প্রথম স্ারয়েল্ট.. সংস্বনাথি শ্রা ১৩৬০ . |

শ্যামাচরণ দে স্ক্রশট কাঁলকাতা ৯২

হরেন্দ্রনাথ চক্তবতর্শ অ_দ্ুক

কালশচরণ পাল নবজশবন প্রেস

৬৬ গ্রে স্ট্রীট কাঁলকাতা

ছঁব প্রচ্ছদ'পট মুদ্রক

মোহন প্রেস কারস চার্চ লেন

কাঁলকাতা

প্রথম সংস্করণের মুখবন্ধ

আমার আত্মচরিতের বাংলা সংস্করণ প্রকাশিত হইল। আমাদের দেশে রসায়নাবদ্যার চর্চা এবং রাসায়ানক গোষ্ঠী গঠনের একটা ধারাবাহিক হাতহাস ইহাতে 'লাঁপবদ্ধ হইয়াছে। তদ্ব্যতীত প্রায় অর্ধশতাব্দীব্যাপী আঁভজ্ঞতামূলক সমসামায়ক অথ-- নীতি, শিক্ষাপদ্ধাত তাহার সংস্কার, সমাজ-সংস্কার প্রভৃতি 'বাঁবধাবষয়ক সমালোচনা এই পদ্তকের বিষয়বস্তু হইয়াছে

বাঙালী আজ জাবনমরণের সন্ধিস্থলে উপাঁস্থত। একটা সমগ্র জাতি মান্র কেরানণ বা মসীজীবী হইয়া িকিয়া থাকতে পারে না; বাঙাল এতদিন সেই ভ্রান্তির বশবতাঁ হইয়া আসিয়াছে এবং তাহারই ফলে আজ সে সকল প্রকার জীবনোপায় কর্ক্ষেত্ত হইতে বিতাঁড়ত। বৈদেশিকগণের কথাই নাই, ভারতের অন্যান্য প্রদেশস্থ লোকের সাঁহতও জীবন-সংগ্রামে আমরা প্রত্যহ হটিয়া যাইতোছি। বাঙালখ যে এনজ বাসভুমে পরবাসী” হইয়া দাঁড়াইয়াছে, ইহা আর কাঁবর খেদোন্তি নহে, রূঢ় নিদারুণ সত্য। জাতির ভাষ্য যে অন্ধকারাবৃত, তাহা ব্টাঝতে দূরদ্ান্টর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তাই বলিয়া আশা-ভরসায় জলাঞ্জীল দিয়া হাত গুটাইয়া বাসিয়া থাকলেও চাঁলবে না। 'বৈষবী মায়া” ত্যাগ কাঁরয়া দূঢ়হস্তে বাঁচবার পথ প্রস্তুত কাঁরয়া লইতে হইবে।

বাল্যকাল হইতেই আমি অর্থনৈতিক সমস্যার প্রাতি আকৃষ্ট হইয়াছি এবং পরবতর্ জাঁবনে শিক্ষা বিজ্ঞানচ্চার ন্যায় উহা আমার জাধনে ওতপ্রোতভাবে 'মশিয়া গিয়াছে। কিল্তু কেবল সমস্যার আলোচনা কাঁরয়াই আমি ক্ষান্ত হই নাই, আধাঁশক- ভাবে কর্মক্ষেত্রে উহার সমাধান করিতে চেস্টা পাইয়াছি। সেই চেষ্টার ইতহাস আত্মচারতে দিয়াছি। | |

এই পুস্তকখানিকে জনসাধারণের [বিশেষতঃ গৃহলক্ষতরদের আঁধগম্য করিবার জন্য চেষ্টার তুটি হয় নাই। নিঃশেধিতপ্রায় ইংরাজাঁ সংস্করণের মূল্য পাঁচ টাকা নিধ্বারত হইয়াছল। বাংলা সংস্করণের কলেবর ইংরাজী পুস্তকের তুলনায় 1কি্সিং ব্হত্তর হইলেও ইহার মূল্য পাঁচ টাকার স্থলে মান্ত আড়াই টাকা করা হইল।

পারশেষে বন্তব্য এই যে,.স্মপ্রসিদ্ধ সাহিত্যিক শ্রীফূত প্রফলল্লকুমার সরকার এই প্দস্তকের ভাষান্তর কার্ষধে আমাকে বিশেষ সাহায্য কারয়াছেন এবং বেঞ্গল কোমিক্যালের প্রচারবিভাগের শ্রীমান শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষ, এম. এ. মৃদ্্রান্ষন-কার্ষের ভার লইয়া আমার শ্রমের থেম্ট লাঘব কাঁরয়াছেন।

১লা অক্টোবর ১৯৩৭। শ্রীপ্রফুলচল্দর. রায়

প্রকাশকের নিবেদন

আত্মচাঁরতের প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর পনেরো বছর অতত হইয়াছে ইতিমধ্যে প্রকাশনার ব্যয় বহুগুণ বাদ্ধি পাইয়াছে। বর্তমান সংস্করণের পৃজ্ঠাসংখ্যাও বাড়িয়াছে। তাছাড়া বহু দহজ্প্রাপ্য চিন্রও সাল্নবিম্ট করা হইয়াছে। এইসব নানা কারণে বইখানির মূল্য প্রথম সংস্করণের তুলনায় আনবার্য কারণে বাড়াইতে বাধ্য হইয়াঁছি। ব্যয়- বাহুল্যের জন্য এইরূপ একখান মূল্যবান গ্রল্থ অপ্রকাশ্য থাকিবে, তাহা মোটেই বাঞ্চনীয় নয়। বাঙাল পাঠকসমাজ শুধু মূলা বিচার না কারয়া গ্রল্থ-মূল্য বিচার কাঁরবেন_এ বিশ্বাস আমাদের আছে। আচার্যদেবের শিষ্যগণের অন্যতম ডক্টর জ্ঞ্বানচন্দ্র ঘোষ, ডাইরেকর, মুখবন্ধ দয়াছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ

ঠা

হইয়া উঠিলেন। বাংলার যুবশান্ত দেশকে মুস্ত কারবার জন্য যে বৈশ্পাঁবক কর্মপ্রচেস্টায় গিস্ত ছিল তাহাতে আচার্য রায়ের সহানুভূতি “ও অন্প্রেরণা কম নহে। আচার্য রায়ের আবাসস্থল সায়ান্স কলেজ হইতে গোপনে শৈলেন ঘোষের আমেরিকা যাত্রা ইহার একটি দম্টাল্ত।

উপানষদে কাঁথত আছে যাঁন এক 'তাঁন বলেন, “আম বহু হইব ।”৮ সৃম্টর মূলেই আত্মবিসজনের ইচ্ছা। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রও নিজের চিত্তকে বহ্মানবের দুখের মধ্যে নিমজ্জিত কারিয়া রাঁখয়াছল। দেখিয়াছি 'বজ্ঞকানের মায়া কা্টাইয়া তিনি রাজপথে বাহর হইয়াছেন ভিক্ষার ঝাল লইয়া। : দুযষোঁগে, সম্তকটে, ভূমিকম্পে, জলপ্লাবনে আর্তের পাঁরল্রাণের জন্য তাঁহার প্রাণ ব্যাকুল হইয়া উঠিয়াছে। দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে টা'নিয়া লইয়াছিলেন এই জনসেবার কাজে ধনীরা দিয়াছে প্রচুর অর্থ। সহস্র সহস্র গৃহ হইতে আসিয়াছে ম্দাম্টীভিক্ষা রাঁশ রাশি বস্ত। দলে দলে যুবকেরা স্বেচ্ছাসেবকরূপে তাঁহার পাশে আঁসয়া দাঁড়াইয়াছে খুলনা, দামোদর, উত্তরবঙ্গ 'বহারে অন্নবস্ন ওষধ 'বতরণের জন্য। আচার্যদেবের আগমন দুর্গতদের দিয়াছে শান্তির প্রলেপন, দিয়াছে স্ন্দর ভুবনে বাঁচয়া থাকবার আশা

স্বার্থ বাঁলতে তাঁহার অবচেতন মনেও কিছ? ছিল না। দেশের দাঁরদ্রনারায়ণের পরিত্রাণের জন্য 'তাঁন আপনাকে 'বিলাইয়া 'দিয়াছলেন। বৈরাগণীর উত্তরীয় পতাকা কাঁরয়া লইয়া এই সর্বত্যাগী বৃদ্ধ, কর্মবর মহাপুরুষ জীবনসন্ধ্যায় কালের ভ্রকুটিকে আগ্রাহ্য করিয়া গ্রামে গ্রামে নগরে নগরে ঘ্যরিয়া দেশবাসীকে আহ্বান কাঁরয়াছেন দেশসেবায় জন- হিতকর কার্যে নিজেদের উৎসগ্ণীকৃত কাঁরতে। দাঁরদ্র, সূচতা, অস্পৃশ্যতা পরাধীনতার আঁভিশাপে অসাড় হইয়াছল দেশের লক্ষ লক্ষ মন। তিনি সেই অসাড় মনকে জাগাইয়া তুলিতে সমর্থ হইয়াছিলেন -সঞ্জশীবত কারয়া তুিয়াছলেন তাঁহার আভনব চন্তাশাস্তর ধারায়। তাঁহার আতপ্রাণশীন্তর প্রাচুর্যে দেশের পঙ্গু কমর্কেব্রগুলি চণগল হইয়া উঠিয়াছল

মর্তের বন্ধনম্যন্ত আচার্যদেবের জীবনগণতা হইতে বাংলার যুবকেরা যুগে ষুগে উদ্যমশীল জীবনের আদর্শ গ্রহণ করিয়া অননপ্রাণত হইতে পারিবে এবং বাংলার িল্পক্ষেন্রগুঁলি নিত্য নবতর. প্রেরণা লাভ কাঁরতে পারিবে। আচার্ধদেবের ত্যাগের আির্বাণ দশীপ্ততে আমাদের এই মাটির মা এই বাংলাদেশ ভাস্বর হইয়া আছে ।* অফ টেকনলাজ, খ্াপুর এভীকনিচ মোর শলোকসেষক' হইতে আনুপ্রিত।

আচার্ম প্রফলচন্দের আত্মচারত

-

ত্র বশত বয় রাগ

রি

|

মা

সুচীপত্র প্রথম খণ্ড আত্মকথা

জল্ম- পৈতৃক ভদ্রাসন_বংশ-পাঁরচয়-_বাল্যজীবন 'পলাতক' জামিদার- পারত্যন্ত গ্রাম__জলাভাব_ গ্রামগদাঁল কলেরা ম্যালেরিয়ার জল্মস্থান

গ্রামে শিক্ষালাভ--কলিকাতায় গমন-_কাঁলকাতা-_অতণত বর্তমান রি কাঁলকাতায় শিক্ষালাভ রঃ

ইউরোপ যান্রা-বিলাতে ছাত্রজীবন-__ভারত বষয়ক প্রবন্ধ -হাইল্যান্ডে ভ্রমণ ..

গৃহে প্রত্যাগমন-প্রোসডেন্সি কলেজের অধ্যাপক দন্ত বেঙ্গল কেমিক্যাল এ্যান্ড ফার্মীসউটিক্যাল ওয়ার্কস-_ তাহার উৎপাত্ত

নৃতন কোঁমক্যাল লেবরেটার-_মাঁকউরাস নইটইট-

হিন্দু রসায়ন শাস্ত্রের ইীতহাস

গোখেল গান্ধীর স্মৃতি ...

1দবতশয়বার ইউরোপ যারা_ বঙ্গতঙ্গ__বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহ বাংলায় জ্ঞানরাজ্যে নব জাগরণ

নবযূগের আঁবর্ভাব- বাংলাদেশে মৌঁলক বৈজ্ানক গবেষণা- ভারতবাসীঁদগকে উচ্চতর শিক্ষাবভাগ হইতে বাহন্করণ

মৌলিক গবেষণা-_ গবেষণা বাঁত্ত_ভারতীয় রাসায়ানক গোম্ঠী

ভারতীয় রসান্মন গোস্ঠণ- প্রোসডোন্সি কলেজ হইতে অবসর গ্রহণ_ অধ্যাপক ওয়াজ এবং তহার ছাব্রদের কার্ধযাবল- গবেষণা বিভাগের ছান্র_ ভারতীয় রসায়ন সাঁমাত

বিজ্ঞান কলেজ

সময়ের সদ্ব্যবহার অপব্যবহার

&/

১২

১৭. ন্‌

৪১৯ ৬৯

৭৩ ৮৭ ৯৫ ১০০ ১০৯

৯১৯১৮.

১২৪

১৪৯

[৯৮১

৯৬০

সতের

আঠারো &॥

নুরী বু

পপচশ . ছাব্বশ

সাতাশ

আঠাশ

উনান্রশ

রাজনশীতি-সংস্ট কার্যকলাপ ্ী বাংলায় বন্যা- খুলনা দীভর্ষ- উত্তরবধ্চে প্রবল বন্যা -অল্পাঁদন পূর্বেকার বন্যা-ভারতে অনুসৃত শাসন-

প্রণালণর 'কাণ্চিৎ পারিচয়- শ্বেতজাঁতর দায়ত্বের বোঝা

দ্বিভীয় খণ্ড শিক্ষা, শিল্পবাণিজ্য, অর্থনীতি সমাজ সম্বন্ধীয় কথা

1ব*বাঁবদ্যালয়ের শিক্ষার জন্য উন্মত্ত আকাঙ্ক্ষা রা ধশল্পাঁবদ্যালয়ের পূর্বে [শিল্পের আঁ্তত্ব-_শিল্পস্ান্টর

পূর্বে রক ধারণা

চরকার নি বলাপ রর রং বর্তমান সভ্যতা_ ধনভত্বাদ-_যান্িকতা এবং বেকার সমস্যা

১৮৬০ তৎপ্রবতা কালে বাংলার গ্রামের আর্থিক অবস্থা

বাংলার 'িতনাট জেলার আর্থক অবস্থা

কামধেন্‌ বঙ্গদেশ_ রাজনৈতিক পরাধীনতার জন্য বাংলার ধন শোষণ

বাংলা ভারতের কামধেনূ-_বাঙালশদের অক্ষমতা এবং অবাঙালী কর্তৃক বাংলার আর্থক বিজয় জাতিভেদ--হিন্দুসমাজের উপর তাহার আনম্টকর প্রভাব -_একাদকে শিক্ষিত মাঁজতরূচি সম্প্রদায়, অন্যদিকে কৃষক, শিল্প ব্যবসায়ীদের মধ্যে সামাঁজক প্রভেদ অল্তরায়__পাঁরবাঁরক কলহের কারণ +...

পারাঁশষ্ট £

(১) যে সব মানুষকে আম দৌঁখয়াছ

(২) উপসংহার (৩) 'নর্ঘন্ট

১৪৩

৯১৭০১

২০১

২৪ ২৬৯

২৮০

৯৪

৩০৬ ৩১৯

৩৩১

৩৪৯

৩৯০

৪৯ ৪৯৭.

৪২৩

গুম্থহন শ্রহভ

আত্মকথা

৬৫ মব

& 4.

সাক

2

2 হি

য় 7

71 টড

বা-্ঞা০পন্ট্িভ্ড

প্রথম পরিচ্ছেদ জম্ম-্পতৃক ভদ্রাসন__বংশ-পরিচয়--বাজ্যজশীবন

১৮৬১ সালের ইরা অগস্ট আম জন্মগ্রহণ কার। এই বংসরাট রসায়নশাস্তের ইতিহাসে স্মরণীয়, কেননা বৎসরেই ক্লুকস থ্যাঁলয়ম” আঁবিন্কার করেন আমার জন্মস্থান যশোহর জেলার রাড়ুলি গ্রাম বেতমান খুলনা জেলায়)। এই গ্রামাট কপোতাক্ষ নদীতশরে অবাঁস্থত। কপোতাক্ষী ৪০ মাইল আঁকাবাঁকা ভাবে ঘুঁরয়া কাঁববর মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ীতে পেশাছয়াছে। এই নদণরই আরও উজানে বিখ্যাত সাংবাদক শাশিরকুমার ঘোষের জল্মস্থান পলয়া. মাগুরা গ্রামপরে যাহা “অমৃতবাজার' নামে পাঁরাঁচিত হইয়াছে। রাড়ুলির উত্তরাঁদকে সংলগন কাঁটপাড়া গ্রাম, এই গ্রামেরই আঁধবাসী জাঁমদার ঘোষবংশের কন্যা কাব মধুসূদন দত্তের মাতা ।6১) এই দুই গ্রাম অনেক সময়ে একসঙ্গে রাড়যাল- কাটিপাড়া নামে আভাহত হয়।

আমার 'পতা এক শতাব্দীরও পর্বে ১৮২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তান একজন মৌলবীর নিকট পারসী ভাষা 'শাখয়াঁছলেন। তখনকার দিনে 'পারসী'ই আদালতের ভাষা ছিল। পিতা পারসী ভাষা বেশ ভাল জানতেন, সঙ্গে সঙ্গে একট: আরবাঁও 'শিখিয়াছিলেন। তান অনেক সময় বাঁলতেন যে, যাঁদও তানি সনাতন হিন্দুবংশে জন্মগ্রহণ করিয্াছেন, তবু কাব হাফিজের 'দেওয়ানা' তাঁহার মনের গাঁতকে সম্পূর্ণ পাঁরবার্তত কারয়া দিয়াছে। তিনি গোপনে মৌলবী-দত্ত সুস্বাদু মুরগীর মাংস পর্যন্ত খাইতেন। বলা বাহ্ঃল্য, যাদ পাঁরবারের কেহ এই ব্যাপার জানিতে পারতেন, তবে তাঁহারা পিতৃদেবের আচরণে স্তাম্ভিত মর্মাহত হইতেন সন্দেহ নাই। বাড়ীতে লেখাপড়া শেষ করিয়া আমার পিতা ১৮৪৬ সালে সদ্য প্রাতম্িত কৃষ্ণনগর কলেজে ইংরাজী বিদ্যা শিক্ষা করিতে যান। কলেজে জানয়র স্কলারাঁশপ পরাক্ষার জন্য পাঁড়বার সময়, প্রাসদ্ধ শিক্ষক দেবচাঁর্ রামতনু লাহড়শ মহাশয়ের ছাত্র হইবার সৌভাগ্য তাঁহার হইয়াছিল। সময় ক্যাপ্টেন ডি. এল. 'রচার্ডসন কৃষ্ণনগর কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। আমার পিতা সাক্ষাংভাবে তাঁহার ছাত্র না হইলেও, তাঁহার ভাব চরিন্রের প্রভাবে কিয়ৎ পারিমাণে অনুপ্রাণত হইয়াছিলেন। বাংলায় শিক্ষা প্রচারের অগ্রদূত এই ক্যাপ্টেন 'রিচার্ডসন কৃত 'পব্রাটশ কাঁবগণের জীবন” (14৮৩৪ ০৫? 30050 9905) শশর্ধক গ্রল্থখানি'

(১) মধনসদেনের মাতা জাহবণ দাস কাটিপাড়ার জমিদার গোরচরণ ঘোষের কন্যা।

্‌ আত্মচারত এখনও আমার গনকট আছে। এই গ্রল্থ বহুবার আমি পাঁড়য়াছ এবং এখানিকে আম অমূল্য পৈতৃক সম্পদ্‌রূপে গণ্য করি। _. আমার পিতা যাঁদ পাঁরবারক কারণে হঠাৎ বাড়ী চলিয়া আসতে বাধ্য না হইতেন, তাহা হইলে তান যথাসময়ে কলেজের শিক্ষা শেষ কাঁরয়া সাঁনয়র স্কলার- শিপ পরীক্ষা দিতে পাঁরতেন।(২) আমার পিতা শিক্ষা অসম্পূর্ণ রাখিয়া কলেজ ছাঁড়তে বাধ্য হইয়াঁছলেন; কেননা, আমার ঠাকুরদাদার তানি একমান্র পাত্র ছিলেন (আমার পতৃব্যের সকলেই অকালে পরলোকগমন করেন)। ঠাকুরদাদা যশোহর আদালতে সেরেস্তাদারের কাজ কাঁরতেন (তেখনকার দিনে এই সেরেস্তাদারের কাজে বেশ অর্থাগম হইত); সুতরাং বাড়তে পৈতৃক সম্পান্ত দেখাশুনা কারবার কেহ রাঁহল না। আর একটা কারণ বোধ হয় এই যে, মধ্সূদন দত্ত এই সময়ে খতষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাহার ফলে তৎকালীন 'হন্দসমাজে এক আতঙ্কের সাড়া পাঁড়য়া যায়। ঠাকুরদাদার ভয় হইল যে, হিন্দু কলেজের ছাব্রেরা যে সব বিজাতীয় ভাব দ্বারা অনুপ্রাণিত হইত, সেই সব গ্রহণ কাঁরয়া আমার পিতাও হয়ত পৈতৃক ধর্ম ত্যাগ করিবেন। |

এইখানে আমি আমাদের বংশের ইতিহাস এবং পাঁরপাশর্বক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থার কিছ পাঁরচয় দিব। “বোধখানার' রায়চোধূরণ বংশ চিরদিনই এশ্বর্যশালী, উৎসাহ”? এবং কর্মকুশল বাঁলয়া পারচিত। এই বংশের অনেকে নবাব সরকারে উচ্চপদ লাভ করেন এবং যশোহরের নূতন আবাদী অণুলে অনেক ভূসম্পাত্ত জায়াগর পান।(৩)

১৪শ, ১৫শ ১৬শ শতাব্দীতে মুসলমান পীরগণ প্রথম ধর্মপ্রচারকসৃলভ উৎসাহ লইয়া এই যশোহর অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের পতাকা বহন করিয়াছিলেন এবং তথায় লোক-বসতি গ্াঁড়য়া তুলিয়াছিলেন। এই অঞ্চলের ইতস্ততঃ বহ্‌ গ্রামের নামই তাহার জলন্ত সাক্ষ্য স্বর্প হইয়া. রাহিয়াছে, যথা-_ইসলবমকাটি, মামুদ- কাঁট,(৪) হোসেনপুর, হাসানাবাদ (হোসেন-আবাদ) ইত্যাদ। ইসলামের এই অগ্রদ্দতগণের মধ্যে খাঞ্জা আলির নাম সর্বপ্রধান। হানিই প্রায় ১৪৫০ খু৭ঃ__ বাগেরহাটের নিকটে বিখ্যাত “ষাট গম্বুজ” নির্মাণ করেন। রাড়যঁলর প্রায় দশ মাইল দক্ষিণে আর একটি মসাঁজদও এই মুসলমান-পাঁরের নির্মিত বািয়া প্রাসাদ্ধি আছে। . সধ্দরবন অঞ্চলে আবাদ কারবার সময়, কতকগুলি লোক জঙ্গল পাঁরজ্কার কাঁরতে কাঁরতে কপোতাক্ষণ নদীতশরে, চাঁদখালির প্রায় ছয় মাইল দাঁক্ষণে, একটি

(২) তখন 'বিশ্বাবদ্যালয় স্থাপিত হয় নাই। (৩) যে সব পাঠক সম্বন্ধে আরও বেশ জানতে চাহেন, তাঁহারা সতখশচন্দ্র মিত্রের 'যশোহর-খুলনার হীতহাস, পাঁড়তে পারেন।

(৪১ কাট (কাচ্ঠণ্ড )- সন্দরবনে জঙ্গল কাটিয়া যে সব স্থানে বসাত হইয়াছে, সেখানকার অনেক গ্রামের নামের শেষেই এই শব্দ আছে। ... ওয়েস্টল্যাণ্ডের “২০০০৮ 00. 105 19150010601 163500, ২০ পচ্ঠা দুষ্টব্য। হাণ্টার যথাথ্থই বলিয়াছেন,_বাঙালশী জমিদার এই কথা বালয়া গর্ব কারতে ভালবাসেন যে, তাঁহার পূর্বপুর7ষ উত্তর অঞ্চল হইতে আঁসয়া জঙ্গল কাটিয়া গ্রামে বসাঁত করেন। যে পূকুর কাটাইয়া,' জমি ঢাব কারিয়া বসতি করে সেই এখনও গ্রামের প্রতিঠাতাসবিযাদ্রনা।

প্রথম পাঁরচ্ছেদ |

প্রাচখন মসাঁজদ মৃত্তকার নিম্নে প্রোথিত দেখে; সেইজন্য তাহারা গ্রামের নাম রাখে “্মসাঁজদকুণ্ড়”। এই মসঁজদঁটি দোখলেই বুঝা যায় যে, ইহা “ষাট গম্বৃজ"এর নর্মাতারই কণীর্ত। | | আমার কোন পূর্বপুরুষ জাহাঙ্গীর বাদশাহের আমলে বা তাহার দিন পরে এই গ্রামে আসয়া বাস করেন। নিকটবতর্ণ কয়েক গ্রামে তাঁহার জায়াঁগর 'ছিল। আমার প্রা্পিতামহ মানিকলাল রায় নদীয়া যশোহরের কালেক্রের দেওয়ানের উচ্চপদ নাভ কাঁরয়াছলেন। 'ব্রাটশ শাসনের প্রথম আমলে দেওয়ান, নাঁজর, সেরেস্তাদার- গণই ব্রিটিশ কালেক্টর, 'ম্যাঁজস্ট্রেটে জজদের দক্ষিণ হস্ত স্বরূপ 'ছলেন।

বাংলার নবাবদের আমলে এবং ওয়ারেন হেস্টংস এবং ইস্ট ইশ্ডিয়া কোম্পানির শাসনকাল পর্যন্ত রাজকার্ঘে উৎকোচ গ্রহণ প্রভৃতি নানা জঘন্য অনাচার যেভাবে চলিয়াছল, তাহার ফলেই বোধ হয় “চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে'র প্রবর্কি লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতবাসাঁদগকে সমস্ত সরকারা উচ্চপদ হইতে বণ্ঠিত কাঁরয়াছিলেন। এই পন্থা অবলম্বন কারবার স্বপক্ষে বাহাতঃ সঙ্গত কারণও যে তাঁহার ছল, তাহাতে সন্দেহ নাই। শোভাবাজার রাজবংশের প্রাতিচ্ঠাতা নবকৃষ্ণ (পরে রাজা নবকৃ্ণ)" রবার্ট ক্লাইভের মুন্সী দিলেন এবং মাঁসক ষাট টাকা মান্র বেতন পাইতেন। কিন্তু তিনি নিজের মাতৃশ্রাদ্ধে নয় লক্ষ টাকা ব্যয় করেন। তখনকার দিনের নয় লক্ষ টাকা এখনকার অর্ধকোঁট টাকার সমান। ওয়ারেন হোঁস্টংসের দেওয়ান, পাইকপাড়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গঙ্গাগোবিন্দ সং প্রভূত বিত্ত সণ্য় করেন এবং প্রাচীন জাঁমদারদের উৎখাত কারয়া বড় বড় জাঁমদার দখল করেন। কান্ত মদী নিজের জীবন বিপন্ন করিয়া তাঁহার কাসিমবাজারের ক্ষুদ্র দোকানে ওয়ারেন হেস্টিংসকে আশ্রয় দেন। ওয়ারেন হোস্টংস যখন বাংলার শাসক হন, তখন তাঁহার আশ্রয়দাতাকে ভুলেন নাই। হেস্টিংস তাঁহার পুরাতন উপকারী বন্ধুকে খধাঁজয়া বাহির করেন এবং অনেক জমিদারি তাঁহাকে পুরস্কার দেন। এই সমস্ত জাঁমদাঁর ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির অসম্ভব দাঁব মিটাইতে না পাঁরয়া হতভাগ্য পুরাতন মালিকদের হস্তচ্যুত হইয়া গেল। এখানে গঙ্গাগ্োবন্দ সং এবং নসীপরের রাজবংশের প্রাতষ্ঠাতা দেবী 'সংহের অত্যাচার-কাহিনী বর্ণনা করিবার প্রয়োজন নাই। বাকের [00098010701 01 ড/21719) 178511118ও গ্রন্থের পাঠকদের নিকট তাহা সপারিচিত।

কর্নওয়ালিসের আমল স্তন্য অনেক বিষয়ে ভাল হইলেও, উচ্চপদ হইতে ভারত- বাসীদগকে বাঁহন্কার তাহার একাঁট কলঙ্ক। পূর্বে যাহা বাঁলয়াছ, তাহাতে কেহ কেহ মনে কাঁরতে পারেন যে, আম কর্ণওয়ালসের এই নীতির সাফাই গাঁহতেছি।(&) আমার উদ্দেশ্য মোটেই তাহা নয়। বস্তুতঃ রোগ অপেক্ষা ওষধই

৫) বিষয়ে মার্শম্যান স্যার হেনরাঁ স্ট্র্যাচীর উীন্ত উল্লেখযোগ্য :

“লর্ড কনওয়ালিসের আমল হইতে আমাদের শাসনে এক দুরপনেয় কলঙ্কের মস লিপ্জ হইয়া আছে; আমাদের সাম্রাজোর যত শ্রীবৃদ্ধ হইতেছে, দেশের মধ্যে যাহারা প্রভাব প্রতিপান্ত- শালী তাহাদের আশা ভরসায় ততই ছাই পাঁড়তেছে; আমাদের শাসন ব্যবস্থায় তাহাদের

| 'আত্মচারত

মারাত্মক হইয়া দাঁড়াইল। 'রাঁটশ 'সাঁভালয়ান কর্মচারীরা এদেশের. লোকের ভাষা, আচার-ব্যবহার, সামাজিক প্রথা কিছুই জানতেন না। সুতরাং তাঁহারা তাঁহাদের অধধন অসাধু ভারতীয় কর্মচারীদের হাতের পতুল হইয়া দাঁড়াইলেন। আর সমস্ত ভারতীয় কর্মচারীরা যাঁদ এরূপ লোভনীয় অবস্থার সুযোগ না লইতে, তাহা হইলেই বরং অস্বাভাবক হইত। অজল্মার জন্য কোন জাঁমদার খাজনা দিতে পারল না, তাহার জমিদার “সূর্যাস্ত আইনে” এক হাতুড়ির ঘায়েই নিলাম হইয়া যাইবে এবং এক মূহূর্তেই সে কপর্দকশন্য পথের ভিখারী হইবে। ভয়ে কাঁপতে করিতৈ পারেন। কিন্তু এই কালেক্টর আবার প্রায়ই দেওয়ান বা সেরেস্তাদারের পরামর্শেই চাঁলত হইতেন। সূতরাং সেরেস্তাদার বা. দেওয়ানকে যে পাঁরমাণ উংকোচ দ্বারা প্রসন্ন করা হইত, সেই পাঁরমাণেই তিনি জমিদারদের পক্ষ সমর্থন কারতেন। ফৌজদারী মোকদ্দমাতেও পেস্কারের পরামর্শ বা ইঙ্গিতেই জজসাহেব অজ্পাঁবস্তর প্রভাবান্বিত হইতেন। তখন জ:রী প্রথা ছিল না, সুতরাং এই সব অধস্তন কর্মচারীদের হাতে কতদূর ক্ষমতা ছিল, তাহা সহজেই অনুমেয় অসহায় জজেরা পেস্কারদের হাতের পৃতুল হইতেন, এর্‌প দস্টান্ত বিরল নহে।

এক শতাব্দী পূর্বে আমার প্রপতামহ মানকলাল রায় কৃষ্ণনগরের কালেক্টুরের এবং পরে যশোহরের কালেক্টরের দেওয়ান(৬) ছিলেন। এই পদে তান যে প্রভূত ধন

উচ্চাকাঙ্্ষার কোনও স্থান নাই। আপন দেশে তাহারা দুর্গাতর হখনতম স্তরে অবস্থান

17

“একটা সমগ্র জাতির এরুপ অপাংস্তেয় অবস্থার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে আর দেখা .যায় না। যে গল জাত সীঁজারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করিয়াছিল তাহাদেরই বংশধরগণ রোমের রাম্ট্রসভায় সদস্যপদ লাভ কাঁরয়াছল। যে রাজপুত বাীরগণ বাবরের মোগলশান্ত প্রাতষ্ঠার প্রয়াসকে অত্কুরেই 'বিনম্টপ্রায় করিয়াছিল তাহাদেরই পূন্রপোন্রাদ আকবরের আমলে প্রাদেশিক শাসনকর্তা সেনাপাঁতর পদ অলওকৃত করিয়াছিলেন এবং প্রভুর হিতে বঙ্গোপসাগর অক্সাস নদীর তরে বার 'বিক্মে যুদ্ধ করিয়াছিল। এন কি অিললরারনাারানের ডলে ধন ভারি তখন এই রাজপৃতগণই আবচালত নিষ্ঠা রাজভীন্ত সহকারে তাঁহার সিংহাসন নিরাপদ ছি কিল তরতের যে জালেই জামান রিকি পরি হট্যাহেজোনানেই জেরাসানের পক্ষে উচ্চাভিলাষ, ক্ষমতা, যশ, অর্থ, সম্মান বা যে কোন প্রকার উন্নাতর পথ চিররুদ্ধ করিয়া রাখা হইয়াছে। ইহারই পাশাপাশি দেশীয় নূপাঁতগণের সভায় ছিল যোগাতা গুণের প্রচুর সমাদর-_সুতরাং তুলনায় এই বৈষম্য বড়ই বিসদশ লাগিত।”__মার্শম্যানের ভারতোতহাস।

“কন্তু ইউরোপীয়ান কর্মচারীদগকে আমরা প্রলোভনের বহু উধের্ব রাখিয়াছি। যে সকল দেশীয় কর্মচারীর পূ্বপ্রদষগণ, উচ্চ জন্রান্ত পদে থাকিয়া দশজনের উপর কর্তৃত্ব কাঁরতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁহাঁদগকে আমরা বিশ ত্রিশ টাকা বেতনে সামান্য কেরানীর কাজে নিষ্ত কাঁরয়াছ। ইহার পর আমরা বালয়া বেড়াই যে, ভারতায়েরা অসাধু ঘষখোর এবং একমানর ইউরোপীয় কর্মচারগণই তাহাদের প্রভু হইবার যোগ্য।”_স্যার হেনরণ স্ট্যাচশী।

(৬) 'দেওয়ান' শব্দ ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হইত। রবীন্দ্রনাথের 'পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর নিমক চৌকীর দেওয়ান 'ছিলেন। মিঃ ডিগৃবীী রাজা রামমোহন রায়ের “কেন উপানিষং বেদান্তসারের” ইংরাজী অনুবাদের ভূমিকায় গলখিয়াছেন,_“তিনি (রামমোহন ) পরে ষে জেলায় রাজস্ব সংগ্রহের দেওয়ান বা প্রধান দেশীয় কর্মচারী 'নিযৃস্ত হইয়াছলেন, সেই জেলায় আঁম পাঁচ * বৎসর (১৮০-১৪) ইস্ট ইশ্ডিয়া কোম্পানির িাভল সার্ভসের কালেন্টর ছিলাম।” _ মিস্‌

কৃত রাজা রামমোহন রায়ের জীবনী পন্রাবলশী, ১৯০০ খওপধঃ, ১০-১১ পৃঃ।

“সেকালে সেট্ল্মেণ্টের কাজে বিশ্বস্ত দেশীয় সেরেস্তাদারদিগকেই সাধারণতঃ কালেক্টরেরা

প্রথম পাঁরচ্ছেদ

সণ্ণয় কারয়াছিলেন, তাহাতে সন্দেহ নাই। আমার বাল্যকালে তাঁহার সা্চত ধনের টাকা' বাড়ীতে পাঠাইতেন। বিশ্বস্ত বাহকেরা বাঁশের দুইধারে ভার ঝূলাইয়া অর্থাৎ বাঁকে কাঁরয়া এই সমস্ত টাকা লইয়া যাইত। সেকালে নদীয়া-যশোহর গ্রান্ড- ্রাংক রোডে ডাকাতের অত্যন্ত উপদ্ুব ছিল। সুতরাং ডাকাতদের সন্দেহ দূর দেওয়া হইত।

আমার পিতামহ আনন্দলাল রায় যশোহরের সেরেস্তাদার ছিলেন এবং প্রচুর ধন উপার্জন কাঁরয়া পৈতৃক সম্পান্ত বৃদ্ধি করেন। তিনি যশোহরেই অকস্মাৎ সন্যাস- রোগে মারা যান। আমার পিতা সংবাদ পাইয়া রাড়াল গ্রাম হইতে তাড়াতাঁড় যশোহরে যান, 'কন্তু 'তাঁন পেপীছিবার পূর্বেই পতামহের মৃত্যু হয়, সূতরাং [পতাকে কোন কথাই বাঁলয়া যাইতে পারেন নাই।

আমার প্রপিতামহ বিপুল এ্বর্য সণ্য় কাঁরয়াছিলেন। ১৮০০ খাইস্টাব্দে [তান যে ভূসম্পান্ত ক্লয় করেন,- তাহা তাঁহার এম্বর্ষের 'য়দংশ মাব্র। তাঁহার অবাঁশস্ট এম্বর্য রূপে হস্তচ্যুত হইল সে সম্বন্ধে নানা কাহনী আছে। আম যখন শিশু, তখন আমাদের পাঁরবারের বৃদ্ধা আত্মীয়াদের নিকট গঞ্প শানয়াছ যে, আমার প্রার্পতামহ একাদন পাশা খোঁলতোঁছলেন, এমন সময় তান একখান পত্র পাইলেন; তান ক্ষণকালের জন্য পাশা খেলা হইতে বিরত হইলেন, পত্রখাঁন আগাগোড়া পাঁড়লেন, তারপর একটি দীর্ঘানঃ*বাস ত্যাগ করিলেন। কিন্তু তাঁহার মুখভাবের কোন পাঁরবর্তন হইল না, পূর্ববৎ পাশা খেলায় প্রবৃত্ত হইলেন। বোধ হয়, যে ব্যাঙ্কে তান টাকা গাঁচ্ছত রাখিয়াঁছলেন, সেই ব্যাঞ্ক ফেল পাঁড়য়াছিল 16৭) কিন্তু প্রাপতামহ চতুর লোক ছিলেন। সূতরাং, তান নিশ্চয়ই তাঁহার সমস্ত ধন একস্থানে গাঁচ্ছত রাখেন নাই। সম্ভবতঃ তিনি প্রাচীন প্রথামত তাঁহার অর্থ মাটির নিচে প:তিয়া রাখিয়াছলেন, অথবা ঘরের মেজেতে বা দেয়ালে স[রাক্ষত করিয়া- ছিলেন। বস্তুতঃ আমার ব।ল্যকালে ঘরের দেয়ালে এইরূপ একটি শন্য গুহা আম দেখিয়াছি।(৮) আমাদের বংশে প্রবাদ আছে যে, আমার পিতামহ প্রাপতামহের

প্রধান এজেন্ট 'নযুস্ত করিতেন এবং কালেন্টরেরা এই সব সেরেস্তাদারদের পরামর্শ সিদ্ধান্ত ৮০৮39 27 [শিবনাথ শাস্তী প্রণীত ব্রাঙ্ম সমাজের ইতিহাস, ১২ পঠ।

“মডার্ন 'রাভিউ', ১৯১০, মে, ৫৭২ পৃঃ, ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য

(৭) এই ব্যাঙ্কের নাম পামার এস্ড কোং, এরূপ মনে করিবার কারণ আছে। ১৮২৯ সালে ব্যাঞ্ক ফেল পড়াতে বহ্‌* ইউরোপণয় ভারত+য় সবস্বান্ত হন।

(৮) সপ্তদশ শতাব্দীর শেষে ইংলন্ডেও টাকাকাঁড় গাঁচ্ছত রাখা কম্টকর ছল, সুতরাং বা কাঁথত আছে যে, কাঁব পোপের 'পতা তাঁহার প্রায় একশত বশহাজার পাউন্ড 'নজের বাড়খতে এই ভাবে ল্‌কাইয়া রাখেন।......... ১৮3481857৮8 রর আঁধকাংশ লোকই ক্বর্ণ ও' রৌপ্য গোপনীয় সিন্দুক প্রভীততে লুকাইয়া রাখিত।-মেকলে, ইংলশ্ডের ইতিহাস।

বাংলা, বহার এবং ভারতের অন্যান্য প্রদেশের যে সব অংশে পাশ্চাত্য সভ্যতা প্রবেশ করে

, সেখানকার লোকেরা এখনও অর্থ এভাবে লুক্কায়ত রাখে।

সুসজ্য জ্রান্মে কৃষকেরা এখনও উলের মোজাতে করিয়া ঘয়ের মেঝেতে অথবা মাঁটর নিচে

আত্মচাঁরত

সান্চিত ধনের গুস্ত সংবাদ জাঁনতেন। কল্তু তাঁহার অকস্মাৎ মৃত্যু হওয়াতে তাকে কিছুই বাঁলয়া যাইতে পারেন নাই। একথা পূর্বে বালয়াছি। আমাদের বাড়ীর অন্দর মহলের উপরতলার যোহা এখনও আছে) দরজা লোহার পাত "দিয়া মোড়া, তাহার উপর বোল্ট বসানো। ইহার উদ্দেশ্য, ডাকাতেরা সহজে যাহাতে দরজা না ভাঙ্গতে পারে। এই উপরতলার কিয়দংশ এখনও “মালখানা” নামে আঁভাঁহত হয়। আমার 'পতা দেয়ালের স্থানে স্থানে গুপ্তধনের সন্ধানে খাড়য়াছলেন। কিন্তু কিছুই পান নাই, সমস্ত স্থান এখনও দেখা যায়, কেননা সেখানে নৃতন ইট সুরাঁক বসাইয়া মেরামত করা হইয়াছিল। বহু বংসর পরে আমার পিতার যখন অর্থসঙ্কট উপাস্থত হয় এবং পৈতৃক সম্পান্ত বিকয় হইতে থাকে, তখন আমার মাতা (যাঁদও সাধারণতঃ তিনি কুসংস্কারগ্রস্ত ছিলেন না) একজন 'গুণীকে ডাকিয়া পাঠান এবং তাঁহার নির্দেশ অনুসারে 'সিশড়র নিচে একটি স্থান খনন করান, কিন্তু চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। আম এই ব্যাপারে বেশ কোতুক অনুভব কার। কেননা, আমার সব আতি-প্রাকৃত ব্যাপারে কখনই বিশ্বাস ছিল না।

আমার পিতা

প্রায় ২৫ বংসর বয়সে আমার পিতা পৈতৃক সম্পাত্ত দেখাশুনা করার ভার গ্রহণ করেন। তান খুব মেধাবী [ছিলেন। 'তাঁন পারসী ভাষা জানতেন, সংস্কৃত আরবাও ছু জানিতেন। ইংরাজ সাহিত্যেও তাঁহার বেশ দখল ছিল এবং আমার বাল্যকালে তাঁহার মুখ হইতেই আমি প্রথম ইয়ং এর 18007100988) এবং 'বেকন-এর ি৩৬ঞা। 9188101 প্রভৃতি গ্রন্থের নাম শুনি। তত্ববোধিনী পান্রকা, ডাঃ রাজেন্দ্রলাল 'মিন্র সম্পাঁদত পবাবধার্থ-সংগ্রহ” পহন্দপান্রকা” 'অমৃতবাজার পান্নুকা” এবং তাহার পৃর্ববতাঁ 'অমৃত-প্রবাহনন' 'সোমপ্রকাশে'র তান 'নয়ামত গ্রাহক ছিলেন। কেরী কৃত হোলী বাইবেলের অন্দবাদ, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রবোধচন্দ্রিকা' 'রাজাবলন, লসনের 'পশ্বাবলন” (জাঁবজন্তুর কথা) এবং কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'এন্সাইক্লোপাডয়া বেঙ্গলেনাঁসস'(৯) তাঁহার লাইরোরতে ছিল। সমসাময়িক ঘুগের তুলনায় আমার প্রাপতামহও বেশ শিক্ষিত লোক ছিলেন মনে হয়। ইহার একট প্রমাণ, তিনি “সমাচার দর্পণে'র নিয়ামত গ্রাহক 'ছিলেন। সমাচার দর্পণ" প্রথম বাংলা সংবাদপন্র, ১৮১৮ সালে শ্রীরামপুর হইতে মিশনারীগণ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। আমার বাল্যকালে আমাদের লাইবরোরতে এই সংবাদপত্রের ফাইল আম দেখিয়াছি। িলাতে ওপন্যাসক ফিল্ডিং-এর সময়ে গ্রামের ভদ্র- লোকেরা যে ভাবে জীবন যাপন কাঁরতেন, আমার 'পির্তাও কতকটা সেইভাবে জীবন *

অর্থ সণ্চিত করে েডেলী হেরাল্ড' হইতে কাঁলকাতার সংবাদপন্রে উদ্ধৃত 'বিবরণ-_ ফেব্রুআরি, ২৯শে, ১৯৩২)। |

যাঁদও বর্তমান অনেক গ্রামে ডাকঘরের সোৌভংস ব্যাঙ্ক এবং কো-অপারোটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ব্যা্কের সবধা আছে, তথাঁপ প্রাচীন রীতি অনুযায়ী অর্থ সণয়ের প্রথা এখনও 'বিদ্যমান। _. ডাঃ এইচ. সিংহের 48819 20106210 88101008 1 10019? পৃঃ ২৪০ দ্রষ্টব্য!

(৯) 'দ্বিভাষায় লিখিত পাঠ্যগ্রল্থ (১৮৪৩) লর্ড হাঁডঞজের নামে উৎসগাঁকিত।

প্রথম পাঁরচ্ছেদ

আরম্ভ করেন। চ্কোয়ার অলওয়ার্দর সঞ্গে তাঁহার চারন্রের সাদশ্য 'ছিল। তাঁহার অবস্থা সচ্ছল ছিল, সূতরাং জের রুচি অনুসারে চাঁলতে পাঁরতেন। কঁলিকাতার সঙ্গেই তাঁহার বৌশ যোগ ছিল এবং তান শহরের শিক্ষিত সভ্য সমাজের সঙ্গে মিশিতেন। যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, দিগম্বর মিত্র, কৃষ্ণদাস পাল, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রভাতি তৎকালীন প্রধান প্রধান লোকদের সঙ্গে তাঁহার পারচয় ণছিল। গত শতাব্দীর মধ্যভাগে (১৮৬০ খুশজ্টাব্দের পূর্বে) আমার 'পতা 'ব্রাটশ ইশ্ডিয়ান এ্যাসোসয়েশনের সদস্য হইয়াছিলেন। তান সঙ্গীত ভাল বাঁসতেন। এবং ওস্তাদের মত বেহালা বাজাইতে পাঁরিতেন। সমন্ধ্যাকালে তাঁহার বৈঠকখানায় সঙ্গীতের 'জলসা' বাঁসত এবং পরবতাঁ জীবনে স্বভাবতই তান সৌরান্দ্রমোহন ঠাকুর সং্গণতাচার্য ক্ষেত্রমোহন গোস্বামীর প্রাত আকৃষ্ট হইয়াছলেন। শেষোস্ত দুই জন বাংলাদেশে 'হন্দু সঙ্গীতের পুনরভ্যুদয়ের জন্য অনেক কাজ কাঁরয়াছেন। আমার পিতা পৈতৃক সম্পাত্ত পাঁরচালনার ভার গ্রহণ করিয়া প্রথমেই ভদ্রাসন বাটৰর সদর মহল ভাঁঙ্গয়া নূতন কাঁরয়া নর্মাণ করেন। স্থাপত্যশিল্পেও তাঁহার বেশ সৌন্দরযবোধ ছিল। 'দিগম্বর মিত্র (পরে রাজা সস. এস. আই. উপাধপ্রাপ্ত) আমাদের গ্রামের নিকটে সোলাদানা জমিদার ক্রয় করেন। তিনি আমাদের বাড়বীতে দুই একাঁদনের জন্য পতার আঁতথ্য গ্রহণ করেন। স্ন্দরবনের সীমানার শনকটবতর্ঁ একটি গ্রামে এমন বাড়ী সসাঁজ্জত বৈঠকখানা দোঁখয়া তান 'বাস্মিত আনান্দত হইয়াছিলেন। কেননা, আমাদের বাড়ী বৈঠকখানা কাঁলকাতার যে কোন ধনীর বাড়ী বৈঠকখানার সঙ্গে তুলনীয় 'ছিল।

আম পূর্বেই বালয়াছি, আমার পিতা ১৮৫০ খ্রীঃ অঃ অর্থাৎ আমার জন্মের এগার বংসর পূর্বে নিজের জামদারিতে স্থায়িভাবে বাস করিতে আরম্ভ করেন। তান “নব্য বাঙ্গলার” ভাবে অনুপ্রাণত হইয়াছিলেন। সুতরাং, নিজের জেলায় শক্ষা বস্তারে তান একজন অগ্রণী ব্যান্ত ছিলেন। রাড়দীলতে গতাঁনই বাঁলতে গেলে প্রথম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। . ইহারই পারবে একটি মধ্য ইংরাজী বিদ্যালয়ও স্থাপিত হয়। ৭৫ বংসর পূর্বে সব বিদ্যালয় বাংলার আঁধকাংশ স্থানেই বিরল ছিল এবং গ্রামের গৌরবস্বরূপ বলিয়া গণ্য হইত। বত্মানে এক খুলনা জেলাতেই ৪&টা উচ্চ ইংরাজী বিদ্যালয় আছে, তা ছাড়া দুটি প্রথম শ্রেণীর কলেজ এবং বালিকাদের জন্য উচ্চ ইংরাজী বিদ্যালয়ও আছে।

এই প্রসঙ্গে ইংরাজী ভাষায় লাখত 'আত্মচারত” প্রচারের বছর পরে প্রকাঁশত বাংলা ১৩৪০ সালের ৫ই ফাল্গুনের 'দেশ' পত্রিকায় সু-সাহাত্যিক শ্রীযুন্ত যোগেশ- চন্দ্র বাগল প্রদত্ত বিবরণ*নিম্নে উদ্ধৃত কাঁরতেছি। উহা হইতে আমার পিতার বিদ্যোৎসাঁহতার পাঁরচয় মাঁলবে £_

“উনাবংশ শতাব্দীর আরম্ভে কাঁলকাতায় প্রথম ইংরাজণ শিক্ষার প্রবর্তন হয়। কিছ? সময়ের মধ্যে এই শিক্ষা বাংলাদেশের সুদূর পল্লশীতেও ছড়াইয়া পড়ে। সেকালে বিদ্যোৎসাহী লোকের বড় কটা অভাব ছিল না। তাঁহাদের চেষ্টায় গ্রামে পল্লীতে. ইংরাজী বাংলা 'বদ্যালয় প্রাতম্ঠিত হইয়াঁছল। আর একটি লক্ষ্য

করিবার বিষয় বাঁলকা "বদ্যালয়ও তখন নানাস্থানে স্থাঁপত হইয়়াছিল। আচার্ষ প্রাতিজ্ঞঠা কাঁরয়া সেখানকার বালক বালকাদের শিক্ষার সুবধা কারয়া দেন। “সংবাদ প্রভাকর' 'সাধ্‌রঞ্জন” হইতে এখানে যে সব অংশ উদ্ধৃত হইল তাহাতে সে যুগে বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রচারের উদ্যোগে আয়োজন সম্বন্ধে যথে্ট আভাস পাওয়া যাইবে ।» |

রাড়লি অণলে শিক্ষা বিস্তার [সংবাদ প্রভাকর, ১০ ফ্রেব্রআঁর, ১৮৫৮। ২৯ মাঘ, ১২৬৪] আমরা নিম্নস্থ পত্রখাঁন আত সমাদরপূর্ক প্রকটন কাঁরলাম।

শ্রীষন্ত বাবু হরিশ্চন্দ্র রায়চৌধুরী মহাশয় এবং অন্যান্য কাঁতিপয় মহোদয়গণের প্রযত্ে প্রোন্ত রাড়াল পল্লশতে গবনমেন্ট সাহায্যকৃত একাঁট স্বদেশীয় ভাষার বিদ্যালয় সংস্থাঁপত হয়, বিদ্যালয় প্রাতিজ্ঠত হওয়াবাধ বালকবালিকারা যথ্াঁবাঁধ- ক্রমে শিক্ষাপ্রাপ্ত হইয়া আসতেছে এবং স্াশিক্ষার প্রভাবে তাহারা স্ব স্ব পাঠিত বিষয়ে একপ্রকার ব্যুৎপন্নও হইয়াছে বটে, ফলতঃ আত অজ্পকালের মধ্যে এই রাড়ীল 'বিদ্যালয়স্থ ছান্রেরা যেরূপ কৃতকার্য হইয়াছে, অন্যত্র প্রায় সেরুপ শাঁনতে পাওয়া যায় না। বিগত পৌষ মাসে জিলা যশোহরের শ্রীযুন্ত কালেক্টর সাহেব তথা খদলনিয়ার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীযুক্ত বাব ঈশ্বরচন্দ্র মিত্র মহাশয় এবং অন্যান্য কতিপয় সদ্বিদ্যাশাল মহাত্রাগণ অন্র বিদ্যালয়ে শুভাগমন পরঃসর বালকবালিকা- কুলের পরাঁক্ষা গ্রহণে যথোঁচত সন্তোব প্রাপ্ত হইয়াছেন। এস্থলে বিদ্যালয়ের সমুনাতির বিস্তারিত বিবরণ কাঁরিতে হইলে এই বলা উচিত যে, বিদ্যালয়ের পশ্ডিত শ্রীধ্ন্ত মোহনলাল বিদ্যাবাগীঁশ মহাশয়ের সানয়মে শিক্ষাপ্রদান প্রস্তাঁবত বাবু হাঁরশ্ন্দ্র রায়চৌধুরী মহাশয়ের আবচাঁলত অধ্যবসায় এবং গাঢ়তর উৎসাহই তাহার প্রধান কারণ ।”

সংবাদ সাধ্রগন, ২৪শে মে, ১৮৫৮।১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১২৬%।

নিম্নস্থ বিদ্যালয় সম্বন্ধীয় বিষয়টি আত সমাদরপূর্বক প্রকটন করা গেল। দয়ালচাঁদ রায় মহাশয় গ্রহণ করিয়াঁছলেন, তাহাতে চাঁরজগম বালক ছান্বাত্ত প্রাপ্ত হইয়াছে। প্রথম শ্রেণীর ছান্ন হাঁরশ্চন্দ্র বসু, নবীনচন্দ্র ঘোষ কাঁলকাতাস্থ মেডিকেল কলেজে শতলচন্দ্র বসু, পরেশনাথ রায়, যশোহরস্থ ইংরাজী স্কুলে আগামী ১লা মার্চ হইতে প্রবিষ্ট অব্যাঘাতে চার বর্ষ পর্যন্ত ছান্রবৃত্ত সম্ভোগে বিদ্যানূশঈলন করিবেন। এই ছাত্গণের অবলাম্বিত অধ্যবসায় সৃমাঁধক ফলোপধায়ক দর্শনে অন্যান্য ছান্রগুণের আশালতার উদ্দীপকতা বিদ্যাভ্যাসে একাগ্রতা জন্মিয়াছে। অল্পবয়স্ক

. প্রথম পাঁরচ্ছেদ বীনা রটরনীর নান্রিটিরগার সরা রা রাররতা ধবদ্যাশিক্ষার একান্ত অনুরাগ সণ্টার, সুতরাং না হওয়ার গিবষয় কিঃ এত অম্পপ- কালের মধ্যে বিদ্যার্থগণের এতদনূর্প ফললাভ হইবেক ইহা মনোরথের অগোচর। বিদ্যালয় সংস্থাপনাবাঁধ দন গণনা কাঁরলে ইহার বয়ঃক্রম দুই বৎসর অতাত হয় নাই, তাহার তুলনা এরুপ হওয়া কেবল উপদেষ্টাগ্ণের সদপদেশ শিক্ষাপ্রণালীর সুকৌশলোর মাহাত্মই স্বীকার কারতে হইবে। সংস্কৃত কলেজের স্াশাক্ষত সুবিজ্ঞ শ্রীধুন্ত বাব মোহনলাল বিদ্যাবাগীশ শিক্ষাবধান কাঁরতেছেন। গবর্ণমেন্ট প্রদত্ত সম্পাদকীয় ভার শত্রীযুন্ত বাবু হরিশ্ন্দ্র রায়চৌধুরী মহাশয় গ্রহণ করিয়াছেন। তান পরম 'বদ্যোৎসাহা, বিশেষতঃ স্বদেশ ভাষায় অসাধারণ জ্ঞান লাভ করিয়াছেন, তান প্রত্যহ অন্ততঃ দুই ঘঁটকা পর্যন্ত প্রগাঢ় উৎসাহ সহকারে উপদেশ প্রদান কারয়া থাকেন। সদুপদেশ অমূল্য অসমদ্র-সম্ভূত রত্ব-স্বরূপ, যে প্রকার দিনকরের হয়, তদ্রুপ সৃমধূর উপদেশাবলী বালকগণের অন্তঃকরণে নীত হইয়া তাহাঁদগের জ্ঞানাভাব ওঁজ্জহল্য সম্পাদন করে। স্কুলের অবস্থা ক্লমে যেরূপ সমুন্নাতি হইতেছে তাহাতে তন্রত্য বালকবালকারা ভাষা শিক্ষা 'বদ্যাভ্যাস প্রভাত উত্তরোত্তর পারবার্ধত হইবেক। আমরা বোধ কার অব্যাঘাতে তিন চাঁর বংসর যথাবধানে শিক্ষাকার্য সুসম্পন্ন হইলে বিদ্যালয়ের অনেকাংশে শ্রীবৃদ্ধি হইবেক। বিগত ১০ই ফেরুআি তাঁরখে ডেপ্দাট ইনস্পেন্তীর প্রশংীঁসত বাবু বিদ্যালয়ে আগমন নিয়ামতরূপে পরীক্ষা গ্রহণে প্রাতিগমন কারতে করিতে ১২ই ফেব্রুআর তারিখে প্রধান ইনস্পেক্ঠার শ্রীধুন্ত মেং উডরো সাহেব মহোদয় বিদ্যালয়ে উপনীত হইয়া শিক্ষা সমাজের প্রচারত পদ্ধাতক্রমে বালক বালিকার প্রত্যেককে এক এক করিয়া পরাক্ষা লইয়া অতীব সন্তোষ জ্ঞাপন কারিয়াছেন। তদনন্তর সম্পাদকবাবুর যত্নাতিশয্যবশতঃ সাহেব এই পল্লীর অনাঁতদ্‌রবতর্ঁ কাটিপাড়াস্থ গ্রাম্য স্কুল সন্দর্শন করিতে গিয়া- ছিলেন, তথায় চতু্দকে মনোহর পুষ্পোদ্যান পাঁরশোভিত সুখসেব্য বায় সৌবত সুবিস্তৃত সুসাঁজ্জত রমণীয় 'বিদ্যামান্দর দর্শন যথা কথাণং ছান্রগণের-একজামিন কঁরিলেন। অতঃপর স্কুল সংস্থাপনকার শ্রীষুন্ত বাবু বংশীধর ঘোষ মহাশয়ের প্রযত্ন ক্রমে এই স্কুলাট গবনমেন্টের তত্বীবধারণে আনার প্রস্তাব হইয়াছে বাবু বার্ষক তিন শত টাকা চাঁদা দিতে সম্মত হইয়াছেন। প্রদেশের মধ্যে এস্থান িলিররালে রে রো রা রিয়া ভোরের হারা রহ ডর বিদ্যালয় স্কুল অথবা কলেজ সংস্থাপন অনায়াসে ব্যয় নিষ্পন্ন হইতে পারে, কিন্তু মনের অনৈক্যতা, ধনের উন্মস্ততা, স্ব স্ব স্বতল্তা প্রভীতি কারণে বিঘ্য চে এইক্ষণে গবর্নমেস্টের করবার বিতরিত হইলে স্কুলাট চিরস্থায়ী , প্রাড়ীল অঞ্চল হইতে এক বন্ধ; আমাকে জানাইয়াছেন, হারিশন্দর রায়চৌধ্বরী [ক বিনা সমাপ্ত লন এটি হইতে তাহা [বশ বুঝা যায়। হার ১৮৫৮ সন হইতে মাঝে মাঝে কলিকাতায় আসিয়া

১০ আত্মচারত

বাস কাঁরতেন। তখন 'তানি তাঁহার সহ্ধার্মণী ভুবনমোহনীকে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্বয়ং ভুবনমোহনধকে বাংলা পাঠ শিক্ষা কারতে সহায়তা কারিতেন। |

হারশন্দ্র প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়াঁট পরবতাঁকালে শুধু বাঁলকা "বিদ্যালয়ে পাঁরণত হইয়াছে। 'বদ্যালয়াট এখন একটি দ্বিতল গৃহে অবাস্থত। হরিরশ্চন্দ্রের সুযোগ্য পুত্র বশ্বাবশ্রুত আচার্য প্রফলল্লচন্দ্র রায় রাড়লি অঞ্চলে শিক্ষা প্রসারের জন্য বহন- সহম্্র টাকা দান কাঁরয়াছেন। এই টাকার উপস্বত্বের কতক অংশ বাঁলকাদের শিক্ষার জন্য ব্যায়ত হইয়া থাকে। বিদ্যালয়াট এখন আচার্য রায় মহাশয়ের মাতা ভূুবনমোহিনর নামে ।”

এই স্থলে গত ষাট বংসরে বাংলাদেশে যে সামাঁজক, অর্থনৌতিক রাজনৈতিক বি্লব ঘাঁটয়াছে, তাহার কিছ. পাঁরচয় দেওয়া বাঞ্চনীয়। এই ষাট বংসরের স্মৃতি আমার মনে জলন্ত আছে।

আমার পিতার বার্ধক ছয় হাজার টাকা আয়ের ভূ-সম্পার্ত ছিল। কিন্তু তাহার পর্বে দুই পুরুষে আমাদের পাঁরবার যে সম্পাত্ত ভোগ কাঁরয়াছেন, এই আয় তাহার তুলনায় সামান্য, কেননা আমার প্রাপতামহ পিতামহ উভয়েই বড় চাকার কারতেন। আমার 'পতা যে আতীরিন্ত সম্পাত্ত লাভ করেন, তাহার দস্টান্ত স্বরূপ বলা যায় যে, তাঁহার বিবাহের সময় আমার পিতামহ আমার মাতাকে প্রায় দশ হাজার টাকার অলঙ্কার যৌতুক দিয়াছিলেন। আমার পতার যে সব রুপার বাসন ছিল, তাহার মূল্যও কয়েক হাজার টাকা। আমার মনে পড়ে, আমার বাল্যকালে কয়েকজন 'বাশিম্ট আঁতাঁথকে একই সময় রূপার থালা, বাট ইত্যাঁদতে খাদ্য পারবেষণ করা হইয়াছিল। আমার 'িতা মোগল বাদশাহের আমলের সোনার মোহর সগর্বে আমাকে দেখাইতেন। আমার মাতার সম্মাতিক্রমে তাঁহার অলঙ্কারের কয়দংশ বিক্রয় কাঁরয়া অন্য লাভবান কারবারে লাগানো হয়। বস্তুতঃ, তাঁহার নামে একটি জমিদারও ক্লয় করা হয়। আমার পিতা অর্থনীতির মূল সত্রের সঙ্গে পারচিত ছিলেন। তিনি বাঁলতেন যে, অলগ্কারে টাকা আবদ্ধ রাখা নর্দধাদ্ধতার পাঁরচয়; কেননা, তাহাতে কোন লাভ হয় না; তাঁহার হাতে যথেন্ট নগদ অর্থও ছিল, সুতরাং তিনি লগ্ন কারবার করেন এবং কয়েক বৎসর পর্যন্ত তাহাতে বেশ লাভ হইয়াছিল। এঁ সময়ে অল্প আয়ের লোকদের পক্ষে টাকা খাটাইবার কোন 'নরাপদ উপায় ছিল না এবং চোর ডাকাতদের হাত হইতে চিরজীবনের সণ্চিত অর্থ 'িরুপে রক্ষা করা যায়, তাহা লোকের পক্ষে একটা বিষম উদ্বেগের বিষয় ছিল। এই কারণেই লোকে সাঁণ্চত অর্থ অলঙ্কার মাঁটর নিচে পঠতিয়া রাখিত।

সুতরাং যখন আমার পিতা নিজে একটি লোন আঁফমের কারবার খুললেন, তখন গ্রামবাসীরা নিজেদের স্থিত অর্থ উহাতে স্থায়ী জুদে সাগ্রহে জমা 'দতে লাগিল। আমার পিতার সততার খ্যাতি ছিল। এইজন্যও লোকে বিনা দ্বিধায় তাঁহার লোন আফিসে টাকা রাখতে লাঁগল। এইর্‌পে আমার পিতার হাতে নগদ

প্রথম পারচ্ছেদে . ১৯

টাকা আসিয়া পাঁড়ল। বহ; বংসর পরে এই ব্যবসায়ের জন্য আমার পিতা ক্ষতি- গ্রস্ত হইয়াছিলেন। আমার পিতার মোট বার্ধক আয় প্রায় দশ হাজার টাকা ছিল। এখনকার দিনে এই আয় সামান্য বোধ হইতে পারে, 'কন্তু সেকালে আয়েই তিনি রাজার হালে বাস কাঁরতেন। ইহার আরও কয়েকাঁট কারণ ছিল।

আমাদের পৈতৃক ভদ্রাসনকে কেন্দ্র কাঁরয়া যাঁদ চার মাইল ব্যাস লইয়া একট বৃত্ত আঁঙ্কত করা যায়, তবে আমাদের আঁধকাংশ ভূসম্পাত্ত উহারই মধ্যে পড়ে। ইহা হইতেই সহজে বুঝা যাইবে, আমার 'শপতা অম্টাদশ শতাব্দীর ইংরাজ স্কোয়ারদের মত বেশ সচ্ছলতা জাঁকজমকের সত্গে বাস কাঁরতে পারতেন; কারণ এই যে, তান তাঁহার 'নজের প্রজাদের মধ্যেই রাজত্ব কাঁরতেন। . আমাদের সদর দরজায় মোটা বাঁশের যণ্টিধারী ছয়জন পাইক বরকন্দাজ থাঁকত। আমার পিতা তাঁহার কাছারি বাড়ীতে সকাল ৮টা হইতে দ্বপ্রহর পর্যন্ত বাঁসতেন, এঁ কাছার যেন গমৃগম কারত। তাঁহার এক পা্বে মুন্সী অন্য পার্রে খাজাণ্চটী বাঁসত এবং নায়েব গোমস্তারা প্রজা খাতকদের নিকট হইতে খাজনা লইত বা লম্ন কারবারের টাকা আদায় কারিত।

কাছারিতে রীতিমত মামলা-মোকদ্দমার 'বচারও হইত। এই 'বচারপ্রণালঈ একট রুক্ষ হইলেও, উভয় পক্ষের 'নকট মোটামুটি সন্তোষজনক হইত কেননা, বাদী 'ববাদদের সাক্ষ্য বালতে গেলে প্রকাশ্যেই গ্রহণ করা হইত বিবাদের বিষয় সকলেরই প্রায় জানা থাকত এবং যাঁদ কেহ 'মথ্যা সাক্ষ্য দিয়া বিচারকের চোখে ধূলা 'দতে চেষ্টা কারত, তবে তাহা প্রায়ই ব্যর্থ হইত। আর এখনকার আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রীতি দেওয়ার যে প্রলোভন আছে, তখনকার দিনে তাহা ছিল না। অবশ্য, এই 'বচারপ্রণাল দোষমূস্ত ছিল না। কেননা, তখনকার দিনে গ্রামবাসী জাঁমদারের সংখ্যা বেশী ছিল না এবং এই গ্রামবাসী জমিদারের নিকটেও অনেক সময় ঘূষখোর অসাধু নায়েবদের মারফতই যাইতে হইত। বলা বাহুল্য বাদ বা বিবাদীকে আধকাংশক্ষেত্রেই নিজের সুবিধার জন্য এই নায়েবাঁদগকে ঘুষ দয়া সন্তুন্ট করতে হইত। তবে এঁ বচারপ্রণালীর একটা দক প্রশংসনীয় ছিল। রুক্ষ এবং সেকেলে “খারাপ” প্রথায় সাবচার (বা আবচার) করা হইত, কিন্তু তাহাতে অযথা বিলম্ব হইত না। আর ব্যাপারটা তখন তখনই শেষ হইয়া যাইত, তাহা লইয়া বেশী দূর টানাহেচড়া কারতে হইত না; অন্য একটি অধ্যায়ে আম বিষয় বিস্তৃতভাবে আলোচনা করিয়াছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ,

পলাতক” জামদার__পরিত্যন্ত গ্রাম_জলাভাব- গ্রামগাঁল কলেরা ম্যালোরয়ার জন্মস্থান

সেকালে আঁধকাংশ জামদারই আপন আপন প্রজাদের মধ্যে বাস করিতেন। যাঁদও তাঁহারা কখন কখন অত্যাচার কাঁরতেন, তাহা হইলেও তাঁহাদের এই একটা গুণ ছিল যে, তাঁহারা প্রজাদের নিকট হইতে যাহা জোর জবরদাঁস্ত কাঁরয়া আদায় কাঁরতেন, তাহা প্রজাদের মধ্যেই ব্যয় কারতেন, সুতরাং এঁ অর্থ অন্য দিক দিয়া প্রজাদের ঘরেই যাইত। কাঁলদাস তাঁহার রঘুবংশে খুব অল্প কথায় এই ভাবাঁট ব্যস্ত কারয়াছেন-__

প্রজানামেবভূত্যর্থং তাভ্যো বলিমগ্রহীৎ। সহম্রগুণমূতস্রম্ট; মাদত্তে রসং রাঁঝঃ॥

প্রজাদের মঙ্গলের জন্যই তিনি তাহাদের 'ন্কট কর গ্রহণ কাঁরতেন- রাঁব যেমন পৃঁথবী হইতে রস গ্রহণ করে, তাহা সহস্র গুণে ফিরাইয়া দিবার জন্য (বৃষ্টি প্রীত রুপে)।

১৮৬০ খশষ্টাব্দের পর হইতেই জমিদারদের “কাঁলকাতা প্রবাস” আরম্ভ হয় এবং বর্তমানে ধনী সম্প্রদায়ের আঁধকাংশ লোকই কাঁলকাতার স্থায়ী বাঁসন্দা। ১৮৩০ খ্টম্টাব্দের মধ্যেই রংপুর, দিনাজপুর, রাজসাহাী, ফাঁরদপুর, বরিশাল নোয়াখালির কতকগুলি বড় জামদাঁর কলিকাতার ধনীদের হাতে যাইয়া পড়ে। সুতরাং ইহা আশ্চর্যের ?বষয় নহে যে, এীতিহাঁসক জেমস্‌ মিল 'বলাতের কমন্স সভায় সিলেক্ট কামাটর সম্মুখে ১৮৩১--৩২ খঃ সাক্ষ্যদানকালে নিম্নালাখত মন্তব্য প্রকাশ করেন,_

'জাঁমদারদের আঁধিকাংশই কি তাঁহাদের জামদারতে বাস করেন? আমার বিশ্বাস, জমিদারদের আঁধকাংশই জমিদারতে বাস করেন না, তাঁহারা কাকাতাবাসী ধনী লোক।

“সুতরাং জামদার বন্দোবস্তের দ্বারা একটি ভুস্বামী ভদ্র সম্প্রদায় সৃষ্টির যে চেম্টা হইয়াঁছল, তাহা ব্যর্থ হইয়াছে_আঁম তাহাই মনে কাঁর।

. যোগীশ সিংহ বালয়াছেন-“পূর্বে কারারুদ্ধ কারয়া খাজনা আদায়ের প্রথা ছল। নিলামের প্রথা তাহা অপেক্ষা কম কঠোর হইলেও ইহার ফলে প্রান “আভজাত সম্প্রদায়ের উপর কুষারাঘাত করা হইল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হইবার

দ্বিতীয় পারচ্ছেদ ১৩

২২ বৎসরের মধ্যে বাংলার এক-ততীয়াংশ এমন কি অর্ধেক জাঁমদাঁর নীলামের ফলে কাঁলকাতাবাসী ভূস্বামীদের হাতে পাঁড়ল।৮(৯)

এই নিন্দনীয় প্রথা দেশের যে কি ঘোর আঁনস্ট কাঁরয়াছে, তাহা বর্ণনা করা যায় না। ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে পুজ্কারণী খনন এবং বাঁধ বা রাস্তা নির্মাণ করা এদেশের চিরাচরিত প্রথা 'ছিল। বাঁকুড়া জেলায় পূর্বে পানীয় জল এবং সেচন- কার্ষের জন্য বড় বড় জলাধার খনন করা হইত। এখন সেগ্াঁলর কিরূপ দশা হইয়াছে, তাহা আম পরে দেখাইব। নিম্নবঙ্গেও যে এরুপ সুব্যবস্থা ছিল তাহার কথাই আম এখন বাঁলব। প্রাতঃস্মরণীয় রানী ভবানী তাঁহার বিস্তৃত জমদারতে অসংখ্য পুজ্কারণী খনন করান। ১৬শ ১৭শ শতাব্দীতে যে সমস্ত 'হন্দু সামন্তরাজগ্ণ মোগল প্রতাপ উপেক্ষা কাঁরয়া বাংলাদেশে প্রাধান্য স্থাপন করেন, তাঁহারা বহন সুবৃহৎ কেতকগাল বড় বড় হুদের মত) পনুচ্কারণী খনন করান। এগুলি এখনও আমাদের মনে প্রশংসার ভাব জাগ্রত করে। নিম্নবঙ্গে গাঞ্গেয় বদ্বীপে প্রথম উপনিবেশ স্থাপনকারী মুসলমান পীর গাজীগণ বিষয়ে পশ্চাৎপদ ছিলেন না। প্রধানতঃ, এই কারণেই হিন্দুদের মনে তাঁহাদের স্মৃতি অক্ষয় হইয়া আছে। তাহারা কেবল যে সব পীর গাজীর দরগায় ণসলি' দেয়, তাহা নহে, তাহাদের নামে বার্ষক মেলাও বসায়।

রাজা সাীতারাম রায়ের পজ্কারণন সম্বন্ধে ওয়েস্টল্যান্ড বলেন,-“১৭০ বৎসর পরেও উহাই জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ জলাধার। ইহার আয়তন উত্তর-দাক্ষিণে ৪৫০ গজ হইতে ৫০০ গজ এবং পূর্ব-পশ্চমে ১৫০ গজ হইতে ২০০ গজ। ইহাতে কোন সময়েই ১৮ ফুট হইতে ২০ ফুটের কম গভীর জল থাকে না। সাতারামের ইহাই সর্বপ্রধান কণীর্ত এবং তান একমান্র ইহার সঙ্গেই নিজের নাম--“রাম” যোগ কাঁরয়াছিলেন।”_ওয়েস্টল্যাণ্ড, “যশোহর”, ২৯ পঃ1(২)

(১) প্রথম প্রথম যে জেলায় জামার সেখানে উহা নিলাম হইত না, 'বোর্ড অব রেভোনউয়ের, 585 এই কারণে বহু জাল জয়াচ্টুরর অবসর ঘাটত এবং 'িিলামের কঠোরতা বৃদ্ধি পাইত। তখনকার “কলিকাতা গেজেটের” আিকাংশই নিলামের বিজ্ঞাপনে পূর্ণ থাঁকত। কখনও কখনও এজন্য আঁতীঁরন্ত পত্রও ছাপা হইত।- সিংহ,

আযানালস্‌, ফুটনোট, ২৭২ পও।

দাঁক্ষণ সাহাবাজপুর এবং হাতিয়াতে বহ্‌ পৃচ্কারণী আছে। গুলি নির্মাণ কারতে নিশ্চয়ই বহু অর্থ ব্যয় হইয়াছে। পৃত্কারণণগুির চাঁরাদকে সমুদ্রের লোনাজল প্রবেশ নিবারণ কারবার জন্য উচ্চ বাঁধ আছে ।--“বাখরগ্াঞ্জ”, ২২ পৃহ।

ছা হইতে আচ দর াচাইয়া নদ মুখের নিকটে একটি বৃহ প্রকার নির্মান কারবার জন্য কমলার নাম ' বিখ্যাত। পৃজ্কারণশীট এখন ধ্বংস হইয়া শিয়াছে। রা অবশেষ আছে তাহাতেই বুঝা যায়, জেলার মধ্যে উহাই সর্বাপেক্ষা বড় পৃঙ্কারণণ। দুর্গসাগর হইতেও উহা আয়তনে বড় ।-__“বাখরগঞ্জ”৮৭9৪ পও।

(২) বেভারেজ তাঁহার “বাখরগঞ্জ” গ্রন্থে এইরূপ বড় বড় পৃহ্কারণীর 'বিবরণ দিয়াছেন £__ এই পৃজ্কারণশ খনন কাঁরতে নয় লক্ষ টাকা বায় হইয়াছিল। এই পূজ্কীরণীতে এখন জল নাই। কু কমলার মহা বার হয নাই এই প্‌জ্করিশণর শদ্ক তলদেশে এখন প্রচুর টান টি ইহার চাঁরাদকের বাঁধের উপর তেশ্তুল অন্যান্য ফলবৃক্ষপূর্ণ, বাঁশঝাড় ঘেরা ৪9 3৫টি কৃষকের গৃহ দেখা যার। চারদিকের জলাজাম হইতে উধের্ব অবস্থিত এই সব রা একজন বিলপ্ত-্মৃতি বাঙালী রাজকুমারণর মহত অন্তঃকরণের দানেই

১৪ আত্মচারত

প্রাচীন জাঁমদারদের প্রাসাদোপম বড় বড় বাড়ী নির্মাণ কারতে নিপুণ রাজামিস্ত্রী স্থপাঁতদের অন্নসংস্থান হইত, স্থাপত্যাশিল্পেরও উন্নাত হইত। কিন্তু বড় বড় অভিজাত বংশের লোপ এবং প্রধানতঃ তাহাদের বংশধরদের গ্রাম ত্যাগের ফলে সমস্ত শিল্পীরা লুপ্তপ্রায় হইয়াছে। আঁধকাংশ প্রাচীন জমিদারদের সভায় সঙ্গীতিজ্ঞ ওস্তাদ থাকিতেন, ই'হারাও লোপ পাইতেছেন। পুরাতন পু্কারণণী- গুলি প্রায় ভরাট হইয়া গিয়াছে এবং স্থান ধান্যক্ষেত্রে পাঁরণত হইয়াছে। বংসরের মধ্যে মাস হইতে মাস পযন্ত গ্রামে জলাভাবে আত সাধারণ এবং কর্দমপূর্ণ ডোবার দ্বারা যে পানীয় জল সরবরাহ হয়, তাহা “গালত জঞ্জাল” অপেক্ষা কোন অংশে ভাল নহে এই সব স্থানে প্রাত বংসর কলেরা ম্যালোরয়াতে বহদলোকের মৃত্যু হয়। ঘন জঙ্গল ঝোপ ঝাড়ের দ্বারা রুদ্ধ-আলোক এই সব গ্রাম ম্যালেরিয়ার সৃম্টি করে। যাহারা পারে, তাহারা সপাঁরবারে গ্রাম ত্যাগ কাঁরয়া জীবকা অজ্ন করে, সুতরাং তাহারাও গ্রামত্যাগণ, ভদ্রলোকদের মধ্যে যাহারা অলস পরজনীবাঁ তাহারা এবং কৃষকগণই কেবল গ্রামে থাকে। গ্রামত্যাগন জাঁমদারগণ কলিকাতার চৌরঙ্গী অণ্লে বাসা বাঁধিয়া বর্তমান “সভ্য জীবনে'র আধ্ীনকতম অভ্যাসগ্ীলও গ্রহণ কাঁরয়াছেন।(৩) |

এই সব সভ্য জাঁমদারদের সুসজ্জত বৈঠকখানায় স্বদেশজাত আসবাব প্রায়ই দোঁখতে পংওয়া যায় না। তাঁহাদের “গ্যারেজে” “রোলস্‌ রয়েস” বা “ডজ” গাড়ী বিরাজ করে। আম যখন এই কয়েক পধান্ত 'াখতেছি, তখন আমার মনে পাঁড়তেছে, একখানি জাতীয়তাবাদী সংবাদপত্রের কথা, ইহার পুরা এক প্ষ্ঠায় মোটরগাড়ীর বিজ্ঞাপন থাকে-উহার শিরোনামায় লিখিত থাকে_বলাস

আজ তাহাদের এই সুখ-এশবর্য!” কর্নাট অণ্চলে জমিদারদের খাঁনত পূচ্কারণীসমূহের উল্লেখ করিয়া বার্কও উচ্চ প্রশংসা কারয়াহিলেন।__“বাখরগঞ্জ”, ৭৫--৭৬ প্‌ঃ।

(৩) ১৯৮৫৪ খ্াীষ্টাব্দে অযোধ্যা ব্রিটিশ আঁধকারভুস্ত হয়। ইতিমধ্যেই গ্রামত্যাগশ জমিদার দল সেখানে দেখা দিয়াছে

“তালুকদারেরা প্রজাদের জ্যেষ্ঠভ্রাতার মত, এই কথার এখন মূল্য আছে? আম বাঁলতে বাধ্য যে, আমরা কোন কোন বয়স্ক প্রজাকে দেখিলাম, যাহারা সেকালের কথা এখনও স্মরণ করে। তখন তাহারা তালুকদারের আশ্রয়ে বাস কারত। এই তালুকদারেরা জামদারতেই বাস কাঁরিত। তাহাদের চক্ষদ্ব-কর্ণ সর্বদা সজাগ থাকিত এবং নিজেরা ব্যতাঁত অন্য কাহাকেও প্রজাদের উপর অত্যাচার, উৎপড়ন কারিতে দিত না। কিন্তু তাহারা গত বংসরের মধ্যে লক্ষেএী শহরে বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করিয়া বাস করিতেছে, আর নায়েব গোমস্তা? প্রীতি অধস্তন কর্মচারখরা তাহাদের জমিদার চালাইতেছে।_গোইন, “ইন্ডিয়ান পাঁলটিক্স_-২৬২-৬৩ পঃ।

প্রাসদ্খ ওপন্যাঁসক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁহার “পল্লগসমাজে” বর্তমানকালের ভাব তাঁহার অননুকরণীয় ভাষা ভাবের দ্বারা আঁঙ্কত করিয়াছেন। |

আর একখানি সদ্য প্রকাঁশত উপন্যাসে দোবদযুংলেখা”- প্রফল্ল্লকুমার সরকার), বাংলার পল্লথর 'ভদ্রলোক' অধিবাসীদের গভীর অধঃপতন হইয়াছে, নিম্ন শ্রেণীর লোকদের অবস্থার উন্নীত কারবার চেষ্টা তাহারা কিরুপে প্রাণপণে প্রাতরোধ করে, এমন কি পূচ্কারণণ-সংস্কার পর্যন্ত কাঁরতে দেয় না, এই সব কথা চিত্রিত হইয়াছে। এখানে নূতন ভাব আদর্শ লইয়া একজন সংস্কারপ্রয়াসী 'শাক্ষিত যুবক আসিয়াছেন, কিন্তু গ্রামবাসণ গোড়ার দল তাঁহাকে শৈষ পর্যন্ত গ্রাম হইতে বিতাড়িত করিল। | |

দ্বিতীয় পাঁরচ্ছেদ ১৫

এশ্বর্ষের আধার।” এই বিজ্ঞাপন আমাদের পাশ্চাত্য ভাবাপন্ন জামদার ব্যারস্টারদের মন প্রলুব্ধ করে।

বড় বড় ইংরাজ বাঁণক অথবা মাড়োয়ারী বাঁণকেরা এই সব বিলাস ভোগ করে বটে, কিন্তু তাহারা ব্যবসায়ী লোক। হয়ত &।৭টা জুট মিলের দালাল বা ম্যানোঁজং এজেন্টরূপে তাহাঁদগকে বজবজ হইতে কাঁকনাড়া পর্যন্ত দৌড়াইতে হয়। সুতরাং তাহাদের দৌনক কার্ষের জন্য তাহাঁদগকে দুই একখান মোটর গাড়ী রাখতে হয়।(8) তাহারা যাহা ব্যয় করে, তাহা অপেক্ষা শত গুণ বা সহম্র গুণ অর্থ অজর্ন করে। এবং বহন্ক্ষেত্রে তাহারা প্রকৃতই ধনোৎপাদক। কিন্তু আমাদের পাশ্চাত্যভাবাপন্ন জমিদারগণ বা বারের বড় ব্যারস্টারেরা পরজীবী মান্ত। তাহারা দেশের ধন এক পয়সাও বাঁদ্ধ করে না, উপরন্তু দেশের কৃষকদের শোঁণততুল্য অর্থ শোষণ কারয়া বাহিরে চালান দিবার তাহারাই প্রধান যল্রস্বর্প হইয়া দাঁড়াইয়াছে।

লালত মাধব সেনগুপ্ত, এম. এ. ১৯৩০ সালের ৬ই জুলাইয়ের 'আযাড্ভ্যাল্স পত্রে এই “পারত্যন্ত গ্রাম” সম্বন্ধে 'লীখয়াছেন £_

“যদ কেহ বাংলার পল্লীতে গিয়া দুঁদন থাকেন, 'তানই পল্লীবাসীদের জশবন- যাত্রার প্রণালী দেখিয়া স্তাম্ভত হইবেন। বস্তুতঃ, এখন পল্লীজীবনের প্রধান লক্ষণই হইতেছে আলস্য। কোন গ্রামবাসী দিনের আঁধকাংশ সময় বন্ধৃবান্ধবদের সঙ্গে বাঁসয়া গল্পগুজব করিতেছে, দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। এমন 'ি ফসলের সময়েও তাহাকে তেমন উৎসাহ দেখা যায় না। সে তাহার 'িতৃপপিতামহের চাষের প্রণালী যন্মচালিতবং অবলম্বন করে এবং ফসলের সময় গেলেই, আবার পূর্ববৎ আলস্যে কাল যাপন করে। বংসরের পর বংসর পুতুলের মত যেভাবে সে চাষ কাঁরয়া আসিতেছে, সে চিন্তাও করে না- তাহা অপেক্ষা কোন উন্নততর প্রণালী অবলম্বন করা যায় কি না।

পাস

বাতিগাজিলা বার্ড এণ্ড কোংর কর্তা ছিলেন এবং কোম্পানি পাটানি দিল নি রিনা জানি “যাহারা আজকাল মোটর গাড়ীতে ভ্রমণ করে, তাহাদের মধ্যে শতকরা দশজনও ভাঁবষ্যতের

8 57--1৮ ইনি বর্তমান যুগের 'বিলাসিতার তীব্র সমালোচক। পাঁচ বৎসর পূর্বে বান নামক স্থানে তান বলেন, - “যাঁদ ব্যান্তগত সম্পাত্ত না থাকে, তবে একজন কাউীস্টি কোর্ট জজেরও মোটর গাড়ী রাখবার অধিকার নাই, কেননা কেবল মাত্র তাঁহার বেতন (বার্ধক ১৫০০ পাউন্ড ) মোটর রাখবার পক্ষে যথেষ্ট নহে।”

জজ ব্রফোর্ড আরও বলেন, “আজকাল চাঁরাদকেই আমতব্যায়তার প্রভাব, যে সমস্ত লোক আদালতে আসে তাহারা নিজেদের ক্ষমতার আতিরিন্ত বিলাসে জীবন যাপন করে। লোকে ধারে

করে এবং দেনায় মামলায় জীবন কাটায় ।”

একজন শ্রামক বালিকা শালং ১১ পেন্স মূল্যের দস্তানা পারবে, ইহা তানি কলঙ্কের ব্যাপার মনে করেন। এবং যখন ভান শুনলেন যে, তাঁহার জুতার মল্য পাউন্ড, হ্যাট ১৩ শি. ১১ পে. এবং কোট গান, তানি সত্যই মর্মহত হইলেন। লশ্ডের মত ধন দেশের পক্ষে যাঁদ এই সব মন্তব্য প্রয়োগ করা হয়, তবে বালিতে হয়, আমাদের দেশে যাহারা মোটের গাড়ী ব্যবহার করে, তাহাদের মধ্যে হাজারকরা একজনেরও এরূপ [বিলাসিতা কারবার আঁধকার নাই।

১৬ আত্মচরিত

সুতরাং গ্রামের প্রধান লক্ষণই হইল আলস্য। আর আলস্যের স্বাভাবিক পাঁরণাম দারদ্য, দারিদ্রের পারণামে কলহ, মামলা-মোকদ্দমা এবং অন্যান্য. আভযোগ. আঁসম়া উপস্থিত হয়। মানুষ সব সময়েই অলস হইয়া থাকতে পারে না, তাহাকে কিছ-না-কিছু কাঁরতেই হইবে। অলস মাঁস্তন্কেই যত রকমের শয়তান বুদ্ধির উদয় হয়। কাজেই পল্লশবাসীরা পরস্পরের সঙ্গে কলহ করে, একের বিরুদ্ধে অন্যকে প্ররোচিত করে এবং যাহারা তাহাদের আন্তারক উপকার কাঁরিতে চেস্টা করে, তাহাদেরই আনষ্ট করে। এইরূপে তাহারা তাহাদের সময় অর্থের অপব্যয় করে, যাঁদ সেগ্যাল যথার্থ কাজে লাগানো যাইত, তবে পল্লীর প্রাণ- শোষণকারাী বহু? সামাজিক আর্ক ব্যাধি দূর হইতে পাঁরিত।”

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

গ্রামে শিক্ষালাভ-_কাঁলকাতায় গ্রমন- কাঁলকাতা-অতশত বর্তমান

আমার নিজের জশবনের কথা আবার বাঁলতে আরম্ভ কারব। আমার দুই জ্যেম্টভ্রাতা এবং আমি আমার পিতার প্রতিষ্ঠিত গ্রাম্যস্কুলে বাল্য শিক্ষালাভ কাঁর। আমার জ্যেষ্তভ্রাতা যখন মাইনর বাঁ্ত পরাক্ষায় পাস করেন, তখন এমন এক অবস্থার সৃন্টি হইল যে আমার পিতার ভাবষ্যং জীবনের গাঁতি একেবারে পাঁরবার্তিত হইয়া গেল। সে কথা পরে বালব। আমার নয় বংসর বয়স পর্যন্ত আম গ্রাম্য ণবদ্যালয়ে 'শিক্ষালাভ করি।

১৮৭০ খ্রীষ্টাব্দে আমি প্রথম কলিকাতায় আঁস। তখন আমার মনে যে ভার জাঁগয়াঁছল, তাহার স্মৃতি এখনও আমার মনে স্পম্ট হইয়া আছে। আমার পিতা ঝামাপুকুর লেন এবং রাজা দিগম্বর 'মত্রের বাড়ীর াবপরীত 1দকে বাড়ী নেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদ ব্রাহনসমাজ হইতে 'বাচ্ছন্ন হইয়া কেশবচন্দ্র সেন তখন সবেমাত্র তাঁহার নূতন ব্রাহয়সমাজ প্রাতিষ্ঠা কাঁরয়াছেন। পিতার বাসা এঁ সমাজের খুব নিকটে ছিল। 'দগম্বর 'ন্রের আতাঁথপরায়ণতা বিখ্যাত ছিল। তাঁহার বন্ধুরা সর্বদাই সেখানে সাদরে অভ্যার্থত হইতেন এবং কয়েক বৎসর পর্যন্ত আমার পিতা প্রায়ই