরণ কর্তে অন্গরোধ করা হয়েছে, লক্ষ লক্ষ প্রাণীকে তারা আশা নিরাশায় কাদিয়েছে__এরা রাশিয়ানদের যারা তাদের কথা জেনেছেন তীদের কল্পনাকে আন্দোলিত করে তুলেছেন, আধুনিক কালে আর কোনে। কিছুই মানুষের মনকে এইভাবে নাড়া দিতে পারেনি এরাই জাতির সমর-নায়ক |

এই কারণেই আমি এইখানে এই তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সমধিক খ্যাতিসম্পন্ন তিনজনের কথা লিপিবদ্ধ কর্ব--একটি ছেলে আর দুটি মেয়ের কাহিনী সোভিয়েট সম্পর্কে, ব৷ তার অর্থনীতি, সমান্্নীতি বা রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে, আমাদের মনোভাব যাই হোক না কেন, এই কাহিনীগুলি যে অনন্পাধারণ ব্যক্তিত্ব শোর্ষের পরিচয় দেয়ঃ তারা রাশিয়ার অচিন্ত্যনীয় দেশভক্তি ছুর্দমনীয় শক্তির উৎসের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রচুর তথ্য অসংখ্য হিসাব নিকাশের চাইতেও সবের মূল্য অনেক বেশি।

১৪

ঢুই সু

প্রশস্ত উন্ুক্ত মুখমণ্ডল, লক্ষ কর্বার মত কাঁন, গোল চিবুক, চওড়া কপাল বড় টুপীর ভিতর থেকে দেখা যায়, কানের পাশ দিয়ে লম্বা চুল নেমে এসেছে, জোড়া ক্রর নীচে বড় বড় ছুটি সচতুর সৌম্য চোখ, মুখে দৃঢ়তার ছাপ, চোয়ালের বন্থিম প্রান্তরেখ৷ ঘাড়ে এসে থেমেছে। এমনই আক্কৃতি ছিল আলেকজাগার বা সুর! চেকালীনের রাশিয়ার অন্ঠতম সমর-নানক এই ষোল বছরে স্কুলের ছাত্রটিকে জার্মানর! ফাঁসী দিয়েছিল। ছবির দিকে তাকিয়ে থাকৃলে কল্পনা করাও কঠিন হয়ে উঠে যে এই ছাট ছেলেটি কোথা থেকে পেল এত ছুঃদাহস, এত দৃঢ়তা ! কোথা থেকে সে তার এই সংগ্ষিপ্র জীবনে এতখানি শৌর্ধ সঞ্চয় করেছিল যদি যুদ্ধ না হত তাহলে জাতীর বা! স্থানীয় জীবনে এমন কি সারা জীবনেও সে এতখানি খ্যাতি প্রতিষ্ঠা অর্জন কর্তে পারত না। তার স্বগ্রাম তুলা

প্রদেশের পেদ্কোভড স্কই-এ যুদ্ধ পূর্বকালের মত স্কুলের একজন ছ'ত্রহিসাবে নিজের,

সহপাঠীদের কাছে জনপ্রির, বাপ-মার আদরের নিধি, ছোটভাই ভিট্যার (খুব ভালো না হলে সেও উপেক্ষণীয় নয়) পৃজনীয় শুধু সুরা চেকালীন হিসাবেই পরিচিত থাকৃত। মাঁজ তার নাম রাশিয়ার সর্বত্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।

আমি নগরে নগরে, পার্কে, স্কুলভবনে, মুুজিরমে সর্বত্র তাঁর ছবি দেখেছি বহু বক্তৃতায় সরা চেকালীনকে শৌর্ধ আত্মাহুতির প্রতীক হিসাবে উল্লেখ কর্‌্তে শুনেছি। সোভিয়েট তরুণদের দৈনিক পত্রিকা “কম্দোমলস্কায়! প্রাভদ1”র ষে-উদ্দীপনাময়ী ভাষায় বার বার তার কথা বঙ্গ! হয, অন্ঠ দেশে শুধু পরিণত বরসের, সারাজীবন ব্যাপী সাধনালন্ধ খ্যাতির অধিকারিগণ সেই ভাবে উল্লিখিত হয়ে থাকেন

সুরার কাহিনীই তার পরিচয় দিক-_

১৯২৫ থুস্টাব্ধের মার্চ মাসে তার জন্ম হয়, ওদের গ্রামের চারদিকে শ্বাপদসন্কুল গভীর অরণ্য ওর-বাবা ছিলেন শ্রীকারী, এই অরণ্য তাঁর কাছে স্বর্গ বিশেষ স্থরার কাছেও এই অরণ্য ছিল সীমাহীন আনন্দ উৎসব আরণ্য বন্যজীবন তীর প্রিয় ছিল, বহুবার তার -শীকারী বাপের সহচর হিসাবে এই অরণ্যে সে ঘাতায়াত করেছে। অতি অল্প বসেই গুলী ছুঁড়তে শিখেছিল, মাকে কোনো কথা না শুনিয়েই বন্দুক কাধে নিয়ে সে বেরিয়ে পড়ত। তারপর খরগো!স আর বন্যপাখীর বোঝা নিয়ে ফির্ত।

স্থর৷ চেকালীনের আর একটি খেলা ছিল মাঁছধর1--জাল, ছিপ আর বন্দুক নিয়ে

সে মাছ ধরত। বসন্তের দিনে কোনো গাছের তলায় বা স্লাকোর নীচে বসে একমনে প্রবহমানা

১৯

মাদার রাশিয়া

নদীর জলের দিকে তাকিয়ে থাকৃত, আর সেই জলে মাছের সন্ধান পেশেই বন্দুক চালাত এইভাবে অনেক মাছ সে ধরেছে। এই বালকের দুঃসাহসিক হুর্দমনীয় প্রবৃত্তি শরীকার মাছ ধরাতেই শেষ হয়নি, ঘোড়াও তার প্রিয় ছিল, কি ভাবে তাদের বশ করতে হয় তাও জান্ত, গ্রামের মধ্যে সে ছিল একজন পাকা সওয়ার রেকাবে পা না দিয়ে এমনই ঝাঁপিয়ে চড় সে ছুরস্ত ঘোড়ার নগ্ন পিঠের ওপর--তারপর মুহুর্তের মধ্যে দ্রুতবেগে দৃষ্টির অন্তরালে চলে যেত, এই ভাবে প্রারই সে চলে যেত, কিন্ত কোনোদিন কিছু দুর্ঘটনা ঘটেনি। ওর বাপের একটি 'মৌমাছি পালনাগাঁর ছিল। মৌমাছি পালনে স্থরারও আগ্রহ কম ছিল না। মৌমা"ছ পুষতে সেও শ্রিখেছিল, বন্ত মৌমাছির প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তাদের কিভাবে গাছের কোটরস্থিত চাকে রাখতে হয় তা সে শিখেছিল। এই ধরণের গাছ কেটে,_মধু আহরণ করে বাড়িতে মার কাছে নিয়ে আসা তার কাছে বিশেষ আনন্দের ব্যাপার ছিল।